কেমন রমজান চাই?

কেমন রমজান চাই?

মুহাম্মদ আইয়ূব ● শুরু হয়ে গেল পবিত্র রজব মাস। দেখতে দেখতে চলে আসবে শাবান। তারপরেই তো পবিত্র রমজানুল মোবারক। বেশিদিন কিন্তু নেই রমজানের। শুক্কুরে শুক্কুরে আষ্টদিন, তাই মাহে রমজানকে স্বাগত জানানোর জন্য এখন থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে আমাদের। প্রস্তুতিটা কিভাবে নেওয়া যায়?

ব্যবসায়ী ভাইয়েরা এখন থেকেই পাগল হয়ে যাবেন পণ্য টাল দিতে, গুদামজাত কর সামনে রমজান, লাভ আর লাভ! লাভের মাস আইসা পড়ছে, গলায় পাড়া দিয়া পয়সা নেওয়ার মাস, এগার মাসের লোকসান সহ লাভ উঠানোর মাস, পঁচা পন্য ডেলিভারি দেওয়ার মাস, ভেজাল দেওয়ার মাস, লাগ ভেলকি লাগ!!

ইয়াং জেনারেশন বিশেষকরে শহুরে যুবারা এখন থেকেই ডায়েট কন্ট্রোল শুরু করে দিবে কারণ সামনে রমজান স্বাগতম না জানালেই নয়! তা ডায়েট কন্ট্রোল কেন? বুঝলেন না ভাই? রমজান এলেই যে, খাবার এক লাফে তিন বেলা থেকে ছয় বেলায় যেয়ে ঠেকবে! হালে রোজা ভাঙা একটা ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে, যে যত রোজা ভাঙবে সে তত স্মার্ট। আর এক্ষেত্রে যুবাদের পিছনে ফেলার সাধ্য কার? তবে নানান চালক আর বুড়ারাও ডায়াবেটিসের অজুহাতে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন, হচ্ছেন। প্যাডেল যারা মারেন তাদের কষ্ট না হয় বুঝলাম কিন্তু অটোর কি হল রমজান আসতেই চার্জ শেষ?

রেস্তোরাঁ, হোটেল, টি স্টল, সিংগাড়া সমুচা স্টল মালিকেরা পর্দা করার রিহার্সেল শুরু করে দিবেন। মাহে রমজান বলে কথা, রমজানি পরিবেশ আমরা সৃষ্টি না করলে কারা করবে, ‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে’ কারণ লোক লজ্জার ভয় একদম ঝেটিয়ে বিদায় করলে কি হয়। শত হলেও তো মুসলমান? অবশ্য আজকাল অনেকে পর্দার ঝামেলায় জড়াতে চাননা পাছে রমজান মাস মুনাফেকী করলে আজাব কঠিন হওয়ার ভয় আছে।

পার্টিওয়ালাদের স্বাগতম জানানোর স্টাইলই আলাদা, অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জল বাতি এই বাংলাদেশ। তা জালানোর মোক্ষম সুযোগ রমজানুল মুবারকের ইফতার পার্টি রোজাদার বেরোজাদার (সংখ্যায় বেশী) হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান কেউ বাদ যাবে না, আর মেকাপওয়ালীরা ছাড়া তো আজকালকার ইফতার পার্টি পানসে। রমজানে যারা সিমাহীন ব্যস্ত তাদের সর্বাগ্রে থাকবেন হাফিজ সাহেবগণ। এমাসে যে, কুরআন শরিফ হাতে নেওয়ার সুযোগ হয়! আর টাকা পয়সা কামানোর একটা রাস্তাও মুটামুটি বের হয়, হে আল্লাহ এসব তোমারই দয়া আলহামদুলিল্লাহ।

মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল? ওরে সর্বনাশ, উনাদের কথা এত পিছনে আনার জন্য দুঃখিত। উনারা তো এত এডভান্স যে, দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পাড়ি জমান ইলমের প্রচার প্রসারের জন্য যাকাত আনতে, মাশাল্লাহ।

এহচ্ছে হাল জমানার রোজার প্রস্তুতি। কিন্তু মাহে রমজানকে স্বাগতম জানানোর প্রস্তুতিটা যদি উপরের চেয়ে একটু ভিন্নভাবে করা যায় তাহলে কেমন হয়। যেমন- মরে গেলেও রোজা অবস্থায় মরব। আর কবরে গিয়ে ইফতার করব। খাদ্যে ভেজাল দিবনা। পণ্যের দাম বাড়াব না। মেয়াদোত্তীর্ণ জিনিস বেঁচব না। কাউকে ঠকাব না। যত পারি ফ্রি দিব। দিনের বেলায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, সবধরণের স্টল বন্ধ রাখব, রাখে আল্লাহ মারে কে? এই বিশ্বাসের সহিত।

শুধু রমজান নয় সারা বছরই হোক কুরআন তেলাওয়াত এই নিলাম শপথ দেখি কে ভাঙে। এবার থেকে তারাবি বাবদ কোন টাকা গিলব না গিলব না গিলব না ইনশাআল্লাহ। যাকাত ফেতরার নামে মানুষের দ্বারে দ্বারে আর ঘুরব না, পারলে নিজ হাতে টাকা দিয়ে যাবে। এভাবে সবাই সবার স্থান হতে যদি সুন্নত তরিকায় রমজানুল মোবারককে স্বাগত জানাই, তাহলে বোধ হয় ‘আল্লাহুমা বারিক লানা ফী রজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রামাদান’ দুআটি আমাদের রমজানকে অর্থবহ করে তুলবে।

লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *