১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১০ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

গাজা উপত্যকার ৯৭ শতাংশ পানি দূষিত

গাজার ৯৭ শতাংশ পানি দূষিত
দীর্ঘ লাইন ধরেও মিলছে না বিশুদ্ধ পানি। ছবি: সংগৃহীত।

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বন্দি জীবনযাপন করছেন ফিলিস্তিনিরা। অনেক মৌলিক অধিকারই নেই সেখানকার বাসিন্দাদের। এর মধ্যে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ তথ্য। জানা গেছে, গাজার ৯৭ শতাংশ পানিই দূষিত, পানের অযোগ্য।

এর ফলে উপত্যকাটির ২০ লাখ মানুষ বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

গত সোমবার (১৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর ওয়াটার, এনভাইরনমেন্ট অ্যান্ড হেলথ এবং ইউরো-মেডিটেরিনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ‘গাজা ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি অবরোধ জারি থাকায় উপত্যকাটির পানি ব্যবস্থাপনার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। ফলে ভূখণ্ডটির ৯৭ শতাংশ পানিই এখন দূষিত পানিতে পরিণত হয়েছে।’

গাজার ৯৭ শতাংশ পানি দূষিত

দূষিত পানিতেই তেষ্টা মেটাচ্ছে গাজার মানুষ। ছবি: সংগ্রহীত।

এদিকে আলজাজিরা আরও জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিংয়ের কারণে গাজা পৌর কর্তৃপক্ষের কলগুলো দিনের লম্বা সময় ধরে অকার্যকরই থাকে। আবার এসব কল থেকে পানি আসলেও তা এতোটাই লবণাক্ত থাকে যে, সেই পানি কার্যত কেউই পান করতে পারেন না। আর তাই গাজার বহু বাসিন্দা বেসরকারি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

গাজার আল-শাতি শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নারী ফালিসতিন আবদেলকারিম আলজাজিরাকে জানান, তার এলাকার পানি পানের অযোগ্য। তিনি বলছেন, ‘পানির স্বাদে মনে হয় এটি সমুদ্র থেকে আনা হয়েছে। আমরা এই পানি পান করা, রান্না করা এমনকি গোসলের কাজেও ব্যবহার করতে পারি না।’

পাঁচ সন্তানের জননী এই নারী আরও বলেন, শরণার্থী শিবিরে আমাদের জীবন খুবই দুর্দশাপূর্ণ। বাধ্য হয়ে আমাদেরকে বিক্রেতাদের কাছ থেকে পানি কিনে ব্যবহার করতে হয়।’

গাজার উত্তরাঞ্চলীয় আল-শেখ রেদওয়ান এলকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সালিম আলজাজিরাকে জানান, বাড়ির আঙিনায় বাগান তৈরি করতে কয়েকবার চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু পানি খুব বেশি দূষিত হওয়ার কারণে তিনি বার বার ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি বলছেন, পানিতে লবণ ও ক্লোরাইডের পরিমাণ এতোটাই বেশি যে আমার সব গাছই শুকিয়ে মরে যায়।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com