গাজায় একদিনে দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত

গাজায় একদিনে দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় ২৪ ঘণ্টায় ২০১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৬৮ জন। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু।

শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজায় অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৫২ জন সৈন্য নিহত হয়েছে। গাজা সিটি এবং খান ইউনিসে হামাসের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। শহর দুটিতে হামাসের সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর তীব্র লড়াই চলছে।

এদিকে তবে হামাসকে নির্মূলের অজুহাতে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলের বোমা হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে শত শত ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুরা।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে চলা সংঘাতে গাজায় এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ২৫৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৫৩ হাজার ৬৮৮ জন। অপরদিকে পশ্চিম তীরে নিহত হয়েছে ৩০৩ জন এবং আহত হয়েছে আরও ৩ হাজার ৪৫০ জন। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী এবং শিশু।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের বরাত আল জাজিরা জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় হামাস ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১০০ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে নারী সাংবাদিকও রয়েছেন।

অপরদিকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় জাতিসংঘের এক কর্মীসহ তার পরিবারের ৭০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছে। গাজা সিটির কাছে জাতিসংঘের কর্মী ইসাম আল-মুঘরাবি (৫৬), তার স্ত্রী, পাঁচ সন্তানসহ তাদের আরও বেশ কয়েকজন স্বজন ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মানবিক যুদ্ধবিরতির জন্য তার দীর্ঘ দিনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, শুক্রবারের প্রস্তাবটি যুদ্ধবিরতিতে সহায়তা করবে। তবে গাজার জনগণের জন্য চলমান দুর্ভোগ থামাতে অবিলম্বে আরও অনেক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

ইসরায়েলের আকাশ ও স্থলপথে চালানো এই নৃশংস সামরিক অভিযানে গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার প্রায় ৮৫ শতাংশই বাস্তুচ্যুত। এমনকি প্রায় ৬ লাখ মানুষ চরম দুর্ভিক্ষে রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *