২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

জরুরী ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : শ্রম ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বিওইএসএল)-এর মাধ্যমে অবিলম্বে ১০,০০০ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের একটি নতুন প্রক্রিয়া শুরু করেছে মালয়েশিয়া।

শুক্রবার মালয়েশিয়ান এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (এমইএফ)-এর এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জিটুজি) সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী কর্মী নিয়োগের জন্য একটি এককালীন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে ২৫টি বেসরকারি বাংলাদেশি এজেন্সির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পর্যাপ্ত কর্মী না পাওয়ায় দেশটি নতুন এককালীন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানান বলেছেন, বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো অল্প সংখ্যক উৎস দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অভিবাসী শ্রমিকদের আসতে দেরি হওয়ার পেছনের মূল কারণ।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাস্টমার মিট ডে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সমস্যা হলো নিয়োগকর্তারা ভাষা, ধর্ম ইত্যাদির কারণে শুধুমাত্র ইন্দোনেশিয়ান এবং বাংলাদেশিদের নিয়োগ করতে পছন্দ করেন।’

তবে শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলেছেন মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেশন বাংলাদেশি শ্রমিকদের ধীরগতির নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রধান কারণ।

তারা দুর্বল পারফরম্যান্সের এই সিন্ডিকেশনে জড়িত থাকায় মালয়েশিয়ান মন্ত্রীকেও দায়ী করেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা)-র মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, ‘আমরা গত ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ার সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছি। এরপর থেকে মাত্র ১,২০০ জন মালয়েশিয়ায় গেছেন।’

২০২১ সালের ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ মানুষ মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাবে।

এতে বৃক্ষরোপণ, কৃষি, উৎপাদন, পরিষেবা, খনি, নির্মাণ এবং গৃহস্থালী পরিষেবাসহ সকল খাতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলছিলেন, এক বছরে দুই লাখ কর্মী মালয়েশিয়া যাবে।

তাদের ন্যূনতম বেতন হবে প্রতি মাসে ১,৫০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং অভিবাসন ব্যয় হবে ৭৯,০০০ টাকা।

তবে বাস্তবে বেসরকারি সংস্থায় অভিবাসন ব্যয় হিসেবে শ্রমিকদের প্রায় সাড়ে তিন লাখ থেকে চার লাখ টাকা দিতে হয়।

উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ের অভিযোগে মালয়েশিয়া ২০১৮ সাল থেকে তিন বছরের জন্য বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দেয়।

পূর্ববর্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০ লাখের বেশি অভিবাসী কর্মী নিজ দেশে ফিরে আসায় মালয়েশিয়ায় শ্রম ঘাটতি দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে গত বছরের ডিসেম্বরে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।

অনুমোদিত ২৫টি বেসরকারি এজেন্সির ব্যার্থতায় নতুন আঙ্গিকে শ্রমিক প্রেরণে বিষয়ে বিওইএসএল-এর মহাব্যবস্থাপক (বৈদেশিক কর্মসংস্থান) বনানী বিশ্বাস গণমাধ্যমে বলেন, ‘মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ কর্মী নিয়োগের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। চাহিদা জানিয়ে দেওয়া চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা শ্রমিক পাঠানো শুরু করব।’

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-র মহাপরিচালক মো. শহিদুল আলম বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, বোয়েসল-এর মাধ্যমে নির্ধারিত বেসরকারি সংস্থাগুলোর বাইরে গিয়ে লোক পাঠাতে কোনো সমস্যা নেই।’

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com