২৮শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৪শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম আহমদ আরবেরি হত্যায় ৩ শেতাঙ্গ ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আফ্রিকান আমেরিকান (কৃষ্ণাঙ্গ) আহমদ আরবেরিকে হত্যার দায়ে তিনজন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদ নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার এই রায় দেন জর্জিয়ার একটি আদালত।

সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন ট্র্যাভিস ম্যাকমাইকেল (৩৫), তার বাবা গ্রেগরি ম্যাকমাইকেল (৬৬) ও তাদের প্রতিবেশী উইলিয়াম ব্রায়ান (৫২)। তাদের মধ্যে ট্র্যাভিস ও গ্রেগরি প্যারোলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন আদালত। হত্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকায় এবং তদন্তকারীদের সহায়তা করার জন্য ব্রায়ান চাইলে প্যারোল পেতে পারে।

 

যা ঘটেছিলো

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ব্রান্সউইকে ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাভিস ও তার বাবা নিজ বাড়ি থেকে কয়েক মিনিট দূরের সড়কে গুলি করে হত্যা করে ২৫ বছর বয়সী আহমদ আরবেরিকে। এ সময় জগিং করতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন আহমদ আরবেরি।

বাড়ির সামনে দিয়ে তাকে দৌড়ে যেতে দেখে খুনি গ্রেগরি ছেলে ট্র্যাভিসকে সাথে নিয়ে গাড়িতে করে আরবেরিকে ধাওয়া করে এবং এক পর্যায়ে তাকে গুলি করে। তাদের প্রতিবেশি উইলিয়াম ব্রায়ানও আরেকটি গাড়ি নিয়ে তাদের পিছু পিছু যায় তাদেরকে সহযোগিতা করতে এবং এই ঘটনা ভিডিও করে। পরে সেটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। গত নভেম্বরে ওই তিন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে খুনিরা জানায়, আহমদ আরবেরিকে দৌড়াতে দেখে তারা ‘মনে করেছিলো’ সম্ভবত এই কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ কোথাও কোনো অপরাধ ঘটিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে। তাই তারা তাকে ধাওয়া করে এবং গুলি চালায়। তাদের এই ‘মনোভাবকে’ বিশেষজ্ঞরা সুস্পষ্ট বর্ণবাদ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।

রায় ঘোষণার সময় জর্জিয়া সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক টিমোথি ওয়ালসলে বলেন, ‘এটা ভিন্ন মাত্রার একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। তরুণ আহমদ আরবেরি দৌড়ানোর জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে হত্যার শিকার হয়েছেন। অভিযুক্তরা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন।’

আদালতে রায় ঘোষণার আগে আহমদ আরবেরির মা ওয়ান্ডা কুপার-জোনস সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা ভুল নয় বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্তরা বর্ণের পার্থক্যের জন্য তাদের সমাজে আমার ছেলেকে দেখতে চায়নি। তাই তাদের কঠোর সাজা প্রাপ্য।’

 

প্রতিক্রিয়া

আহমদ আরবেরি হত্যাকাণ্ডের এক বছরের মাথায় ২০২১ সালে ফ্রেব্রুয়ারিতে জর্জিয়ার গভর্ণর ‘নাগরিক গ্রেফতার আইন’ সংশোধনের ঘোষণা দেন। প্রায় দুই শত বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময় করা এই আইনে কোনো সন্দেহভাজনকে যেকোনো সাধারণ নাগরিক চাইলে গ্রেফতার করতে পারতেন। আহমেদ আরবেরির খুনিরা আদালতে এই আইনের দোহাই দিয়ে মুক্তির প্রচেষ্টা চালিয়ে ছিলো।

কৃষ্ণাঙ্গ আহমদ আরবেরিকে হত্যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এরই মাঝে এর ৩ মাস পর কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে (৪৬) এক শেতাঙ্গ পুলিশ গলা চেপে হত্যা করে।

এই হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ছড়ায়। গত বছরের জুনে ডেরেক চৌভিন নামে মার্কিন পুলিশের এক শ্বেতাঙ্গ কর্মকর্তাকে ফ্লয়েড হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। পরে তাকে সাড়ে ২২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com