১৩ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিন ৮০ টাকা থেকে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অকটেন লিটারে ৮৯ টাকা থেকে ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং পেট্রল ৮৬ টাকা থেকে ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ দর গতকাল শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে গতকাল রাত ১০টায় পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল রাতেই তেলের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়। তাতে দাম হয়েছিল ৮০ টাকা লিটার। তার আগে এই দুই জ্বালানি তেলের দাম ছিল লিটারে ৬৫ টাকা।

দাম বাড়ার কারণ ব্যাখ্যায় গতকাল জ্বালানি বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিগত ছয় মাসে (ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত) জ্বালানি তেল বিক্রিতে আট হাজার ১৪ কোটি টাকার বেশি লোকসান দিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পরিস্থিতির কারণে বিপিসির আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে যৌক্তিক মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সরকার সব সময় আমজনতার স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। যত দিন সম্ভব ছিল তত দিন সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চিন্তা করেনি। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটা নিরুপায় হয়েই কিছুটা সমন্বয়ে যেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য কমিয়ে দিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্বিবেচনা করা হবে।

গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে পাশের দেশসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়। ভারত গত ২২ মে কলকাতায় ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ৯২.৭৬ রুপি এবং পেট্রল লিটারপ্রতি ১০৬.০৩ রুপি নির্ধারণ করে। এই মূল্য বাংলাদেশি টাকায় যথাক্রমে ১১৪.০৯ টাকা এবং ১৩০.৪২ টাকা। (১ রুপি=গড় ১.২৩ টাকা)। বাংলাদেশে মূল্য কম থাকায় তেল পাচার হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

এর আগে গতকাল বারিধারার বাসভবনে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছিলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন। তবে জনগণের দুর্ভোগ হয়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না। পাশাপাশি বলেছিলেন, চলতি অথবা আগামী মাসে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে।

এদিকে দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পর গত রাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল বিক্রি ইচ্ছা করে বিলম্বিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন ক্রেতারা। এ সময় রাজধানীর আসাদগেটের একটি পাম্পে তেল নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হতে দেখা যায়। তৈরি হয় যানজট। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্রেতা বলেন, ইচ্ছা করেই তেল দিতে দেরি করা হচ্ছে। কারণ রাত ১২টা বাজলেই তারা বেশি দরে তেল বিক্রি করতে পারবে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com