চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম নগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর সংযোগ সড়ক এবং এক্সেস সড়ক। ওই দুই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুটি ভেঙেচুরে চৌচির হয়ে আছে। সেই সঙ্গে বিশাল বিশাল গর্ত। এসব গর্তে যানবাহন পড়ে অহরহ দুর্ঘটনাও ঘটছে। আছে জোয়ারের পানি আর বৃষ্টি হলেই মারাত্মক জলাবদ্ধতা। বর্তমানে সড়ক দুটোর অবস্থা এখন এমনি পর্যায়ে পৌঁছেছে যানবাহন নয়, হেঁটে যাওয়াও দুরূহ হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শেষ নেই হাজারো যাত্রী, পথচারী, পরিবহনচালক শ্রমিকদের। তবে এই দুর্ভোগ কখন শেষ হবে তা নিয়ে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না। সরেজমিন এ চিত্র দেখা যায়। এর মধ্যে আগ্রাবাদ এক্সেস সড়ক দিয়ে হালিশহর বড়পুল যাওয়ার সময় সড়কেই (একাংশ বাম পাশে) তিনটি ‘সাঁকো’। এসব সাঁকো দিয়ে মানুষ ব্যবস্যপ্রতিষ্ঠানেসহ-স্থানীয়রা যাতায়াত করছেন। ওই সড়কটির এখন অবস্থা এতটাই করুণ হাল হয়েছে সেখানে কাদা-পানি আর কিছুদূর পর পর একমুখী যানচলাচল, সড়ক সংস্কার কাজের উপকরণ যত্রতত্র পড়ে থাকা আর ভাঙাচোরা সড়কের কারণে মানুষের হাঁটারও জো নেই। বন্দর সংযোগ সড়কে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় অনেক কাভার্ড ভ্যান, লরিসহ বিভিন্ন যানবাহন। দুপুর ১২টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ যানজট। বেশির ভাগই যানবাহন বন্দরের দিকে যাচ্ছে। যানজটে আটকে পড়া একটি কাভার্ড ভ্যানের চালক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এখন কী যানজট দেখছেন। সরাইপাড়া থেকে নিমতলা (প্রায় তিন কিলোমিটার ) যেতে ৫/৬ ঘণ্টাও লেগে যায়। দেখেন না এখানে কোথায় গাড়ি চালাব। সড়ক সংস্কার কাজের জন্য এক পাশের বেশির ভাগেই গাড়ি চলাচল বন্ধ। আর এক পাশ ভাঙাচোরা। একটু দেখেন রাস্তাটার অবস্থা।
এক্সেস সড়কের পুলিশ লাইন থেকে একটু আগে পুরোটায় একমুখি যানবাহন চলাচল করছে। এই কারণে সেখানে যানজট আর ভাঙাচোরা ‘কঙ্কাল’ সড়কে মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বড় সড় গর্তগুলোতে পড়ে গাড়ি চলে না চলে না অবস্থা। সরেজমিন দেখা যায়, এক্সেস সড়কে একেকটি গর্ত বিশাল। কার্পেটিং নেই, সড়কে ইটও দেখা যাচ্ছে না। আছে কাদা পানি। সড়কের চিহ্ন যেন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। সেখানে একেকটি গর্ত পাড়ি দিতে বেশ কিছু সময়ও লাগছে বিভিন্ন যানবাহনের। ওই সড়কের বেপারীপাড়া থেকে বড়পুলের দিকে যেতে বামপাশের পুরোটায় চলাচল বন্ধ। সেখানে সড়ক সংস্কারেরও কোনো কাজ হচ্ছে না। ডোবার মতো হয়ে গেছে সড়কের বড় একটা অংশ। লাক্সারি ফার্নিচারের সামনে কাঠের তৈরি একটি সাঁকো দেখা গেছে। ওই দোকানটি সড়কের পাশে। কিন্তু দোকানটিতে যাতায়াত সড়কের একাংশে তৈরি সাঁকো দিয়ে। এছাড়া ভিগার্স ফার্নিচার, পেরিস ফার্নিচারের সামনেও সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। আর সড়কের অপর প্রান্তে পুরোটাই কাঁচা সড়ক। এখানে সংস্কারকাজ চলছে। সেখানেই গাড়ি চলাচলসহ লোকজন হাঁটাচলা করছে। হাতিলের বিপরীত পাশের সড়কেও সংস্কার কাজ চলছে। সিলভার বেলস কিন্ডারগার্টেন ও বালিকা বিদ্যালয় গেটের সামনে সড়কে আবার একমুখী যান চলাচল।
এদিকে বন্দর সংযোগ সড়কের রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে নির্মাণ কাজের জন্য আনা বালুর স্তূপে একাকার হয়ে গেছে সড়কের বড় একটি অংশ। হালিশহর পুলিশ লেনের সামনে থেকে আগ্রাবাদের দিকে আসার পথে সড়কের বেশির ভাগ অংশ ভাঙা। কিছু কিছু এলাকায় সড়কে পিচ নেই। কার্পেটিং নেই। এমনকি ইটও নেই। কয়েকটি পয়েন্টে বিশাল বিশাল গর্তের কারণে একমুখি যানবাহন চলছে। অনেক সময় গাড়ির চাপ থাকলে তখন বাধ্য হয়ে গর্ত পাড়ি দিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাজেট অধিবেশনে বাজেট বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জাইকার অর্থায়নে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পোর্ট কানেকটিং রোড এবং আগ্রাবাদ এক্সেস রোডকে ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ করছে। বন্দরের দৈনিক ৭/৮ হাজার অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং প্রাইম মুভার প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করে। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক গাড়ি চলার মতো অবস্থা বা ধারণক্ষমতা এই সড়কের নেই। উভয়পার্শ্ব পরিকল্পিত ফুটপাত ও আরসিসি ড্রেনসহ ছয় লেনে উন্নীত করলে সড়কে সৃষ্ট যানজট সমস্যা নিরসন হবে এবং পথচারী স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে। প্রকল্প বাস্তবায়নকালীন নগরবাসীর সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
চসিক সূত্রে জানা যায়, আগামী বছরের মাঝামাঝিতে ওই দুটি সড়কের নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শেষ হবে।এক্সেস সড়কের পাশে বন্দর সংযোগ সড়ক। নিমতলা এলাকা দিয়ে ওই সড়কের প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ সড়ক ভাঙাচোরা। যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। এই কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্যে ভাঙা ও গর্তের কারণে কয়েকটি পয়েন্টে একমুখি যানবাহন চলছে। নিমতলা থেকে অলংকার পর্যন্ত ওই সড়ক ঘুরে দেখা যায়, কিছু এলাকা ধুলোবালিতে একাকার। আর ভাঙা স্থান এলে তা এড়িয়ে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করছেন চালকরা। ওই সড়কেও সংস্কার কাজ চলছে। নিমতলা বিশ্বরোড থেকে বড়পুল, বড়পুল চৌরাস্তার মোড়, হালিশহর সিটি কমার্স কলেজ গেটের সামনে সড়কের দুইপাশে, সরাইপাড়া একটি ব্যাংকের সামনে, সাগরিকা চৌরাস্তার মোড় এবং অলংকার এলাকায় বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক ভাঙা। এসব সড়কে মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রফিকুল ইসলাম বলেন, বন্দর সংযোগ সড়কে দুটি এবং এক্সেস সড়কে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। বর্তমানে সড়ক দুটির প্রস্থ ৫০ ফুট করে থাকলেও তা এখন ১০০ ফুট হচ্ছে। ছয় লেন হবে। এ ছাড়া সড়কের দুপাশে ৮ ফুট করে ১৬ ফুট ড্রেন হচ্ছে। এর ওপর পথচারীর হাঁটার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সবমিলে ১২০ ফুটের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সংস্কার ও নির্মাণ কাজের কারণে মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে তা ঠিক। কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে মেয়র মহোদয় দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, এক্সেস রোড ও বন্দর সংযোগ সড়ক দেখলে মনে হবে এটি যেন কোন ধ্বংসস্তূপ। সেখানে যথাযথভাবে গাড়ি চলতে পারছে না। গাড়ি চলাচল দূরে থাক। মানুষের হাঁটারও জায়গা নেই। নির্মাণকাজে ঠিকাদারদের অনেক গাফিলতি দেখা যাচ্ছে।


