২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

কোরবানিতে পশুসংকট হবে না কোনদিন

  • আমিনুল ইসলাম কাসেমী

জমজমের পানির যেমন সংকট নেই। রাত-দিন তোলা হচ্ছে জমজম কূপের পানি। কূপের কাছে গেলে দেখা যায়। বড় মোটাপাইপ লাগানো। সবসময় পানি উঠানো হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ পান করছে। ড্রাম ভরে নিয়ে যাচ্ছে। পুরো পৃথিবীর মুসলিমদের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে পানি। তারপরেও পানির সংকট নেই। কূয়ার পানি যতটুকু ছিল।ততটুকু আছে।

এটা মহান আল্লাহর কুদরত। তাঁর শক্তি। তিনি বরকত দিয়ে রেখেছেন। কেয়ামত পর্যন্ত কোনদিন জমজম কূপের পানি ফুরাবে না। আরাফার ময়দানের কথা চিন্তা করুন। আগে কতজন মানুষ হজ করেছে? আর এখন কতজন করে? নবীজী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানায় সোয়ালক্ষ হাজি। এরপরে বেড়ে চলেছে হাজির সংখ্যা। বাংলাদেশ থেকে আগে ২০/২৫ হাজার হাজি হজব্রত পালন করতে যেত। এখন যায় সোয়ালক্ষেরও বেশি। এমনি ভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজির সংখ্যা বেড়ে সব মিলিয়ে পঁচিশ লক্ষ বা ত্রিশ লক্ষ হাজির উপস্থিতি হয়। কিন্তু আরাফার ময়দানের আয়তন কিন্তু বাড়েনি।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে যতটুকু ময়দান ছিল অদ্যবধি ময়দান ততটুকু। একটুও বাড়ানো হয়নি। কিন্তু হাজি সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণ। তাই বলে ময়দানে সংকট হয়নি। একথা কেউ বলতে পারবে না। ময়দানে জায়গা না পেয়ে হাজিগণ ময়দানের বাইরে অবস্থান নিয়েছে এরকম ইতিহাস নেই। কোনদিন এরকম ইতিহাস তৈরী হবে না। অর্থাৎ লোক যতই বৃদ্ধি হোক, আল্লাহর অসীম কুদরতে জায়গা হয়ে যাবে। এটা মহান আল্লাহর শক্তি। তাঁর অপরিসীম দয়া।

তদ্রুপ কোরবানি মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক মাধ্যম। এর দ্বারা মানুষ আল্লাহর সাথে প্রেম- ভালবাসা কায়েম করতে পারে। কেননা এই কোরবানির রক্ত-মাংস কিছুই আল্লাহর দরবারে পৌঁছে না। আল্লাহ তায়ালা মানুষের অন্তকরণের দিকে দৃষ্টি করেন। সে আসলে কী জন্য কোরবানি করে এটাই তিনি দেখেন।

কাজটা যেহেতু প্রেমাস্পদের ভালোবাসার নিমিত্তে। সেই রাজাধিরাজ মহানপ্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনে। সুতরাং তিনি তো সবকিছুর মালিক। পৃথিবীর সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা তিনি। তাহলে তাঁর ভালোবাসায় কোরবানি দিলে পশুসংকট হবে কেন? কোনদিন হবে না।

পশু সৃষ্টিকর্তা তিনি আল্লাহ। তাঁর নামে যখন কোরবানি হবে তাইতো কোনদিন সংকট হবে না। ইতোপুর্বে কোনদিন হয়নি। আর হবেও না। এটা মহান আল্লাহর অপরিসীম কুদরত।

আল্লাহ তায়ালার কী মেহেরবাণী। কী দয়া। এগুলো ভেবে কোন কুলকিনারা পাওয়া যাবে না। মানুষের মেধা এখানে অক্ষম।

কোরবানির মৌসুমে একশ্রেণীর মানুষ বয়ান-বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তাদের মধ্যে সংশয় তৈরী হয়। এত্ত প্রাণি নিধন হবে। তাহলে তো পশুসংকট দেখা দিবে? এত্ত প্রাণি জবাই করলে পরিবেশের ভারসাম্যতা হারাবে। নানান ধরনের মন্তব্য পেশ করেন। কিন্তু বন্ধু, একটু ভালো করে লক্ষ্য করুন। শুধু বাংলাদেশ নয়। বিশ্বব্যাপি ওইদিন আল্লাহর নামে পশু কোরবানি হয়। আজ পর্যন্ত কোনদিন পশুসংকট হয়নি। লক্ষ লক্ষ প্রাণি আল্লাহর নামে জবাই হওয়ার পরে কোনদিন পরিবেশের ভারসাম্যতা হারায়নি।

বিগত ৩০ জুন ‘প্রথম আলো’ পত্রিকার রিপোর্ট, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে। কোরবানির পশুসংকট নেই। বরং প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় পঁচিশলক্ষ পশু অতিরিক্ত রয়েছে। বর্তমানে মোট এককোটি উনিশ লক্ষ পশু মজুদ রয়েছে। তন্মধ্যে ৪৫ লক্ষ ৪৭ হাজার গরু-মহিষ, ৭৩ লক্ষ ৬৫ হাজার ছাগল-ভেড়া, ৪ হাজার ৭৬৫ টি উট ও দুম্বা বাজারে উঠার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

বিগত বছর আমাদের দেশে কোরবানি হয় ৯৫ লক্ষ পশু। সে হিসাব অনুযায়ী প্রায় পঁচিশ লক্ষ পশু কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত। এবারে চিন্তা করুন। আল্লাহ তায়ালার কী মেহেরবাণী। কী দয়া। এগুলো ভেবে কোন কুলকিনারা পাওয়া যাবে না। মানুষের মেধা এখানে অক্ষম। কোটি-কোটি পশু প্রতিবছর এক মৌসুমে জবাই হচ্ছে। আবার দৈনন্দিন হাট- বাজারে মানুষ পশুজবাই করে গোস্ত বিক্রি করছে।তারপরেও কিন্তু পশুসংকট নেই। বরং প্রয়োজনের থেকে আরো বৃদ্ধি হয়ে আছে।

আল্লাহ তায়ালার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে তিনি নেয়ামত বৃদ্ধি করেন। এটা তাঁর জ্বলন্ত প্রমাণ। প্রতিবছর মক্কায় হাজিগণ দমে শোকর (হজের কোরবানি) আদায় করেন। যেখানে লক্ষ লক্ষ প্রাণি আল্লাহর নামে জবাই হচ্ছে। আর সাধারণ মুসলমান ঈদুল আজহার দিনে লক্ষ লক্ষ পশু আল্লাহর নামে কোরবানি দিয়ে নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করছে। এর দ্বারা আল্লাহ নেয়ামত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আলহামদুল্লিাহ।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট

আরও পড়ুন: তাঁর বয়ানে প্রশমিত হয় হৃদয়ের যাতনা

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com