খৈয়ামি রুবাই

খৈয়ামি রুবাই

খৈয়ামি রুবাই

ভালোবাসা আমায় সবাই দেয়, দূর থেকে—

ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে
দু’কাপ চায়ের উষ্ণতা নিয়ে
গোলাপকাঠের দু’মুখো টেবিলে
শাল পিয়ালের সারির ফাঁকে
কৃষ্ণচূড়া-রাধাচূড়া গাছের ডালে
দোল খাওয়া মুগ্ধ হাসিতে
হাওয়ায় আলুলায়িত কুন্তল—
তৃষিত চোখের তারা বলে
উপভোগ কর পূর্ণিমার খৈয়ামি রুবাই—

ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে
সঁপে দেয়া হৃদয়ের গভীরে
অনন্য ভালোবাসার আদরে
অসংখ্য আলোর বিন্দুর আলাপনে
বুনো সুবাসের আচ্ছনতায়
বেতসপত্রের আড়াল থেকে—
ডাকছে ঝিঝি
সোনালি উজ্জ্বল হাসিতে
বিকশিত আকাশে
জমে থাকা মেঘ খন্ড বলে
উপভোগ কর পূর্ণিমার খৈয়ামি রুবাই—

ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে
নুয়ে পড়া সবুজ ঘাসের গালিচা
বৃষ্টিতে ভেজা বাঁশ পাতায় শুভ্রতা
মাধবীলতা, সন্ধাতারা
কিংবা সজন ডালের উদাশীনতা
মুঠো মুঠো গোলাপের সতেজতা—
ঝিরিঝিরি বৃষ্টির স্নিগ্ধতা
কাঙ্খিত পথ চেয়ে ক্লান্ত—
শাকচিলের কাকলির মাধুর্যতা বলে
উপভোগ কর পূর্ণিমার খৈয়ামি রুবাই—

ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে
এলোমেলো বাতাসের তালে
বয়ে চলছে জল একমনে
হাতে হাত রেখে বাঁধা ডিঙ্গি—
ভেসে চলে সুদূরে
অবলোকন করতে করতে
পৌঁছে যাওয়া মনের অনেক কাছাকাছি
দূরে সরে যাওয়া যন্ত্রগুলো—
উপহারে ভাসায় রঙিন খুশির ঝলক
ঝলমলে রাতে
ভেঙে যাওয়া দুটি হৃদয় একাত্ম হয়ে বলে
উপভোগ কর পূর্ণিমার খৈয়ামি রুবাই—

ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে
অচেনা নারীর শাড়ির গন্ধে—
ছড়ানো শিহরণ জাগানো প্রেমের স্বাদ
প্রাকৃতিক নৈশর্গিক চিত্তাকর্ষী
সোহাগ বিছানো রূপ লাবণ্য
আদর মাখা বাহুডোরে মনোহার গ্রাম
স্মরণ করে দেয়—
ভাটিদিহির প্রক্তনকে
বেড়াভাঙ্গা উদ্যমে কাঁপে জলতরঙ্গ
বুকের ব্যথাগুলো দুমড়ে মুচড়ে—
নিংড়ে চলে অসীম আকুলতায়
এদিকে অজানা প্রেম
আবিরের খেলায় মেতে ওঠে বলে
উপভোগ কর পূর্ণিমার খৈয়ামি রুবাই—

ভালোবাসা আমায় সবাই দেয়, দূর থেকে—

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯
ময়মনসিংহ। ব্রহ্মপুত্র নদী
আদিল মাহমুদ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *