১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

খাদ্যসংস্থানের চেষ্টা নিজেদেরই করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান কভিড-১৯ মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মন্দা ও সম্ভাব্য খাদ্যসংকট থেকে পরিত্রাণ পেতে আবারও সবাইকে সাশ্রয়ী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পাশাপাশি সার্বিক উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী সোমবার ২৫টি জেলায় একযোগে ১০০টি সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

১০০ সেতু খুলে দেওয়াকে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে।

সেতুগুলো জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করবে। যেকোনো দুর্যোগে মানুষকে সাহায্য করা সহজ হবে, পণ্য পরিবহন ও বিপণন দ্রুত ও সহজ হবে। সেতুগুলো রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করেছে, কারণ এগুলো ৩৩টি রুটকে ফেরি পরিষেবা থেকে মুক্ত করেছে, যা সড়ক যোগাযোগকে অবাধ, দ্রুত, সহজ ও নিরাপদ করবে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আঘাত বাংলাদেশে আসবেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের প্রত্যেকটা এলাকায় আপনারা যত পারবেন খাদ্য উৎপাদন করবেন। তরিতরকারি যেটা পারেন উৎপাদন করবেন, হাঁস-মুরগি, ছাগল-ভেড়া যেটা পারেন সেটা পালন করতে হবে। অর্থাৎ নিজেদের খাদ্যসংস্থান নিজেদের করার চেষ্টা করতে হবে। কেননা বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে, এর ধাক্কা যেন বাংলাদেশকে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে।’

তিনি বলেন, ‘আঘাতটা আসবেই, কারণ বিশ্ব এখন একটি গ্লোবাল ভিলেজ। কাজেই কোনো জায়গায় একটা সমস্যা দেখা দিলে এর অভিঘাতটা বাংলাদেশেও এসে পড়ে। পাশাপাশি প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে খুবই সাশ্রয়ী হতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আবারও বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের যে ধারাটা আমরা সৃষ্টি করেছি সেটা ধরে রাখতে উৎপাদন বাড়ান। আর যেসব জায়গায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা গেছে, সেসব এলাকায় ঘরবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং মশারি টানিয়ে ঘুমাতে যান।’

৮৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলে দেওয়া ১০০ সেতুর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৬টি, সিলেট বিভাগে ১৭টি, বরিশাল বিভাগে ১৪টি, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে সাতটি করে, ময়মনসিংহ বিভাগে ছয়টি এবং রংপুর বিভাগে তিনটি রয়েছে।

সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সারা দেশে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে যোগাযোগ বাড়াতে তাঁর সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত প্রায় ১৪ বছরে আমরা বিভিন্ন মহাসড়কে এক লাখ ১৩ হাজার ৩০৩ মিটার সেতু নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ এবং ২১ হাজার ২৬৭ মিটার কালভার্ট নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ করেছি। এ ছাড়া বহু সড়ককে মহাসড়কে উন্নীত করেছি, যাতে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি।’ তিনি বলেন, তাঁর সরকার এমনভাবে সেতু, সড়ক ও মহাসড়কগুলো নির্মাণ করছে, যেন শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, আমরা এশিয়ান হাইওয়ে ও এশিয়ান রেলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারি।

এ সময় গণভবনের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সুনামগঞ্জ, বরিশাল, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলা প্রান্ত যুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী সেতুগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন। অনুষ্ঠানে সেতুর ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com