২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

চেষ্টা করছি যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ না হয় : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পরিস্থিতির আরও অবনতি এড়াতেই দেশে কিছুদিন বিদ্যুতের লোড শেডিং করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সভায় তিনি বলেন, “আমরা শতভাগ বিদ্যুতের লাইন টানিয়েছি, শতভাগ বিদ্যুৎ দেওয়ার পরেও কোনো লোডশেডিং ছিল না; এটা শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। আমরা শুধু জ্বালানিতে একটা অ্যাডজাস্টমেন্টে গিয়েছি। চেষ্টা করছি এর থেকে খারাপ পরিস্থিতি যেন না হয়।

“লোড শেড করার পরে বলছি, আপনারা একটু সাশ্রয়ী হোন, ১০টার জায়গায় পাঁচটা বাতি জ্বালান। সে কারণে আমরা বলছি, অনেক দেশে রেশনিং করে দিয়েছে। জাতিসংঘ থেকে বলছে, আগামী সময়গুলো খারাপ সময় যাবে। আমরা কীভাবে মোকাবেলা করব সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই প্রস্তুতির মধ্যে একটা পার্ট হল আমরা কতটুকু সাশ্রয় করতে পেরেছি।”

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের জেরে জ্বালানি স্বল্পতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে সরকার। গত জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে নিয়ম করে লোড শেডিং করায় বাসা-বাড়িতে মানুষকে যেমন ভুগতে হচ্ছে, উৎপাদন চালু রাখতে বেগ পেতে হচ্ছে শিল্প উদ্যোক্তাদের।

খারাপ সময়কে ‘খারাপভাবেই’ মোকাবিলা করতে হয় মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের বিকল্প পাওয়ার প্ল্যান্ট আসবে, কয়লার পাওয়ার প্ল্যান্ট, কিন্তু কয়লা আমাদের আমদানি করতে হবে। সেখানেও দাম বেড়ে গেছে। আমাদের যে গ্যাস আছে সেই গ্যাস মাত্র ২৩০০ ঘনফুট, আমাদের দরকার হল ২৭০০ থেকে ৩৪০০ ঘনফুট; বাকি গ্যাসের তো আমাদের আমদানিতে যেতেই হবে। স্পট মার্কেটেও দাম বেড়ে গেছে।

“গত বছর সেপ্টেম্বরে ইন্ডাস্ট্রিতে যে গ্যাস দিতাম, এ বছরও তাই দিচ্ছি। তাহলে এই বছর শর্ট হল কেন? কারণ বিদ্যুতের ডিমান্ড বেড়ে গেছে গ্যাসে। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রিও বেড়েছে। খারাপকে খারাপভাবে ফেইস করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি এর থেকে খারাপ পরিস্থিতি যেন না হয়।”

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার হিসাবে, গত জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে চার মাসে দেশে গ্যাস সরবরাহ কমেছে ১৪ শতাংশের মত।

এই চার মসে দেশীয় কূপ থেকে সরবরাহ যেখানে কমেছে ৩ শতাংশ, এলএনজির পরিমাণ কমে হয়েছে অর্ধেক।

শিল্প মালিকরা দাম বাড়িয়ে হলেও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দিতে বলছেন, এ বিষয়ে সরকার কী ভাবছে তা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।

উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সেটা আমরা একটা পরিকল্পনা করছি দেখি, গ্যাসের দাম বাড়ালেই হবে না, আমাদের তো নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দিতে হবে।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অনেকে আমাকে বলছেন, সিএনজি গ্যাস বন্ধ করে দিয়ে ইন্ডাস্টিতে দিতে, যারা সিএনজি পাম্প চালায়, তারা কীভাবে চলবে? ওখানে তো বিশাল একটা ইনভেস্টমেন্ট হয়েছে, তারা তো লোন নিয়েছে ব্যাংক থেকে, তাহলে এক ব্যবসায়ীকে বন্ধ করে দিতে বলবেন, আরেক ব্যবসায়ীর সুবিধার জন্য। অবশ্যই না। এই সরকার সকলের সরকার।”

জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও যে বেড়ে যায়, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই দামের বড় আকারে বেশকম হলে বিদ্যুতের দামেরও বেড় আকারের বেশকম হবে। এখন যদি আমি সেই জায়গায় দামের বেশকম করতাম, যেখানে ইউকে করেছে, জার্মান করেছে, ইতালি করেছে উন্নত দেশগুলো করেছে। সব দেশ বৃদ্ধি করে ফেলেছে; আপনি ইউকেতে যান ৮০ শতাংশ জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করেছে।”

পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দাবি করে বিপু বলেন, “আমাদের অশাবাদী হতে হবে। পরিস্থিতি এখনও আমাদের নিয়ন্ত্রণে, আমরা সাশ্রয় করতেছি, সবারই কিন্তু কষ্ট হচ্ছে। আমরা ভাবছি মার্চ ফেব্রুয়ারি থেকে, যে কী করব, সুতরাং আমরা আশা করছি নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুয়ারি-ফেব্রয়ারিতে কোনো সমস্যা হবে না। আগের থেকে ভালো অবস্থা হবে।”

টবগী-১ কূপে দৈনিক ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

সরকার দেশীয় জ্বালানির উৎস অনুসন্ধানে কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে পেট্রোবাংলা মোট ৪৬টি অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার কূপ খননের পরিকল্পনা করেছে। এর অংশ হিসেবে বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে গৃহীত প্রকল্পের আওতায় গ্যাজপ্রমের মাধ্যমে গত ১৯ আগস্ট ভোলা জেলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের টবগী-১ অনুসন্ধান কূপটি প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খননের কাজ শুরু হয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ৩ হাজার ৫২৪ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন কাজ সম্পন্ন হয়।

“কূপ খননের পর ১ নভেম্বর ৩২/৬৪ ইঞ্চি চোক সাইজ ব্যবহার করে কারিগরি পরীক্ষায় দৈনিক গড়ে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ফ্লো পাওয়া গেছে, যা আশাব্যঞ্জক।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রে থেকে টবগী-১ কূপ এলাকাটি আনুমানিক ৩ দশমিক ১৭ কিলোমিটার দূরে। ভূতাত্ত্বিক তথ্য এবং ডিএসটি রিপোর্ট অনুযায়ী এ অনুসন্ধান কূপে গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ প্রায় ২৩৯ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ)। দৈনিক গড় ২০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উৎপাদন বিবেচনায় ওই কূপ থেকে ৩০-৩১ বছর গ্যাস উৎপাদন সম্ভব।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com