২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১০ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

চীনে প্রেসিডেন্টে শি জিন পিংয়ের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছে চীন সরকার। এ বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে দেশটিতে চলছে বিক্ষোভ। সাধারণ অনেক মানুষকে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের পদত্যাগ চেয়েও অনেকে স্লোগান দিয়েছেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সাংহাই শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁদের অনেককে পুলিশের গাড়িতে তুলতে দেখা গেছে। রাজধানী বেইজিং ও নানজিং শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে সর্বশেষ উত্তর-পশ্চিমের শহর উরুমকিতে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রতি শহরটিতে একটি ভবনে আগুন লেগে ১০ জন নিহত হন। তাঁদের ভবনে আটকে পড়ার জন্য করোনার বিধিনিষেধকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

সাংহাইয়ের প্রতিবাদে লোকজনকে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ চেয়ে ‘শি জিন পিং সরে দাঁড়ান’ ‘কমিউনিস্ট পার্টি সরে দাঁড়াও’ বলে চিৎকার করে স্লোগান দিয়েছেন। তাঁদের অনেকের হাতে কোনো কিছু না লেখা সাদা ব্যানার ছিল। অনেকেই আবার মোমবাতি জ্বালিয়ে ও ফুল দিয়ে উরুমকি শহরে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

চীনে বিক্ষোভরত অনেকের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। সাংহাইয়ের একজন বলেন, চীনে মানুষের মধ্যে এমন অসন্তোষ আগে তিনি কখনো দেখেননি। করোনার লকডাউনের কারণে তিনি খুবই কষ্টে রয়েছেন। এমনকি তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত মাকেও দেখতে যেতে পারেননি। আরেকজন অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ করার কারণে তাঁকে পুলিশ মারধর করেছে।

চীনে সচরাচর এ ধরনের বিক্ষোভ দেখা যায় না। কারণ, দেশটিতে সরকার নিয়ে সরাসরি কোনো সমালোচনার ফল হতে পারে কড়া শাস্তি। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ‘শূন্য কোভিড নীতি’ নিয়ে মানুষের অসন্তোষ বরাবরই এড়িয়ে এসেছে চীন সরকার। তার জেরেই এ বিক্ষোভ। শূন্য কোভিড বা করোনা রোগীর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার এই পরিকল্পনা নিয়েছিলেন শি জিন পিং। সম্প্রতি তিনি জোর দিয়ে বলেন, চীন এ নীতি থেকে সরে দাঁড়াবে না।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com