২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৪শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

চট্টগ্রামে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৫৮ হাজার পশু

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আসন্ন ঈদুল আজহা ঘিরে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রায় ৫৮ হাজার পশু প্রস্তুত করেছেন স্থানীয় খামারিরা। উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় প্রায় ৩ শতাধিক ছোট বড় খামারে এসব গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের উপজেলাগুলোতেও পাঠানো হবে পশু।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, এবার উপজেলায় কোরবানির পশুর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪২ হাজার। তবে খামারি ও প্রান্তিক কৃষক মিলে এবার ৫৭ হাজার ৬৮০টি গরু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ৪০ হাজার ৪৫৭টি ষাঁড় ও বলদ, ১ হাজার ৩৪০টি গাভী, ৫ হাজার ৪৯২টি মহিষ, ৬ হাজার ৬৮৫টি ছাগল ও ৩ হাজার ৭০৬টি ভেড়া রয়েছে। পশু কেনাবেচার জন্য উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের ২ পৌরসভায় ৩১টি স্থায়ী অস্থায়ী বাজার রয়েছে।

জানা গেছে, প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার খামারি ও কৃষকরা গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত থাকেন। দেশে গত তিন বছর ভারত থেকে কোরবানির হাটে পশু কম আমদানি করায় দেশি গরুর চাহিদা ছিল বেশি। খামারিরা ভালো লাভও করেছিলেন। তাই এ বছরও কোরবানিকে সামনে রেখে দেশি গরু ও ছাগল মোটাতাজা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার খামারি ও কৃষকরা। এ বছরও ভারতীয় গরু না এলে বেশ লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তারা।

জানা যায়, উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মোট ৩১টি হাটে গবাদি পশু বেচাকেনা হয়। ৩১টি হাটের মধ্যে উপজেলার মিরসরাই বাজার, বড়তাকিয়া, মিঠাছড়া, জোরারগঞ্জ, বারইয়ারহাট, আবুতোরাব গরুর বাজারগুলো বড়। এসব বাজারে বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারিরা এসে গরু কিনে ফেনী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রি করেন। এছাড়া স্থানীয় বেপারিরা এলাকায় কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরু কিনে তা বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন।

বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৩ হাজার মানুষ (খামারি, কৃষক ও বেপারিরা) এ পেশায় রয়েছেন। খামারি ছাড়াও উপজেলার সাধারণ কৃষকরা বাড়তি ইনকামের জন্য বাড়িতে একটি দুইটি করে গরু মোটাতাজা করেন। ঈদের সময় আকার ভেদে গত বছর প্রতিটি গরু ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেন এখানকার গবাদিপশুর খামারি ও কৃষকরা।

ওয়াহেদপুর এলাকার প্রান্তিক খামারি আবুল কাশেম বলেন, এবার কোরবানির জন্য ১২টি গরু মোটাতাজা করেছি। তবে গত কয়েক মাস থেকে কয়েক দফা গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সে অনুযায়ী কোরবানির সময় পশুর উপযুক্ত দাম নিয়ে শংকায় রয়েছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাহমিনা আরজু বলেন, মিরসরাই উপজেলায় ৫৭ হাজার ৬৮০টি পশু মজুত রয়েছে। এসব কোরবানির পশু উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন হাটে বিক্রি হবে। তবে ভারত বা অন্য জেলা থেকে গরু না এলে খামারিরা লাভবান হবেন।

জানা গেছে, এবার কোরবানির জন্য সবচেয়ে বেশি গরু প্রস্তুত করেছে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের তাজপুরে অবস্থিত দিদার এগ্রো ফার্ম। দিদার এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারি নাসির উদ্দিন দিদার বলেন, কোরববারি জন্য আমার খামারে ছোট-বড় ১৫শ গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিক্রিও শুরু হয়েছে। অনেকে গরু পছন্দ করে বুকিং দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমার খামারে স্ব-পরিবারে এসে গরু পছন্দ করে গরু কেনার সুযোগ রয়েছে। এখন গরু ক্রয় করলেও ক্রেতা ঈদের আগের দিন ও ঈদের দিন গরু নিয়ে যেতে পারবে।

এছাড়া প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানির জন্য প্রায় ৫শ গরু প্রস্তুত রয়েছে নাহার ডেইরি ফার্মে। এবার প্রতিষ্ঠানটি প্রায় সাড়ে ৫ শতাধিক গরু কোরাবানির জন্য মোটাতাজা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনেও গরু বেচাকেনা করছে।

নাহার এগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রকিবুর রহমান টুটুল বলেন, আমার নিজস্ব ফার্মে জন্ম নেওয়া হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুগুলোকে নিয়মমাফিক নেপিয়ার ঘাস ছাড়াও পুষ্টিকর কাঁচামাল দিয়ে তৈরি ক্যাটেল ফিড খাওয়ানো হয়। এতে গরুগুলো রোগমুক্ত, স্বাস্থ্যবান ও প্রাণবন্ত হয়।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com