৮ই মার্চ, ২০২১ ইং , ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৩শে রজব, ১৪৪২ হিজরী

জঙ্গিসমাবেশের জন্য ট্রাম্প ঢেলেছিলেন কাঁড়ি কাঁড়ি ডলার

জঙ্গিসমাবেশের জন্য ট্রাম্প ঢেলেছিলেন কাঁড়ি কাঁড়ি ডলার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জঙ্গিসমাবেশের জন্য উগ্র রক্ষণশীলদের শুধু উসকানিই দেননি, অর্থও দিয়েছেন। ট্রাম্পের আহ্বানে ৬ জানুয়ারি রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর উগ্র সমর্থকেরা জড়ো হয়ে দাঙ্গাবাজি করেছিলেন। রাজধানীতে দলে দলে লোক জড়ো করতে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা তহবিল থেকে অর্থের জোগান দেওয়া হয়েছিল।

সমাবেশ আয়োজকদের বেশ আগে থেকেই প্রস্তুত করছিলেন ট্রাম্প। এ জন্য প্রায় দুই বছর আগে থেকে তাদের অর্থসহায়তা দেওয়া হচ্ছিল ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা তহবিল থেকে।

ট্রাম্পের পক্ষে যত প্রতিবাদ-সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল, তার সব কটির নেপথ্য ভূমিকায় ছিল ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা কমিটি। তাঁর নির্বাচনী তহবিল থেকে এই খাতে দেওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ লাখ ডলার। এ নিয়ে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে তা-বে যোগ দেওয়া লোকজন ও সমাবেশের সাংগঠনিক আয়োজকদের সঙ্গে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা শিবিরের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে এসেছে।
ট্রাম্পের পক্ষে যেসব সভা-সমাবেশের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল, তার নথিতে ম্যাগি মুলভানির নাম রয়েছে। ম্যাগি হচ্ছেন মাইক মুলভানির ভাতিজি। ট্রাম্পের আমলে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ ছিলেন মাইক। তিনি পরে নর্দান আয়ারল্যান্ডবিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্ব পান। ক্যাপিটল হামলার পর মাইক পদত্যাগ করেন।

একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলছে, ম্যাগিকে গত ২৩ নভেম্বরের পর ১ লাখ ৩৮ হাজার ডলার দেওয়া হয়। ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির থেকে এই অর্থ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেগান পাওয়ার নামের আরেক ব্যক্তিকে দেওয়া হয় ২ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম চাঁদা সংগ্রহকারী ক্যারোলিন অরেনের নামও পাওয়া গেছে সভা-সমাবেশ করার আবেদনের নথিপত্রে। তাঁকে ট্রাম্পের সমাবেশের অনুমতিপত্রে উপদেষ্টা হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ট্রাম্পের একটি নির্বাচনী প্রচারণা সংগঠন থেকে অরেনকে মাসে ২০ হাজার ডলার করে দেওয়া হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে।

ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের রেকর্ডে দেখা যায়, গত মধ্য মার্চ থেকে মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত অরেন প্রতি মাসে ট্রাম্পের প্রচারণা তহবিল থেকে এই অর্থ পেয়েছেন।
ট্রাম্পের পক্ষে প্রতিবাদ-সমাবেশ আয়োজনের জন্য ইভেন্ট স্ট্র্যাটেজি নামের একটি সংস্থাকে ট্রাম্প শিবির থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই ফার্মকে ১৭ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছে ট্রাম্প শিবির থেকে।

ট্রাম্পের ক্যাম্পেইন উপদেষ্টার দাবি, এসব সভা-সমাবেশ ব্যবস্থাপনা ও অর্থ লেনদেনের সঙ্গে ক্যাম্পেইনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

‘ওম্যান ফর আমেরিকা’ ও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের রক্ষণশীল সংগঠনও ট্রাম্পের নির্বাচনী তহবিল থেকে অর্থ পেয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব সংগঠনই ৬ জানুয়ারি পুরো আমেরিকা থেকে লোকজনকে ওয়াশিংটন ডিসিতে জড়ো করেছিল।

৬ জানুয়ারির সহিংস ঘটনার আগে আগে ফ্রান্স থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন রক্ষণশীল সংগঠকের অ্যাকাউন্টে রহস্যজনক পাঁচ লাখ ডলারের বিটকয়েন জমা হয় বলে জানা গেছে। এ নিয়ে এফবিআই তদন্ত করছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার তৎপরতার সঙ্গে বাইরের কোনো শক্তির সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা।
নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পরই আমেরিকার ভেতরের চরমপন্থীদের ওপর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্পের সমর্থনে বেপরোয়া কর্মকা-ে যোগ দেওয়া বহু লোকজন এখন অনুশোচনায় ভুগছেন। ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে চলে যাওয়ার আগে অনেককে ক্ষমা করবেন বলে প্রচার ছিল। কিন্তু ৬ জানুয়ারির পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। চাপে পড়েন ট্রাম্প। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসন প্রস্তাব গৃহীত হয়। ক্যাপিটলে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত লোকজনের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক নেই বলে ট্রাম্প ঘোষণা দেন। সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের ধরপাকড় শুরু হয়।

ট্রাম্প চেয়েছিলেন নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে। এ জন্য তিনি তাঁর উগ্র সমর্থকদের উসকানি দেন। কঠিন লড়াই করতে বলেন। ট্রাম্পের উসকানিতেই ৬ জানুয়ারি উগ্র সমর্থকেরা ক্যাপিটল হিলে জড়ো হন। এ সময় কংগ্রেসে জো বাইডেনের জয়ের সত্যায়ন চলছিল। বাইডেনের জয়ের সত্যায়ন ঠেকাতে ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকেরা ক্যাপিটল ভবনে ঢুকে পড়েন। তাঁরা কংগ্রেস ভবনের ভেতরে দাঙ্গা, হাঙ্গামা, ভাঙচুর চালান।

কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সভাপতিত্ব করছিলেন। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ কংগ্রেসের সব আইনপ্রণেতা এ সময় উপস্থিতি ছিলেন। ট্রাম্প-সমর্থকদের তা-ব থেকে বাঁচতে তাঁরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। হামলাকালে পেন্স ও পেলোসির চেয়ারে উগ্র লোকজন বসে পড়েন। কেউ কেউ ডেস্কের ওপর পা তুলে দেন। অফিস লুটপাট করেছেন। সহিংস ঘটনায় ক্যাপিটল পুলিশসহ পাঁচজন নিহত হন।

এফবিআইসহ অন্যান্য ফেডারেল সংস্থা এই হামলার বিষয়ে তদন্ত করছে। দেশজুড়ে এখনো ধরপাকড় চলছে। এ পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে এফবিআই ও মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com