জঙ্গিদের বড় হামলার সামর্থ্য নেই

জঙ্গিদের বড় হামলার সামর্থ্য নেই

জঙ্গিদের বড় হামলার সামর্থ্য নেই

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: সোমবার দুপুরে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জঙ্গিরা বসে নেই। তারা নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। অনলাইনেও চালাচ্ছে প্রচার-প্রচারণা। তবে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছি। বিভিন্ন সময় আগাম তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হচ্ছে। জঙ্গিদের আর বড় ধরনের হামলা করার সামর্থ্য নেই।’

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে একযোগে বোমা হামলা করে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বংলাদেশ (জেএমবি)। ব্যাপক নাশকতা তাদের উদ্দেশ্য না থাকলেও এর মাধ্যমে তারা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য আছে, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে একমাত্র মুন্সীগঞ্জ ছাড়া সব জেলায় সিরিজ বোমা হামলা করে জেএমবি। ছোট আকারের, তবে শব্দ হয়, এমন বোমাসদৃশ ডেটোনেটরের বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। পাশাপাশি লিফলেট-প্রচারপত্র বিলি করে জঙ্গিরা। সেখানে আল্লাহর আইন বাস্তবায়নের কথা বলে তারা। এর পরেই মূলত পুলিশ-র‌্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নড়েচড়ে বসে। নিবিড় ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করে। একে একে বেরিয়ে আসে জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আতাউর রহমান, খালেদ সাইফুল্লাহ, মাওলানা সাইদুর রহমানসহ অনেক শীর্ষ নেতা ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের নাম। ২০০৬ সালে অনেককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-পুলিশ। এরপর দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০১০ সালে জঙ্গিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের বোমা হামলার ঘটনায় সারা দেশে ১৫৯টি মামলা হয়। ১৪৩টি মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ১১৬টি অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ৯৮৮ জনকে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক অভিযানের ফলে জঙ্গিরা আর আগের মতো সংগঠিত হতে পারছে না। তবে তারা বসে নেই। জঙ্গিরা এখন বেছে নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অনলাইন। প্রচার-প্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে। তারা এভাবে নিজেদের সংগঠিত করে কর্মী ও তহবিল সংগ্রহ করছে। এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

র‌্যাবের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৯৮ সালে প্রথম এ দেশে জঙ্গিদের অস্তিত্ব মেলে। ওই সময় থেকে সোমবার (১৭ আগস্ট) পর্যন্ত সারা দেশ থেকে ২ হাজার ৩০০ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশকিছু জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ সোমবার দুপুরে রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা জঙ্গিবাদ নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করছি। এজন্য আমাদের একটি বিশেষ সেল আছে। সেলের সদস্যরা সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। জঙ্গিদের আর কখনোই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেব না।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *