২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

গবেষণা : ভারতে মুসলিম জনসংখ্যার হার বাড়ছে, কমছে হিন্দুদের

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারেত স্বাধীনতা-পরবর্তী ছয় দশকে মুসলমানদের জনসংখ্যার হার বেড়েছে, তবে হিন্দুদের জনসংখ্যার হার কিছুটা কমেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সুত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ভারত। এরপর ১৯৫১ সালে দেশটিতে প্রথম আদমশুমারি হয়। ওই সময় ভারতের মোট জনসংখ্যা ছিল ৩৬ কোটি ১০ লাখ। পরবর্তী ছয় দশকে ভারতের জনসংখ্যা তিন গুণের বেশি বেড়েছে। সবশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতের জনসংখ্যা ১২০ কোটির বেশি। ১৯৫১ সালে দেশটিতে হিন্দু ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা ছিল ৩০ কোটি ৪০ লাখ। ২০১১ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬ কোটি ৬০ লাখে। একই সময়ে ভারতে মুসলিমদের সংখ্যা সাড়ে ৩ কোটি থেকে বেড়ে ১৭ কোটি ছাড়িয়েছে। ছয় দশকে দেশটিতে খ্রিষ্টানদের সংখ্যা ৮০ লাখ থেকে বেড়ে প্রায় ৩ কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে। বর্তমানে ভারতের মোট জনসংখ্যার ৯৪ শতাংশ হিন্দু ও মুসলিম। দেশটিতে খ্রিষ্টান, শিখ, বৌদ্ধ, জৈনসহ অন্যান্য ধর্মের মানুষ রয়েছে মাত্র ৬ শতাংশ। ভারতের মোট জনসংখ্যার ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ হিন্দু। বিশ্বের মোট হিন্দুদের ৯৪ শতাংশ ভারতে বসবাস করে। দেশটির মোট জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ মুসলিম। ৩০ হাজার ভারতীয় কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে না। প্রধান ছয়টি ধর্মের বাইরে ভারতে আরও ৮৩টি ক্ষুদ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের সম্মিলিত সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ।

ভারতে এক দশক পরপর পরিচালিত আদমশুমারি ও জাতীয় পরিবারভিত্তিক স্বাস্থ্য জরিপের (এনএফএইচএস) ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানিয়েছে পিউ রিসার্চ। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ভারতের ধর্মভিত্তিক জনমিতি পরিবর্তনের ধারা ও এর পেছনের কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালে ভারতে মুসলিম নারীদের সন্তান জন্মহার ছিল বেশি, নারীপ্রতি ২ দশমিক ৬। ১৯৯২ সালে এটা ছিল আরও বেশি, ৪ দশমিক ৪। ২০১৫ সালে ভারতের হিন্দুধর্মাবলম্বীদের নারীপ্রতি সন্তান জন্মদান ছিল ২ দশমিক ১। ১৯৯২ সালে তা ছিল ৩ দশমিক ৩। ২০১৫ সালে ভারতীয় জৈন নারীদের সন্তান জন্মহার অন্যান্য ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় কম ছিল, নারীপ্রতি ১ দশমিক ২। বিগত দশকে ধর্মনির্বিশেষে ভারতীয় নারীদের মধ্যে সন্তান জন্ম দেয়ার প্রবণতা কমতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একজন ভারতীয় নারীর জীবদ্দশায় সন্তান নেয়ার গড় সংখ্যা নেমে এসেছে ২ দশমিক ২-এ। ১৯৯২ সালে তা ছিল ৩ দশমিক ৪। আর ১৯৫০ সালে ৫ দশমিক ৯। এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট হয়, ভারতে ধর্মীয় জনমিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে। সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নারীদের মধ্যে সন্তানের জন্মহার কমতির দিকে থাকলেও এখনো হিন্দু নারীদের তুলনায় সংখ্যালঘু মুসলিম নারীদের সন্তান জন্ম দেয়ার প্রবণতা বেশি। গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ভারতে সম্মিলিতভাবে নারীপ্রতি সন্তান জন্ম হয় ৩ দশমিক ৪। ২০১৫ সালে তা ২ দশমিক ২-এ নেমেছে।

এ বিষয়ে পিউ রিসার্চের ধর্মবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক স্টিফেনি ক্রামের বিবিসিকে বলেন, এখন অবধি ভারতীয় মুসলিম নারীদের সন্তান জন্ম দেয়ার গড়পড়তা প্রবণতা দেশটির অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নারীদের তুলনায় বেশি, যা ভারতের জনমিতিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। তবে অভিবাসন কিংবা ধর্মান্তর ভারতের ধর্মভিত্তিক জনমিতির পরিবর্তনে খুব একটা প্রভাব রাখতে পারেনি।

ভারতের ধর্মভিত্তিক জনমিতিক পরিবর্তনে বয়স অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। পিউ রিসার্চের গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছর ভারতীয় হিন্দুদের মধ্যমা বয়স ছিল ২৯ বছর। আর মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের যথাক্রমে ২৪ বছর ও ৩১ বছর। এর অর্থ হলো, ভারতীয় খ্রিষ্টান ও হিন্দুদের চেয়ে মুসলিমদের মধ্যে তরুণ-তরুণীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ফলে আগামী দিনগুলোয় তাদের সন্তান হলে, মুসলমান নারীরা সন্তান জন্ম দেয়ার সর্বোচ্চ সুবিধাজনক বয়সে অবস্থান করলে ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের জনমিতিক পরিবর্তন আরও বেগবান হতে পারে।

সূত্র : পিউ রিসার্চ সেন্টার, বিবিসি নিউজ।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com