জিয়া ১৫ আগস্টের খুনের সঙ্গে জড়িত ছিল : প্রধানমন্ত্রী

জিয়া ১৫ আগস্টের খুনের সঙ্গে জড়িত ছিল : প্রধানমন্ত্রী

জিয়া ১৫ আগস্টের খুনের সঙ্গে জড়িত ছিল : প্রধানমন্ত্রী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের খুনের সঙ্গে জড়িত ছিল বলেই আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটিকে ভিসা দেয়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার আইন করে বন্ধ রেখেছে এবং পাকিস্তানি মদদদাতা আলবদর, রাজাকার, আল-শামসদের মন্ত্রী-উপদেষ্টা করে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে।’ কর্নেল বেগম জিয়াউর রহমানকে চিঠিতে যে নতুন কাজ দেয়ার কথা বলেছিল, তা ১৫ আগস্টের এই হত্যাকা-ের অ্যাসাইনমেন্ট কি না- সে প্রশ্ন করেন শেখ হাসিনা।

রোববার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘১৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চিরতরে নস্যাৎ করে দেয় খুনিরা।’ তিনি বলেন, ‘মীরজাফরের মতোই খুনি মোশতাককে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে ক্ষমতা হাতে নিয়েছিল জিয়াউর রহমান। একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও স্বাধীন দেশে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানিদের হয়ে কাজ করেছেন। খুনিদের বিচার বন্ধ করা, তাদের ব্যাংকক হয়ে লিবিয়া পাঠানোসহ সব কর্মকা- প্রমাণ করে, জিয়াউর রহমান এ হত্যাকা-ের পরিকল্পনায় ছিল।’

স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপতির মেয়ে হয়েও তাদের নাম-পরিচয় গোপন করে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে। খুনিরা বিভিন্ন দূতাবাসে আরাম-আয়েশে জীবন কাটিয়েছে। খুনিদের বিচার না করার ইনডেমনিটি দিয়েছিল জিয়াউর রহমান, আর সন্ত্রাসীদের ইনডেমনিটি দিয়েছিল তার স্ত্রী খালেদা জিয়া।

‘উচ্চ আদালত সামরিক শাসনামলের অর্ডিন্যান্স বাতিল করে দেশকে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা করেছে’ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরে এসেছে।’ দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করা জাতির পিতার কাছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অঙ্গীকার বলেও জানান শেখ হাসিনা।

বিচারবর্হিভূত হত্যার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিংয়ের (বিচারবর্হিভূত হত্যা) কথা আজ সবাই বলে- সবাই ভুলে গেছে যে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে বহু মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ এর পহেলা অক্টোবরের নির্বাচন একটা প্রহসনের নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে বিএনপি মানুষ হত্যা শুরু করে। এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিংয়ের কথা আজ সবাই বলে- সবাই ভুলে গেছে যে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে বহু মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, খুলনায় আমাদের যুবলীগের মাসুম, শেখ হেলালের আপন মামাতো ভাই, তাকে যেভাবে অত্যাচার নির্যাতন করেছিল তাতে শেষে তার মৃত্যু হয়। এরকম শত শত লোককে হত্যা করে তারা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে যত্রতত্র যেখানে সেখানে মানুষকে ধরে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে যুবলীগের কর্মী যাকে যেখানে পেয়েছে নিয়ে হত্যা করেছে। আর সেই হত্যার বিচার হবে না। সেই হত্যার বিচার হবে না, সেই ইনডেমনিটিও খালেদা জিয়া দিয়ে গেছেন।

‘তার স্বামী দিয়ে গেছেন জাতির পিতার হত্যাকারীদের ইনডেমনিটি আর তিনি এসে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে তাদের ইনডেমনিটি দিয়ে গেছেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের রিসার্স সেন্টার দখল করে নেয়। ১৫টি কম্পিউটার, আমাদের বই, ৩শ ফাইল, নগদ টাকা সব কিছু লুট করে সিল করে দেয়। যেন আমরা সেখানে বসে কাজ করতে না পারি। একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকা- চালানোর পথ পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছিল খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *