২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১০ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

জামিআ ইকরা; বাংলার জমিনে যেনো এক টুকরো ‘দেওবন্দ’

  • মুফতি রিয়াজুল ইসলাম

জামিআ ইকরা বাংলাদেশ তার শুরু লগ্ন থেকে দেওবন্দ ও দেওবন্দিয়্যতকে মনেপ্রাণে ধারণ ও লালন করে আসছে। ইকরার আসাতিজা, ইকরার তুলাবা সবাই যেনো দেওবন্দের আদর্শিক সন্তান।

মূলত জামিআ ইকরা প্রতিষ্ঠিত হয় এ বাংলায় দেওবন্দিয়্যতকে পুনর্জাগরণের জন্য। তাইতো ইকরার প্রথম শাইখুল জামিআ ছিলেন বাংলার মাদানি আল্লামা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ সাহেব (রহ.)। তিনি আমরণ ইকরার শাইখুল জামিআর পদ অলংকৃত করেছেন। বর্তমানে ইকরার শাইখুল জামিআ দেওবন্দের কৃতি সন্তান, খলিফায়ে ফেদায়ে মিল্লত আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.)।

জামিআ ইকরার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দারুল উলুম দেওবন্দের সাথে গভীর সংযোগ ছিল।দেওবন্দের আকাবির ও উস্তাদগণ এখানে পদধূলি দিয়েছেন বহুবার। এখনো দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

আজকে বিশেষ করে যাঁর কথা বলবো, তিনি হলেন দেওবন্দের উলুমুল হাদিসের প্রধান মুশরিফ আল্লামা আব্দুল্লাহ মারুফী সাহেব (দা.বা.)। তিনি ৬/৭ বছর যাবত জামিআ ইকরায় নির্দিষ্ট কিছু দিন দরস দিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম প্রথম প্রায় এক মাস লাগাতার ইকরায় দরস প্রদান করতেন এবং বুখারী শরীফের কিতাবুস সালাত পুরোটা পড়াতেন। এখন দেওবন্দে উনার দায়িত্ব বেড়ে যাওয়ার কারণে সময় কমিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ইকরায় আসলে দিলখুলে দরস দান করেন।

আজকে তিনি প্রায় দুই ঘন্টা দরস দিলেন। উনার যাবতীয় সনদ জামিআ ইকরার ছাত্র ও উস্তাদগণদের দিয়ে ধন্য করলেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হলাম। আগেও কয়েকবার এই সৌভাগ্য অর্জন হয়েছে,আলহামদুলিল্লাহ।

এই উম্মাহর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, উম্মাহর দ্বীনের প্রতিটি কথা সুদৃঢ় ও শক্তিশালী চেইনের মাধ্যমে প্রমাণিত। অন্য কোনো উম্মাহর এই সক্ষমতা নেই। আলহামদুলিল্লাহ।

হয়রত শাইখ আব্দুল্লাহ মারুফী সাহেব (দা.বা.) আজকে ইমাম তিরমিজি (রহ.) এর ‘হাসান-গরীব’ পরিভাষা নিয়ে মোটামুটি সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। শ্রোতাদের জন্য যা কাফি-শাফি। অনেক প্রশ্নের সমাধান হয়েছে। ইমাম তিরমিজির উপর আরোপিত অনেক অপবাদ মোচন হয়েছে।

শাইখ সর্বশেষ একটা কথা বলেছেন, যা আমাদের এই বঙ্গের নতুন গবেষকদের জন্য পাথেয় হিসাবে কাজ করবে। তাহল, ‘গবেষণা হওয়া উচিত আকাবির ও আসলাফদের সামাঝ ও মানহাজের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ভক্তি রেখে। উনাদের তানকিহ ও তাহকির করার জন্য নয়। কারণ, উনাদের তানকিহ ও তাহকিরের মাধ্যমে অন্তর রূঢ় হয়ে যায়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সত্যকেও অস্বীকার করে বসে।’

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আকাবির ও আসলাফের মানহাজ মোতাবেক চলার তাওফিক দান করুন। ইলমে নাফে দান করুন। আমীন।

  • লেখক: মুহাদ্দিস, জামিআ ইকরা বাংলাদেশ

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com