১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৯ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

চট্টগ্রাম নগরে সাজ সাজ রব

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম আসছেন আজ রবিবার। তাঁর আগমনে বন্দরনগরে সাজ সাজ রব। নেতাকর্মীদের প্রচার-প্রচারণায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আজ পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় তিনি কী বার্তা দেবেন তা শুনতে মুখিয়ে আছেন তাঁরা।

চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ দেওয়ার আগে পলোগ্রাউন্ডে চট্টগ্রামের ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা। এর মধ্যে ২৯টি প্রকল্প উদ্বোধন করা হবে।

এরই মধ্যে প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় উদ্যোগে নগরের পলোগ্রাউন্ডে জনসভার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনসভাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রায় দেড় শ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জরুরি চিকিৎসাসেবা, চসিকের উদ্যোগে খাবার পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া জনসভার শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সহযোগিতা, নানাবিধ দেখভালের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

দেশবাসীকে আওয়ামী লীগ কী বার্তা দিতে চায় পলোগ্রাউন্ড পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, ‘আমরা যেহেতু জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করেছি, জনগণের সামনে হাজির হওয়া আমাদের দায়িত্ব। দেশ আগে কোথায় ছিল, এখন কোথায় গেছে, আমরা জনগণের জন্য কী করেছি, দেশকে আমরা কোথায় নিয়ে যেতে চাই—এগুলো জনগণের সামনে উপস্থাপন করা জনগণের দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জনগণের নেত্রী, তিনি সেই কথাগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরবেন।’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘চট্টগ্রাম দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক দিক বিবেচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামনে জাতীয় নির্বাচন। সরকারবিরোধীরা অহেতুক নানা ইস্যু নিয়ে রাজনীতির মাঠ অস্থির করে তুলতে চাচ্ছে। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের গণমানুষের দল, গণতান্ত্রিক দল। আমরা তাদের কিছুতেই দেশকে অস্থিতিশীল করতে দিতে পারি না। পলোগ্রাউন্ডের জনসভা থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন।’

জনসভার স্থল পলোগ্রাউন্ডে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী দলীয় প্রতীক নৌকা আকৃতির তিন হাজার ৫২০ বর্গফুটের দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে, যাতে অন্তত ২০০ জনের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে উপলক্ষ করে চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক সাড়া জেগেছে, মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করছি পলোগ্রাউন্ডে আমাদের জনসভায় মাঠ পূর্ণ করে মাঠের বাইরে আরো ৮-১০ গুণ মানুষ হবে ইনশাআল্লাহ। বাস্তবিক অর্থে এটিই হবে।’

গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল পলোগ্রাউন্ড মাঠ পরিদর্শন শেষে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জনসভার সার্বিক প্রস্তুতি এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক বলে এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান।

হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব গতকালও (শুক্রবার) বলেছেন নয়াপল্টনের সামনেই তাঁদের জনসভা হবে। আসলে তাঁদের উদ্দেশ্য জনসভা করা নয়, দেশে একটা গণ্ডগোল লাগানো এবং দেশকে অস্থিতিশীল করা। তাঁদের আবেদন অনুযায়ী তাঁদের সুবিধার্থে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেখানে না গিয়ে নয়াপল্টনে জনসভা হবে এটি বারবার ঘোষণা দেওয়ার অর্থ হচ্ছে দেশে একটি গণ্ডগোল লাগানো, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই তাঁরা এটি বলছেন। সরকার দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য কাউকে অনুমতি ও লাইসেন্স দিতে পারে না। তাঁরা তো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন সেটি আমরা হতে দেব না।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড অনেক বড় মাঠ, এখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জনসভা করেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাও জনসভা করেছেন। কানায় কানায় পূর্ণ জনসভা হয়েছে। অতীতেও মাঠ ছাড়িয়ে মানুষ বাইরে দাঁড়িয়েছে। আমরা যেভাবে সাড়া দেখতে পাচ্ছি, এবার কিন্তু মাঠের তুলনায় ৮-১০ গুণ বেশি মানুষ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। কয়েক দিন আগে এখানে বিএনপি জনসভা করেছিল। মাঠের তিন ভাগের একভাগ পেছনে রেখে তারা মঞ্চ বানিয়েছিল। আর সামনে যে মাঠ ছিল তার অর্ধেক পূর্ণ হয়েছিল।’

এ সময় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, উত্তর জেলার সভাপতি এম এ সালাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com