পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গেল ফেব্রুয়ারির শেষে দিল্লির দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে সামপ্রদায়িক দাঙ্গাকবলিত এলাকা থেকে সরকার মুখ ফিরিয়ে নিলেও জমিয়তে উলামা হিন্দ সর্বান্তকরণে বিভেদহীনভাবে হিন্দু-মুসলিম সকলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা ক্বারী সাইয়্যেদ উসমান মানসুরপুরী।
জমিয়ত সভাপতি বলেন, দাঙ্গার পরেই আচমকা করোনাভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আসা লকডাউন এলাকাবাসীর জন্য বড় বিপদ হয়ে নেমেছিল। সরকার পর্যন্ত মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল তাদের থেকে। সেসময় একমাত্র জমিয়তে উলামা হিন্দ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। খাবার-দাবার পৌঁছে দেয়া, ঘর ও উপাসনালয় নির্মাণসহ সর্বােচ্চ সহযোগিতা নিয়ে তাদের পাশে থেকেছে। জমিয়ত মুসলমানদের সংগঠন হলেও বিভেদহীনভাবে তারা মানুষের সেবা করে সবসময়। দিল্লির দাঙ্গায় আমরা হিন্দু-মুসলিম সবার সহযোগিতা করেছি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিল্লির দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে গুধানগর এলাকার ১নং লেনে জমিয়ত কর্তৃক নির্মিত ৪৮টি ঘর ও ১৮টি দোকান উদ্বােধন করে দাঙ্গা কবলিতদের হাতে তুলে দেয়ার সময় এসব বলেন তিনি। এ সময় জমিয়তের নির্মাণ করা মসজিদে জুমার নামাযও পড়ান তিনি।
দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্থ আব্দুল মজিদ জানান, দাঙ্গার পরে আমাদের জন্য এলাকাতে থাকা সম্ভব ছিল না। আমরা নিরাশ হয়ে পড়েছিলাম, এলাকা ছাড়ার কথা ভাবছিলাম। তখন একদিন জমিয়তের জেনারেল সেক্রেটারি সাইয়্যেদ মাহমুদ মাদানীর নেতৃত্বে একটি দল আমাদের জন্য রহমত হয়ে আসে। আমাদেরকে তারা আশার কথা শোনান। নানান সহযোগিতা দিয়ে আমাদের চাঙ্গা করে তোলেন। আর এখন তো ঘর-দোকান বানিয়ে দিলেন।
এ সময় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সেক্রেটারি মাওলানা হাকিমুদ্দীন কাসেমী জানান, দিল্লির দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ১৫২ ঘর, ১০ মসজিদ ও ১৩৯টি দোকান নির্মাণ করে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে জমিয়ত।
উদ্বোধনী এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জমিয়তে উলামা হিন্দের সহ সভাপতি মাওলানা দাউদ আমিনী, মাওলানা গুয়ুর আহমদ কাসেমী, মাওলানা জিয়াউল্লাহ কাসেমী, মাওলানা ইরফান কাসেমী, মাওলানা জামাল কাসেমী প্রমুখ।
সূত্র : দ্য ইনকিলাব


