২৮শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

জাতির সর্বনাশ করে যাচ্ছে মুর্খ বক্তারা

  • আমিনুল ইসলাম কাসেমী

দুনিয়াতে অপসংস্কৃতি এবং শরীয়ত বিরোধী কাজগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। মানুষের মুখে মুখে, সবখানে তার প্রভাব। যেমন কদিন আগে ‘কাঁচা বাদাম’ এর গান খুব ভাইরাল হয়েছিল। পুরো নেট দুনিয়ায় মানুষের কাছে বেশ পছন্দ হয়েছিল গানটি। আর বর্তমান চলছে, ‘আইসক্রিমের গান’। এটাও এখন পুরো বিশ্ব মাতিয়ে ফেলছে। দুনিয়ার কোথাও মনে হয় বাদ নেই। এমনকি বাংলাদেশেরও সব জায়গাতে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যুবক-যুবতীদের মাঝে ওই গানের আছর পড়েছে খুব বেশী।

ঠিক বর্তমান আমাদের দেশে কিছু কিছু বে-ইলম বক্তা, মুর্খ বক্তা, ওদের কোরআন-হাদীসের জ্ঞান নেই, তারা ওয়াজ মাহফিলে ওয়াজ করে বেড়ান, ওরা ওই রকম ‘কাঁচা বাদাম’ আর আইসক্রিম গানের মত ভাইরাল হয়েছে। ওসব ভাইরাল বক্তাদের না আছে কোরআনের জ্ঞান, না হাদীসের জ্ঞান। একদম মুর্খ। হাদীসের কিতাব খুলে দিলে পড়ার সক্ষমতা তাদের নেই। শুধু চমকপ্রদ কথার ফুলঝুরি। কখনো বা বেসামাল কথা। কখনো কাউকে কটাক্ষ করে কথা বলে মাঠ গরম করে থাকে।

সবচেয়ে সর্বনাশ করে যাচ্ছে ওই সব মূর্খ বক্তারা। তারা সাধারণ জনতার মাঝে আলেম- উলামাদের নীচু করে দিচ্ছে। ওরা আলেমদের কটাক্ষ করে এমন কিছু বক্তৃতা দেয়, যাতে আলেম- উলামার কোন মান থাকে না। এমনিতে অধিকাংশ বক্তা এখন টাকার চুক্তি করে নেয়। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তারা টাকার চুক্তি করে। কোথাও তো টাকা নিয়ে ঝগড়াও করে থাকে। যে টাকা তারা চুক্তি করে গিয়েছিল, তার থেকে কম হলে আয়োজকদের সাথে ফাইট শুরু করে দেয়।

ওসব চুক্তিবাদী বক্তাদের আবার প্রতিদিন দুটো বা তিনটে করে প্রোগ্রাম থাকে। একটা শেষ করে আরেকটার দৌড় শুরু করে দেয়। বাদ আসর, বাদ মাগরিব, বাদ এশা, বা রাত দশটার পরে। এভাবে তিনটে চারটে করে প্রোগ্রাম মেরে মোটা অংকের পয়সা কামাই করে থাকে। কিন্তু বড় দুঃখজনক হলো, ওসব চুক্তিবাদী বক্তাদের গলাবাজি। এমন গলাবাজি তারা শুরু করে দিয়েছে, তাতে আলেম-উলামার ইজ্জত বলতে আর কিছু নেই।

কদিন আগে এক মূর্খ বক্তা মাদ্রাসার শিক্ষকদের এমন ভাবে কটাক্ষ করলেন, যেটা আলেমদের অন্তরে চরমভাবে আঘাত করেছে। বহু মাদ্রাসার শিক্ষক ওই বক্তার বক্তব্যতে হতাশ হয়েছে। অথচ সেই বক্তা কিন্তু ওই সকল আল্লাহওয়ালা উস্তাদদের হাত ধরে বড় হয়েছে। দু-চার কলম যা কিছু পড়েছে, ওই সকল উস্তাদদের কাছে পড়েছে।

এরকম ওয়াজের ময়দানে বহু ভাইরাল বক্তা আছে, যারা ‘কাঁচা বাদাম’ আর আইসক্রিম গানের মত ভাইরাল হয়েই আছে। যথেষ্ট লোক সমাগম। মাদ্রাসায়ও পড়েনি। দাওরায়ে হাদীসও পাশ করেনি। কিন্তু তারা সেই রকম ভাইরাল। সেরকম জনপ্রিয়তা। একেবারে সর্বনাশ করছে তারা। ভাইরাল হওয়ার সুবিধায়, কোরআন-হাদীসের অপব্যাখ্যা এবং আলেম- উলামার ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলে যাচ্ছে। আমাদের দেশের এখন বড় সমস্যা মানুষজন ভাইরালের দিকে দৌড়াচ্ছে। বক্তার ইলম আছে কিনা, তার কী কোরআন- হাদীসের জ্ঞান আছে কিনা, সেটা কেউ লক্ষ্য করে না। যার কারণে ওই সব মূর্খ বক্তার ওয়াজ শুনে মানুষ গোমরাহীর দিকে ধাবিত হচ্ছে।

আসল কথা হলো, মুসলিম শরীফের ভুমিকাতে রয়েছে, ‘ইন্না হাজাল ইলমা দীনুন…’ অর্থাৎ যার থেকে দ্বীনের জ্ঞান আহরণ করবেন, যার ওয়াজ শুনবেন, প্রথমে তাকে দেখতে হবে। সে কেমন? তার ইলম আছে কিনা? তার চিন্তা চেতনা সহী কিনা? এসব দেখে তারপর সেই ব্যক্তির ওয়াজ শুনতে হবে। কোনো ব্যক্তির যদি ইলম না থাকে, সে যদি মূর্খ হয়, তাহলে তার ওয়াজ শোনা জায়েজ নেই।

এজন্য ভাইরাল বক্তার দিকে দৌড়ানো যাবে না। দেখতে হবে তিনি আলেম কিনা। তার চিন্তা- চেতনা দুরুস্ত আছে কিনা। সে কি মানুষকে সহী পথে আহবান করে কিনা। এরপরে তার ওয়াজ শোনা যেতে পারে। আল্লাহ আমাদের সহী বুঝ দান করুন। আমিন।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com