ক্যাসিনো সম্রাটের রিমান্ড শুনানি মঙ্গলবার

ক্যাসিনো সম্রাটের রিমান্ড শুনানি মঙ্গলবার

পাথেয় রিপোর্ট : অস্ত্র ও মাদক মামলায় গ্রেফতার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের (ক্যাসিনো সম্রাট) রিমান্ড আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বেলা ১১টার দিকে মামলাগুলোয় তাকে গ্রেফতার দেখানোসহ এ রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে।

আদালত সূত্র জানায়, প্রথমে রমনা থানার নির্ধারিত আমলি আদালতে সম্রাটকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের শুনানি হবে। আবেদন মঞ্জুর হলে অন্য আদালতে অনুষ্ঠিত হবে তার রিমান্ড আবেদনের শুনানি।

৭ অক্টোবর সম্রাটকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদনসহ প্রত্যেক মামলায় তার ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়, যার শুনানির জন্য ৯ অক্টোবর ধার্য ছিল। কিন্তু তার আগেই কারা কর্তৃপক্ষ সম্রাটকে অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করায় ওই শুনানি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর ধার্য করেন আদালত। গত ১২ অক্টোবর এ আসামিকে হাসপাতাল থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে।

তাই আজ সম্রাটকে গ্রেফতার ও রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে কারা সূত্র। সম্রাটের বিরুদ্ধে মাদক আইনের মামলাটিতে ঢাকা মহানগর যুবলীগের নেতা এনামুল হক আরমানও আসামি। এরই মধ্যে গত ৯ অক্টোবর তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ সম্রাটের সঙ্গে তারও রিমান্ড শুনানি হবে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় মোহামেডান, আরামবাগ, দিলকুশা, ওয়ান্ডারার্স, ভিক্টোরিয়া ও ফকিরেরপুল ইয়াংমেনস ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনোর ছড়াছড়ি। এর মধ্যে ইয়াংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্রাটের শিষ্য খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। বাকি পাঁচটি ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন সম্রাটের লোকজন।

সম্রাটের ক্যাসিনোর দেখাশোনা করতেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক ওরফে সাঈদ। তারা এক বছর আগে পল্টনের প্রীতম–জামান টাওয়ারে ক্যাসিনো চালু করেছিলেন। অভিযান শুরু হওয়ার পর মমিনুল সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান।

প্রসঙ্গত, ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে অপসারণের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি যুবলীগ নেতাদের বিষয়েও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, যুবলীগের এক নেতা অস্ত্র উঁচিয়ে চলে। আরেকজন প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে বেড়ায়।

এর পর গণমাধ্যমে যুবলীগ নেতাদের সংশ্লিষ্টতায় ঢাকার ৬০টি জায়গায় ক্যাসিনো পরিচালনার খবর প্রকাশ হয়। ১৮ নভেম্বর ফকিরাপুলের ইয়াংমেনস, ওয়ান্ডারার্স এবং গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ মদ ও ৪০ লাখের বেশি টাকা উদ্ধার করে র্যা ব। ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে ওই দিনই যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়, যিনি ইয়াংমেনস ক্লাবের সভাপতি ছিলেন।

পাশের ওয়ান্ডারার্স ক্লাব থেকেও জুয়ার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ক্লাব পরিচালনার নেতৃত্বে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার। এর পর ধানমণ্ডির কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালিয়েও ক্যাসিনো চালানোর প্রমাণ পায় র্যা ব। অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয় ক্লাবের সভাপতি কৃষক লীগের সহসভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে।

এর মধ্যে যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে ঠিকাদারি করা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতার করা হয় মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বিসিবির পরিচালক লোকমান ভূঁইয়াকে। দুবাই থেকে গ্রেফতার করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে। পরে গ্রেফতার করা হয়েছে ক্যাসিনো সম্রাট যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানকে ‘শুদ্ধি অভিযান’ নাম দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সন্ত্রাস, চাঁদবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের ভাসানচরে পাঠানো হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *