২৬শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৫শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

জরিপ: ৯৫ শতাংশ শিশু ঘরেই নির্যাতনের শিকার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সম্প্রতি এক জরিপে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে—ঘরেই শতকরা ৯৫ দশমিক আট জন শিশু নির্যাতিত হচ্ছে নানাভাবে। শিশুরা পরিবারে সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয় বাবা-মা ও অভিভাবকদের হাতে। শাস্তি ও নিয়মানুবর্তিতার কথা বলে শিশুর ওপর এই নিপীড়ন চালানো হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরের বাইরে, কাজের জায়গা বা অন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠানে শিশু যতটা নির্যাতিত হচ্ছে, এর চেয়ে বেশি নির্যাতিত হচ্ছে নিজ গৃহে। প্রতিবন্ধী শিশুরাও শুধু প্রতিবন্ধিতার কারণে পরিবারে ও সমাজে নিগৃহীত হচ্ছে। এছাড়া পর্নোগ্রাফিতে শিশুদের প্রবেশাধিকারের বিষয়টিও জরিপে উঠে এসেছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী শতকরা ৯৫ দশমিক তিন জন শিশু জানিয়েছে, তারা জীবনের কোনো না কোনো সময় ঘরে, বাইরে, স্কুলে বা কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে শতকরা ৯৬ দশমিক দুই জন মেয়ে এবং শতকরা ৯৪ দশমিক পাঁচ জন ছেলে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা ইনসিডিন বাংলাদেশ মঙ্গলবার (৭ জুন) সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে শিশুর প্রতি সহিংসতা পরিস্থিতি’ শীর্ষক এই জরিপ রিপোর্ট উপস্থাপন করে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

২০২০ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত মোট ১১টি জেলায় এই জরিপ চালানো হয়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে—ঢাকা, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, যশোর, ঝিনাইদহ, খুলনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, কুমিল্লা ও রাঙ্গামাটি। মোট ৫ হাজার ৭৪ জন শিশুর ওপর জরিপ চালানো হয়েছে। জরিপ মতে—শতকরা ৮৬ দশমিক ৯ জন শিশু গৃহে শারীরিকভাবে সহিংসতার শিকার হচ্ছে। বাসায় থাকা শিশুরা জানিয়েছে ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্হার’ নামে তাদের ওপর অত্যাচার করা হয়।

শতকরা ৫৫ জন শিশু জানিয়েছে যে তারা পরিবারের ভেতরেই যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। গৃহে মেয়েশিশুর (৫০ শতাংশ) চাইতে ছেলেশিশুই (৬০ শতাংশ) বেশি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। এছাড়া শতকরা ৮২ জন শিশু নির্যাতিত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

জরিপ মতে, শতকরা ৬২ দশমিক একজন প্রতিবন্ধী শিশু বলেছে শুধু প্রতিবন্ধী শিশু হওয়ার কারণে তারা পরিবারে ও সমাজে হয়রানির শিকার হয়ে থাকে। এর মধ্যে ছেলেশিশু ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেয়েশিশু ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ। জরিপের সুপারিশমালায় নীরবতার সংস্কৃতি ভেঙে শিশুর প্রতি যে কোনো ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খোলা এবং শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য কাউন্সেলিংয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com