২৬শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৩০শে রবিউস সানি, ১৪৪৪ হিজরি

চালের দামে অস্বস্তি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাজধানীর বাজারগুলোতে চালের খুচরা দাম কমছে না। প্রায় সব ধরনের চাল গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ দিন দিন বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে দামেও। বাজারভেদে বেগুন, শিম, টমেটোর দাম প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

তবে মাছের দাম চড়া। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার এবং শুক্রাবাদ ও কাঁঠালবাগানের বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে দরদামের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

  • চালের দামে অস্বস্তি

চালের দাম না কমায় চাপে পড়েছে নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। মিনিকেট নামে কোনো চাল বিক্রি করা যাবে না—সরকারের পক্ষ থেকে বারবার এ কথা বলা হলেও প্রায় সব বাজারেই এই নামে চাল বিক্রি হচ্ছে। বোর্ডে তা টাঙিয়েও রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারভেদে মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭১ থেকে ৭৫ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহেও একই দামে বিক্রি হয়েছে। ব্রি-২৮ (মোটা চাল) প্রতি কেজি ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, চিনিগুঁড়া ১৩০ টাকা, নাজিরশাইল ৬৮ থেকে ৮৪ টাকা, লাল চাল ৮০ টাকা, মোটা আতপ চাল ৪৪ টাকা, কাটারি আতপ ৭৮ থেকে ৮২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কাঁঠালবাগান বাজারে একজন চাল বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভারত থেকে চাল আসছে না, ফলে চালের দাম কমাতে পারছেন না পাইকাররা। নতুন ধান কাটা শুরু হয়েছে, বাজারে আসতে আরো কিছুদিন লাগবে। তখন দাম কিছুটা কমবে।

তেজগাঁও থেকে কারওয়ান বাজারে বাজার করতে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, ‘সব কিছুরই সরবরাহ আছে, কিন্তু দাম কমছে না। যে আয় তা দিয়ে চলা কঠিন।’

  • মাছের সরবরাহ প্রচুর, তবু দাম চড়া

বাজারে ইলিশ মাছের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও দাম কমছে না। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ইলিশের নাগাল পাচ্ছে না। বাজারভেদে দুই কেজির ইলিশ মাছ প্রতি কেজি এক হাজার ৮০০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ৭০০ থেকে ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকা কেজি, এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা কেজি, ৪০০ থেকে ৪৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া আইড় প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, শোল ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। তেলাপিয়া ১৮০ টাকা কেজি, মাঝারি আকারের রুই ৩০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৫৫০ টাকা, গুঁড়া চিংড়ি ৪৫০ টাকা, কাঁচকি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কাঁঠালবাগান বাজারে মাছ কিনতে এসেছেন আহসান উল্লাহ। তিনি কাজ করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। বললেন, ‘গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের বেতন তো বাড়ছে না। এখন ভালো মাছ কম কিনি। আগে তেলাপিয়া কিনতাম না, কিন্তু এখন কেনা লাগছে। এ ছাড়া বাসায় মা এসেছেন, ইলিশ কিনতে চেয়েছিলাম। দাম শুনে আর কেনা হয়নি। দাম অনেক বাড়তি।’

  • সবজির দাম কমছে

বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ প্রচুর। গতকাল বাজারভেদে কালো গোল বেগুন প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। পাকা টমেটো ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। এ ছাড়া ঢেঁড়শ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৩০-৪০ টাকা, পটোল ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় কম। লাউ আকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এ ছাড়া মাঝারি আকারের ফুল কপি ৬০ টাকা ও আলু ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

শুক্রাবাদ মসজিদের পাশের বাজারে সবজি বিক্রেতা জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘সবজির দাম নির্ভর করে বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির সরবরাহের ওপর। এখন শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ছে। তাই আগের সপ্তাহের চেয়ে কম দামে বিক্রি করছি।’

  • স্থিতিশীল মুরগির দাম

গত সপ্তাহে বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা কেজি দরে। গতকালও একই দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে কিছু দোকানি সুযোগ বুঝে দাম বেশিও নিচ্ছেন। গতকাল কারওয়ান বাজারে সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা ও দেশি মুরগি ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। মুরগির লাল ডিম ডজনে কমেছে ১০ টাকা করে। গতকাল ১৩০ টাকা ডজন বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া মুরগির সাদা ডিম ১২৫ টাকা, হাঁসের ডিম ২২০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ২৪০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহে যে দামে বিক্রি করেছি, এখনো সে দামই আছে। তবে কেজিতে পাঁচ টাকা কমবেশি হয়। মুরগি যেমন দামে কিনি আমরা সে রকম দামেই বিক্রি করি। পাইকারদের ওপর দাম নির্ভর করে।’

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com