কিশোরগঞ্জে পেট্রোল ঢেলে হাফেজ আবদুর রহিমের গায়ে আগুন; নেপথ্যে তাবলীগ দ্বন্দ্ব

কিশোরগঞ্জে পেট্রোল ঢেলে হাফেজ আবদুর রহিমের গায়ে আগুন; নেপথ্যে তাবলীগ দ্বন্দ্ব

পাথেয় রিপোর্ট : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তারারির নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে কিশোরগঞ্জ তাবলীগ মারকাজের দায়িত্বশীল হাফেজ আবদুর রহিম রাজন (২৮) নামে এক যুবককে শরীরে পেট্রল দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

রোববার রাতে উপজেলা সদরে সাব রেজিষ্টারের কার্যালয় সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। রাজন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে গত রবিবার আব্দুর রহিম রাজনের নিজ এলাকার মসজিদে একটি তাবলীগ জামাত এলে মাওলানা যুবাইর পন্থী সোহেল আহমদ ও মাহমুদুল হাসান মসজিদে জামাতটিকে থাকতে বাঁধা দেয়। এসময় তাদের সাথে আব্দুর রহিমের কথা কাটাকাটি হয় এক পর্যায়ে তারা ব্যার্থ হয়ে আব্দুর রহিমের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

রাতে তারাবির নামাজ পড়ে ফেরার পথে আব্দুর রহিমের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।

এলাকাবাসী জানায়, রোববার রাতে কটিয়াদী বাজার দরগা জামে মসজিদ থেকে তারাবির নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাব-রেজিষ্টারের কার্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজন লোক পিছন দিক থেকে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। দ্রুত রাজনের শরীরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে চিৎকার করে দৌঁড়ে গিয়ে ড্রেনের ময়লা পানিতে গড়াগড়ি দিয়ে আগুন নিভাতে সক্ষম হয়।

রাজনের মামা মো. নয়ন মিয়া জানান, আগুনে তার শরীরের অনেক অংশ পুড়ে গেছে। এমন রমজান মাসে এই নৃসংতার বিচার চাই আমি।

স্থানীয়রা জানান, তবলীগ সংশ্লিষ্ট সমস্যায় সে মাওলানা সাদের অনুসারী হওয়াতে তার সাথে তাবলীগের মাওলানা যুবাইর পন্থী গ্রুপের দ্বন্দ্ব ছিল। তারই সুত্র ধরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

স্থানীয় এক ব্যাবসায়ি বলেন, ‘পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগানোর মত জঘন্য কাজ যারা বাংলাদেশে শুরু করেছে তাদের আদর্শের কেউ এমন কাজ করতে পারে। স্বাভাবিক কারো পক্ষে এমন অমানবিক কাজ করা সম্ভব নয়’।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ শামীম মিয়া জানান, রাজনের শরীরে পেট্রোল অথবা কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার শরীরের ২০ শতাংশের ও বেশি পুড়ে গেছে।

সোমবার এঘটনায় আব্দুর রহিমের মামা মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামী করে কাটিয়াদী থানায় মামলা দায়ের করেন।পরে কাটিয়াদী থানা পুলিশ অভিযুক্ত তাবলীগের মাওলানা যুবাইর গ্রুপের সোহেল ও মাহমুদুলকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

কটিয়াদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, রাজনের শরীরে আগুন দেয়ার কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গেই আমরা হাসপাতালে ছুটে যাই। রাতেই রাজনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সোহেল ও মাহমুদুল নামের দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাকি আসামীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, আগুনে দগ্ধ আবদুর রহিম রাজন উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ জালালপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার পুত্র।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *