১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১১ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

কুমিল্লায় ‘মডেল মসজিদ’ নির্মাণ কাজে অগ্রগতি নেই

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কুমিল্লায় মডেল মসজিদ নির্মাণকাজে তেমন অগ্রগতি নেই। এ প্রকল্পের আওতায় জেলার ১৮টি মসজিদের মধ্যে গত আড়াই বছরে মাত্র একটি মসজিদ হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য ১৭টির মধ্যে অধিকাংশেরই নির্মাণকাজের গতি শূন্য থেকে ২০ শতাংশের নিচে। কয়েকটি উপজেলায় দরপত্র হলেও কাজ শুরুর আগেই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে অর্থ সংকট, জমি অধিগ্রহণ না হওয়া, ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া, রড-সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর মূল্য ও শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়া, নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদারকে জমি বুঝিয়ে না দেওয়া এবং এসব কারণে ঠিকাদারের মধ্যে অনীহা সৃষ্টি হওয়ায় মসজিদ নির্মাণের কাজ থমকে আছে। এতে দরপত্র আহ্বানকারী ও তদারকি প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগও পড়েছে বিপাকে। এসব মসজিদ নির্মাণকাজ কবে নাগাদ শেষ হবে তা দায়িত্বশীলদের কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। জেলা গণপূর্ত বিভাগ ও একাধিক ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

কুমিল্লা গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি উপজেলা সদরে প্রায় ৪৮ শতক জমির ওপর ১৭০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২০ ফুট প্রস্থের তিন তলা এবং জেলা সদরে চার তলা বিশিষ্ট একটিসহ কুমিল্লায় মোট ১৮টি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ২০১৯ সালের বিভিন্ন সময়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ভূমি অধিগ্রহণ মূল্য ছাড়া এসব মসজিদ নির্মাণকাজের ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৪ কোটি টাকা (জেলা সদরে সাড়ে ১৮ কোটি)।

গণপূর্ত বিভাগের চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মডেল মসজিদ নির্মাণকাজের অগ্রগতির প্রতিবেদনে জানা গেছে, কাজ শুরুর আড়াই বছর পর ২০২১ সালের ১০ জুন শুধু দাউদকান্দি মডেল মসজিদ নির্মাণ শেষে হস্তান্তর করা হয়। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় মেঘনা ও তিতাস উপজেলায় এখনো মসজিদ নির্মাণকাজ শুরু হয়নি, এখানে কাজের অগ্রগতি শূন্য শতাংশ।

এছাড়া জেলার বরুড়ায় কাজের গতি শূন্য, হোমনা ও মনোহরগঞ্জে কাজ হয়েছে মাত্র ১ শতাংশ, মুরাদনগরে ৩, দেবিদ্বারে ১০, সদর দক্ষিণ ও লাকসামে ১১ শতাংশ করে, আদর্শ সদর ও লালমাই ২১, জেলা সদরে ২৫, নাঙ্গলকোট ৩২, বুড়িচংয়ে ৪০, চৌদ্দগ্রাম ৪৫, ব্রাহ্মণপাড়ায় ৬৮ ও চান্দিনায় ৭২ শতাংশ কাজ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার জানান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও নানা সুযোগ-সুবিধা রেখে আধুনিক মানের অধিকাংশ মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে উপজেলা সদরের বাইরে।

এছাড়াও এ প্রকল্পের শুরুতে অনেক স্থানে জমি বুঝিয়ে না দিয়েই দরপত্র আহ্বান করা হয়। ফলে কেউ কেউ দরপত্র আহ্বানের দুই থেকে আড়াই বছর পর জমি বুঝে পেয়েছেন, কেউ এখনো পাননি। দীর্ঘ এ সময়ে নির্মাণসামগ্রীর দামও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। লোকসান গুনে তো কাজ করা যাবে না।

লালমাই উপজেলার মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের ফ্লোরের ঢালাই কাজ শেষ হয়নি। কিছু কাজ করে ফেলে রাখা হয়েছে। মালামাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভূঁইয়া বিল্ডার্সের ম্যানেজার সোহেল বলেন, ২০১৯ সালে তাদের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও জমি বুঝে না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে শিগ্গিরই পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।

গণপূর্ত বিভাগ-কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না করেই ২০১৯ সালে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তাই কিছু স্থানে মসজিদ নির্মাণে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির কারণে কিছু ঠিকাদার কাজে অনীহা প্রকাশ করছেন। এখন নতুন করে প্রতিটি মসজিদে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হলে অতিরিক্ত অনেক টাকা ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। তাই বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com