জাতিসংঘকে যুক্তরাষ্ট্রের চিঠি, ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞার আশা

জাতিসংঘকে যুক্তরাষ্ট্রের চিঠি, ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞার আশা

জাতিসংঘকে যুক্তরাষ্ট্রের চিঠি, ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞার আশা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইরানের স্বস্তি কোনোভাবেই সহ্য হচ্ছে না আমেরিকার। ইরানের ওপর এক সময় থাকা নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘকে চিঠি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মারাত্মক লঙ্ঘন করছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র বাদে ওই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী বাকি দেশগুলো অবশ্য মার্কিন এমন আহ্বান প্রত্যাখান করেছে।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জাতিসংঘের ২২৩১ প্রস্তাবনার আওতায়— যার মাধ্যমে বিশ্বের ছয় পরাশক্তির সঙ্গে ইরানের চুক্তি হয়— যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল করার অধিকার রাখে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসন ইরানের সঙ্গে বিশ্বের ছয় পরাশক্তির এই পারমাণবিক চুক্তিটি করলে জাতিসংঘ তেহরানের ওপর আরোপিত বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যহার করে। কিন্তু ডোনাল্ড ক্ষমতায় আসার পর ২০১৮ সালে চুক্তিটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যহার করে নেন।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সরাসরি আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জাতিংসংঘকে জানানোর জন্য নির্দেশ দিচ্ছি যে ইরানের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে যত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রয়েছে সেগুলো আমরা আবার চালু করতে চাই। গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে এই নির্দেশ দেন তিনি।

এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর হওয়া পরমাণু চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। তাই এগুলো পুনর্বহাল করা হলে তা হবে সেই চুক্তি পুরোপুরি লঙ্ঘণ। ধারণা করা হচ্ছে, চুক্তির অন্য পক্ষগুলো যেহেতু এখনও নিজেদের চুক্তি থেকে সরিয়ে নেয়নি তাই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করবে তারা।

গত শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি রাখার মার্কিন চেষ্টা ব্যর্থ হয়। যুক্তরাষ্ট্র উত্থাপিত প্রস্তাবে ১১টি দেশ ভোট দেয়া থেকে বিরত থেকেছে। পক্ষে-বিপক্ষে ভোট পড়েছে দুটি করে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ডোমিনিকান রিপাবলিক প্রস্তাবটির পক্ষে এবং চীন এবং রাশিয়া এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। বাকি কোনো দেশ ভোটাভুটিতে অংশ নেয়নি। প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় এখন পারমাণবিক চুক্তির ভিত্তিতে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ইরানের ওপর জাতিসঙ্ঘের আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *