গ্রেনেড হামলার পনের বছর
দ্রুত মামলার রায় কার্যকর করতে হবে
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বহুল আলোচিত ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ১৫ বছর পূর্ণ হল। ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চালানো ওই হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নিহত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভী রহমানসহ দলের ২৪ নেতাকর্মী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই হামলার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। কার্যকরে এখনো কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে এছাড়া তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদ- দেয়া হয়েছে। এই মামলায় জীবিত আসামি মোট ৪৯ জন কাউকেই খালাস দেয়া হয়নি পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন গতবছরের অক্টোবরে রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় ৩১ জন আদালতে হাজির ছিল বাকিরা পলাতক পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আমরা জানি, আহত হন কয়েকশ’। মূলত তখনকার প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাই ছিলেন গ্রেনেড হামলা পরিকল্পনাকারীদের টার্গেট। পৃথিবীতে এমন কলঙ্কজনক ঘটনার নজির খুব বেশি নেই বলেই আমাদের ধারণা। এতদিনে এ ঘৃণ্য ঘটনার নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয়নি। মূলত এর পেছনে রয়েছে নানা স্বার্থবাদী অপচিন্তা।
বিগত চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলে এ সংক্রান্ত মামলা ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা হয়েছে নানাভাবে। ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হয়েছে অনেক তথ্যও। জজ মিয়া নামের এক নিরীহ ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছ থেকে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করে ঘটনার প্রকৃত কুশীলবদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
আমরা মনে করি, ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থেকে থাকলে তার দায় সামগ্রিকভাবে সংশ্লিষ্ট দলের নয়, এ উপলব্ধিও থাকতে হবে সবার। দলের কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা মানে সমগ্র দলের সংশ্লিষ্টতা নয়- এ উপলব্ধি থেকে সংশ্লিষ্ট দলের হাইকমান্ডের উচিত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।
২১ আগস্টের হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত করা হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। এটা সত্য হয়ে থাকলে তা অবশ্যই ভাবনীয় বিষয়। রাজনীতি ভয়াবহভাবে দুর্বৃত্তায়িত হলেই এটি সম্ভব। গণতন্ত্রের স্বার্থেই রাজনীতি থেকে দূর করতে হবে অপশক্তি ও অপচিন্তা এবং দুর্বৃত্তায়ন।


