চামড়া সিন্ডিকেটের কাছে সরকার পরাজিত : চরমোনাই পীর
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম চরমোনাই পীর বলেছেন, চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। সিন্ডিকেট চক্রের কাছে মাথানত করে সরকার এ শিল্পকে শেষ করে দিয়েছে। সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পকে রক্ষায় সরকার ব্যর্থ।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চামড়ার দাম নির্ধারণ ও সংঘবদ্ধ চক্রের হাত থেকে চামড়াশিল্পকে রক্ষার দাবি জানিয়েছিলেন ইসলামপ্রিয় জনতা ও মাদরাসার শিক্ষকগণ। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে একটি চক্র চামড়া খাতে নৈরাজ্য করে যাচ্ছে। ফলে চামড়াশিল্প ও বহু দ্বীনি শিাপ্রতিষ্ঠান সেইসাথে দেশের এতিম ও গরিব জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রোববার এক বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে চামড়ার দাম নির্ধারণ ও সম্ভাবনাময় শিল্প খাত রক্ষা করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এবছরও মাদরাসাগুলো পানির দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে লক্ষ লক্ষ দ্বীনি শিাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চামড়াশিল্প রক্ষা করা গেলে দেশের অর্থনীতি ও দ্বীনি শিাপ্রতিষ্ঠান উভয়টি উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, এবার চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করেছে তা খুবই কম। এবছর গরুর চামড়া যে দামে বিক্রি হয়েছে বিগত ২০১৩ সালে একটি খাসির চামড়া এরচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার সিন্ডিকেটের কাছে মাথানত করেছে। চামড়া গরিব ও এতিমের হক্ব। এ শিল্প ধ্বংস করে গরিব ও মিসকিনদের হক্ব ধ্বংস করা হচ্ছে। চামড়া শিল্পকে ধ্বংস করতে সিন্ডিকেটভিত্তিক কাজ চলছে। এ সিন্ডিকেটকে ভেঙে দিতে হবে।
তিনি বলেন, চামড়ার মূল্য বর্গফুট হিসেবে নির্ধারণ করে দেয়া হলেও সেভাবে কেউ চামড়া কিনছে না। চামড়ার মূল্য বর্গফুট মূল্য হিসেবে বিক্রয় কার্যকর থাকলে চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট কাজ করতে পারবে না। তিনি চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
চরমোনাই পীর বলেন, ভারতের চামড়া শিল্পের বাজার বহুলাংশে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের চামড়ার উপর নির্ভরশীল। পাকিস্তান ভারতের সাথে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ায়, এ বছর ভারতকে বাংলাদেশের চামড়ার উপর অধিক নির্ভরশীল হতে হবে। ফলে বাজার চাহিদানুযায়ী চামড়ার দাম ভাল পাওয়ার কথা। কিন্তু এ বছর ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টো। এখন গরুর চামড়া ২০০ টাকায় নেমে এসেছে। এই প্রবণতা জনপ্রিয় বাংলাদেশের চামড়া শিল্প ধংস হবে এবং বিদেশী কোম্পানীর পোয়াবারো হবে। সিন্ডিকেট চক্রের কারণেই কোরবানির চামড়া নিয়ে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, চামড়া শিল্পের সাথে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীসমৃদ্ধ কওমী শিক্ষা ব্যবস্থাও জড়িত। চামড়া শিল্প ধ্বংস হলে এর প্রভাব কওমী মাদরাসাগুলোতেও পড়বে। গুটি কয়েক ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেটে কোরবানির কাঁচা চামড়া ব্যবসায় ধস নামছে। ভ্রান্ত নীতি-কৌশলের কারণে এবার চামড়া খাতে অনাকাংখিত বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। কাঁচা চামড়া নিয়ে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। দেশে উৎপাদিত কাঁচা চামড়া নিয়ে সৃষ্ট বিপর্যয়ে দেশবাসি হতাশ, হতবাক ও ক্ষুব্ধ।
চরমোনাই পীর বলেন, পাকা চামড়া রপ্তানির মাধ্যমে অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের যুক্তিতে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট কাঁচা চামড়া রাপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করিয়ে চামড়া ব্যবসার ওপর তাদের একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম করতে সক্ষম হয়। বাণিজ্যমন্ত্রীর ব্যর্থতার কারণে সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এর আগে পাটশিল্পকে শেষ করে দেয়া হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন গোশত বিতরণ : শনিবার বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কোরবানীর গোশত বিতরণ করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ গোশত বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দণি সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ, দক্ষিণ সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, সেক্রেটারী মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, আলহাজ্ব আব্দুল আউয়াল, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা আমিনুল ইসলাম ইউনুছ তালুকদার, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, শ্রমিকনেতা ওবায়দুল্লাহ বরকত, নকীব বিন হুসাইন।
গোশত বিতরণ কালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, বঞ্চিত অসহায়, অনাহারী ও ক্ষুধার্তদের মুখে খাবার তুলে দেয়া ইসলামের শিক্ষা। রাসূল সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পেটভরে আহার করল, অথচ তার আশপাশের লোকজন অনাহারে ও অর্ধাহারে রাত কাটালো, সে আমার দলভুক্ত নয়’। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশের দুর্যোগপূর্ণ সময় বিশেষ করে করোনা মহামারীর শুরু লগ্ন থেকে পীর সাহেব চরমোনাই’র নির্দেশে কর্মহীন, অসহায় ও বঞ্চিতদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতেও করে যাবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম, মানবতার ধর্ম। কল্যাণকামীতাই ইসলামের অন্যতম শিক্ষা।
এছাড়াও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের থানা শাখার নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে পৃথক পৃথকভাবে কোরবানী গোশত বিতরণ করা হয়। যেসকল থানায় কোরবানীর গোশত বিতরণ করা হয়েছে তা হলো : শাহবাগ, মতিঝিল, শাহজাহান, খিলগাঁও, কোতয়ালী, সূত্রাপুর, বংশাল, লালবাগ, চকবাজার, মুগদা, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, কদমতলী, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, ধানমিন্ড, সবুজবাগ, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, ডেমরা, কলাবাগান থানা।
এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, ঈদের আনন্দে সর্বস্তরের মানুষকে সামিল করার নামই প্রকৃত খুশি। এটা ইসলামেরও অন্যতম শিক্ষা। কাজেই ঈদের আনন্দে সকল বঞ্চিতদেরকেও সামিল করে ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র লক্ষ্য।


