৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৪শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

জিকিরের মাধ্যমে দূষিত বাতাস পরিশুদ্ধ করার আহ্বান আল্লামা মাসঊদের

shobgujari

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আল্লাহর জিকির করে, বাতাসে শুদ্ধতা ছড়িয়ে, দূষিত হাওয়া পরিশুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেছেন, বাতাসে এখন দুর্নীতি, মিথ্যা, গীবত, পরনিন্দা ও সবরকমের পাপাচারের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছে। বাতাসে নেক আমলের শুদ্ধতা ছড়িয়ে দিয়ে, আল্লাহ ও তাঁর নামের জিকির করে, বাতাসকে পরিশুদ্ধ করতে হবে।

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) বাদ এশা বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরী আয়োজিত রাজধানীর কদমতলী, মুহাম্মদবাগ আল কারীম তালীমুল কুরআন মিলনায়তনে আত্মশুদ্ধি মূলক ইসলাহি মাহফিলে আওলাদে রাসূল, ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.) এর এই খলিফা এসব কথা বলেন।

প্রতিদনি নির্দিষ্ট একটা সময় আল্লাহ ও তাঁর নামের জিকির করার কথা উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ ‘আল্লাহ ও তাঁর নামের জিকির’। আল্লাহ নামের জিকিরের স্বাদ, আল্লাহ নামের স্বাদ কখনো কমে না, বরং যত বেশি বেশি করবে ততো স্বাদ বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহর নামের জিকিরে কখনো বিরক্তিও আসে না। যে ব্যক্তি যত বেশি জিকির করবে সে আল্লাহর কাছে ততো প্রিয় হতে থাকবে। দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহ ও আল্লাহর নামের জিকিরের চাইতে মধুর কোন শব্দ নেই। তাই আমাদের ঘরে ঘরে জিকিরের আমল জারি করতে হবে।

অন্তরে একমাত্র আল্লাহকে জায়গা দিতে হবে জানিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার মহাসচিব ও জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুর রহীম কাসেমী বলেছেন, আল্লাহর জিকির অন্তরে শান্তি দেয়, মনে প্রফুল্লতা সৃষ্টি করে। জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন হয়। যদি আমরা আল্লাহ মুখী হই। বেশি বেশি করে আল্লাহর জিকির করি। তাহলে অন্তরে শান্তি আসে। এতে করে দ্বীনের কাজকর্ম করতে ভালো লাগে।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তাআলাকে দিলের সাথী, নবীজী মুহাম্মদ (সা.) কে আমলের সাথী এবং সাহাবায়ে কেরামকে চলার সাথী বানাতে হবে। যদি আমরা সর্বদা আল্লাহকে অন্তরে, নবীজীকে আমলে এবং চলার পথে সাহাবায়ে কেরামকে রাখি, তাহলে জান্নাত আমাদের জন্য অনিবার্য হবে।

চারিত্রিক ও আত্মিক ব্যধি থেকে নিজেকে পবিত্র রাখার জন্য আত্মশুদ্ধির প্রয়োজন উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাইফি বলেছেন, মানুষের অন্তর যখন পরিশুদ্ধ এবং আলোকিত হয় তখন তার জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সহজ হয়ে যায়। আর অন্তর পরিশুদ্ধ হয় আল্লাহওয়ালাদের সোহবত ও তাদের পরামর্শ মুতাবিক জীবন পরিচালনা করলে।

তিনি বলেন, বর্তামন সময়ের সবচেয়ে বড় কুতুব ও আল্লাহওয়ালা হলেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব। তিনি মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.) এর খলীফা। আজকে আমরা তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করবো। তাসাউফ ও তাযকিয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের চেষ্টা করবো।

allama masud

পাপকর্মের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মাদানী নগর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমী বলেছেন, আল্লাহর অসংখ্য মহান গুণাবলির একটি হলো ক্ষমা করা। মানুষ যখন আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করে, তওবা করে, তখন আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন। কারণ আল্লাহ তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে তওবা করে, ঈমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎপথে অবিচলিত থাকে।

তিনি বলেন, নবীজী (সা.) ইস্তেগফারের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে বলেন, হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার ও তাওবা করো। কারণ আমি নিজেও দৈনিক শতবার তাওবা-ইস্তেগফার করি। এর মাধ্যমে গোনাহখাতা মাফ করা হয়। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুঃখ-চিন্তা দূর করে উপভোগ্য জীবন দান করা হয়।

ইসলাহি মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী এনায়েতুল্লাহ। বাদ মাগরিব জিকিরের আমল পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সহসভাপতি ও আল কারীম তালীমুল কুরআন মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইহতেশামুল হক। বাদ এশা দুরুদ শরীফের মজলিস পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাইফুর রহমান শোয়াইব।

আত্মশুদ্ধি মূলক মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশের মহাপরিচালক মুফতি আবুল কাসেম, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সহসভাপতি মাওলানা ইব্রাহীম শিলস্তানী, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর নির্বাহী সভাপতি ও ইকরা বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, মাওলানা জামিল আহমদ, মাওলানা জুনাইদ আহমদ প্রমুখ।

মাহফিলে আগত মুসল্লীদের মাঝে আগ্রহীরা মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.) এর এই খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ হাতে বায়আত গ্রহণ করেন। বায়আত শেষে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা ও দেশ-জাতি, করোনা মহামারি থেকে মুক্তি এবং মুসলিম উম্মাহের জন্য শান্তি কামনা করেন তিনি।

আরও পড়ুন: শুধু নামাজ-রোজা পালন করলেই কেউ ভালো হয়ে যায় না : আল্লামা মাসঊদ

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com