পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হিজাব না পরায় ইরানে নৈতিকতা পুলিশের হাতে আটকের পর মাহসা আমিনি নামে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় দেশটির ৩০টিরও বেশি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ দমাতে দেশটির সরকার ইন্টারনেট সংযোগ ছিন্ন করেছে। গণগ্রেপ্তার কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অীভযোগ উঠেছে।
ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কমপক্ষে ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
তবে ইরানের হাজার হাজার মানুষের এই বিক্ষোভকে “বিশৃঙ্খলা ও অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।
তিনি বলেছেন, “ইরানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু কোনো বিশৃঙ্খলা করার অধিকার নেই। ইরানে যা হচ্ছে তা অগ্রহণযোগ্য। মাহসা আমিনির মৃত্যুর তদন্ত ইরান করবে।”
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি এখন নিউইয়র্কে রয়েছেন। সেখানেই বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
তবে ইরান হিউম্যান রাইটসের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেছেন, “ইরানের জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার এবং মানবিক মর্যাদা অর্জনের জন্য রাস্তায় নেমেছে। কিন্তু সরকার তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে গুলি চালিয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারেরও বেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে ইরানের নৈতিকতা পুলিশের (মোরালিটি পুলিশ) হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তেহরানে ২২ বছরের তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মাহসার জন্মস্থান কুর্দিস্তানের উত্তর প্রদেশে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। সেখান থেকে ক্রমে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে মাহসার মৃত্যু নিয়ে তেহরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, গত সপ্তাহের মঙ্গলবার গ্রেপ্তারের পর মাহসা “হৃদ্রোগে” আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে যান এবং শুক্রবার মারা যান।
তবে মাশার পরিবার বলেছে, তার আগে থেকে হৃদ্রোগ ছিল না।


