কুরবানির কোনও বিকল্প নেই; দেওবন্দের ঘোষণা
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পবিত্র ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ মুসলমানদের একটি দ্বীনি উৎসব। এই ঈদে যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক সৃষ্টি হয়।
কোভিড-১৯ এর বর্তমান পরিস্থিতিতে কুরবানি করা এড়ানো যাবে কি না তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে৷ ভারতে একটি মহল মুসলিমদের ধর্মীয় ব্যাপারে হস্তক্ষেপের জোরদার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে৷ ভারতে বহু জায়গায় মুসলিমদের পশু কুরবানি করতে নিষেধ করা হচ্ছে৷ কিন্তু উপমহাদেশের বিশ্বখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পশু কুরবানির বিকল্প নেই৷ হযরত ইব্রাহিম আ. পশু কুরবানির মাধ্যমে এই ইবাদত চালু করেছিলেন৷ শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর সময়েও তা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে৷ কোনও প্রেক্ষাপটেই একজন সামর্থ্যবান মুসলিম আল্লাহকে রাজি-খুশি করার উদ্দেশ্যে কুরবানি করা থেকে বিরত থাকতে পারেন না৷
এই একই সুর শোনা গেছে জামায়াতে ইসলামি হিন্দের শরীয়াহ কাউন্সিলের কণ্ঠেও৷ তাদের মত, লকডাউন বিধি মেনেই দেশের মুসলিমরা কুরবানি করুক৷ এতে কোনও অসুবিধা নেই৷ তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তারা নিতে পারে৷ এটা কোনও প্রথা নয়৷ আল্লাহর নির্দেশ৷ কোনও দানখয়রাত বা সমাজসেবা কুরবানির বিকল্প হতে পারে না বলে শরীয়াহ কাউন্সিল জানিয়েছে৷
জামায়াতে ইসলামির শরীয়াহ কাউন্সিল নির্দিষ্ট গাইডলাইনও দিয়েছে৷ রাস্তা, ফুটপাতের উপর কুরবানি করতে নিষেধ করা হয়েছে৷ স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে কাউন্সিল বিশেষ গুরুত্ব দিতে অনুরোধ জানিয়েছে৷ কুরবানির পর রক্ত, হাড় যেন যথাস্থানে ফেলা হয় সে পরামর্শও তারা দিয়েছে৷ কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে ঈদ-উল-ফিতরের নামায দেশের মুসলিমরা বাড়িতেই আদায় করেছিলেন৷ ঈদুল আজহাও বাড়িতেই পালন করার অনুরোধ জানিয়েছে শরীয়াহ কাউন্সিল৷
এদিকে দেওবন্দ আরও জানিয়েছে, কেউ যদি নির্দিষ্ট দিনে কুরবানি করতে সক্ষম না হন, তবে তাকে কুরবানির পশুর সমপরিমাণ অর্থ দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করতে হবে৷
সূত্র: পুবের কলম


