পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের বিচারে গঠিত বিশেষ ট্রায়ালকে নিম্নমানের, আন্তর্জাতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষতা প্রমাণে ব্যর্থ উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত এজেন্স কায়ামার্ড। বিবিসি
এই প্রশ্নবিদ্ধ গোপন ট্রায়ালে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে খাসোগি হত্যাকাণ্ডে ১১ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে এই ট্রায়াল সম্পূর্ণভাবে সৌদি যুবরাজের প্রভাবমুক্ত ছিল।
এই হত্যাকাণ্ডে গঠিত ট্রায়ালের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে জাতিসংঘের এই বিশেষজ্ঞ আরও জানিয়েছেন, এ হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান এবং রাজতন্ত্রের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। সুতরাং তাদের বাদ দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও সুবিচার সম্ভব নয়।
হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজের জড়িত থাকার বিষয়ে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ আছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ। বুধবার এ তথ্য জানিয়ে খাসোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন ওই বিশেষজ্ঞ।
বার্তা সংস্থা এএফপি সূত্রে, এক প্রতিবেদনে বিচারবহির্ভূত ও নির্বিচার হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাগনেস কায়ামার্ড বলেন, খাসোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সৌদি যুবরাজসহ ‘প্রত্যেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার’ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে তদন্তেরও প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে বুধবারের ওই প্রতিবেদনটিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। সেটাতে পুনরায় তদন্ত করার মতো উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অপরাধীদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তদন্তে খুঁজে পাওয়া প্রমাণের বিষয়ে উদাহরণ দিতে গিয়ে কায়ামার্ড বলেন, ‘যুবরাজের ক্ষমতার বিষয়ে খাসোগি নিজেও পুরোপুরি সচেতন ছিলেন। তিনি যুবরাজের বিষয়ে ভীত ছিলেন।’ তিনি বলেন, খাসোগির ঘটনায় সৌদি আবর ও তুরস্কের করা তদন্ত আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ দেশ দুটির তদন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে করা হয়নি।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে খাসোগি হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে তদন্ত করার আবেদন জানিয়েছেন কায়ামার্ড।
কায়ামার্ড এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইকেও তদন্ত করতে অনুরোধ করেছেন। খাসোগির যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস সূত্রে সেদেশেও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করাটা উচিত বলে মতো দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, তুরস্কের সৌদি কন্স্যুলেটের ভিতরে জামাল খাসোগিকে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর হত্যা করা হয়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন খাসোগি। সৌদির রাজধানী রিয়াদ থেকে সেই সময় জানানো হয়েছিল,খাসোগির বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই। তবে রিয়াদ পরে হত্যাকাণ্ডের দায় দেশটির কয়েকজন ‘বেয়াড়া’ এজেন্টের ওপর চাপিয়ে দেয়।


