পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বৃহস্পতিবার রাতটি ইকরা ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে যেন এক স্বর্গীয় আলোয় ভেসে উঠেছিল। শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ-এর আহ্বানে আয়োজিত মাসিক শবগুজারী দেশজুড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। মাসের শেষ বৃহস্পতিবারের এই আত্মশুদ্ধির আসর যেন অন্তরের মরিচা ধুয়ে নেওয়ার এক মহিমান্বিত সুযোগ।
দিনের আলো ফিকে হতে না হতেই মসজিদের আঙিনায় ভিড় জমতে শুরু করে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে মিষ্টি সালাম ও দোয়ার ধ্বনি—‘আস সালামু আলাইকুম’, ‘ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম’। মনে হচ্ছিল, বহুদিনের বিচ্ছেদ শেষে হারানো আপনজনের পুনর্মিলন ঘটছে। মসজিদের প্রতিটি কোণ নূরানী আভায় জ্বলজ্বল করছিল, বাতাসে ভাসছিল আল্লাহর প্রেমের মিষ্টি সুবাস।
মাগরিবের পর রাতব্যাপী শুরু হয় ইবাদতের মহাসাধনা। সমবেত সূরা ওয়াকিআ পাঠ ও ছয় তাসবীহের জিকিরে মসজিদ মুখরিত হয়ে ওঠে। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর বজ্রধ্বনি আকাশ ছুঁয়ে যায়, ‘আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণে হৃদয় শিহরিত হয়। মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর এক টুকরো ভূমি তখন জান্নাতের সৌরভে ডুবে গেছে। প্রতিটি মুখমণ্ডল নূরের আলোয় দীপ্ত, প্রতিটি হৃদয় প্রশান্তির সাগরে নিমগ্ন।
উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—দূরদূরান্তের অসংখ্য মানুষ রাতভর মগ্ন ছিলেন নামাজ, জিকির ও কুরআন তেলাওয়াতে। শেষ রাতের তাহাজ্জুদে মসজিদ যেন রোনাজারির এক অনন্ত স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল। মুসল্লিদের কণ্ঠে আকুল প্রার্থনা, চোখের অশ্রু মেঝেতে ঝরছে, দাড়ি ভিজছে; দৃশ্যটি যেন শিশুর মায়ের কাছে ক্ষমা ও সান্ত্বনা প্রার্থনার প্রতিচ্ছবি।
মাহফিলের আলোচনায় বিশেষভাবে মাদরাসা ছাত্রদের আত্মশুদ্ধিমূলক মেহনতের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। নিয়মিত জিকির-আজকারের চর্চা তাদের অন্তরে ইলমি উদ্দীপনা ও আমলের উন্মাদনা বাড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
জমিয়তে উলামার মহাসচিব মাওলানা আব্দুর রহীম কাসেমী, জামিআ ইকরার রঈস মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ এবং আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ-এর খলিফাগণ তাঁদের হৃদয়গ্রাহী নসিহা পেশ করেন। প্রতিটি বয়ান যেন অন্ধকার হৃদয়ে আলো জ্বালানোর শিখা হয়ে উঠেছিল।
পুরো মাহফিলের ব্যবস্থাপনা ও অতিথি আপ্যায়নে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার তরুণরা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন। জামিআ ইকরার উস্তায ও ছাত্ররা আগত অতিথিদের সেবা-যত্নে আত্মনিয়োগ করে যে দৃশ্য তৈরি করেন, তা ছিল দেখার মতো।
এই রাত ছিল শুধু একটি আয়োজন নয়, বরং আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নূরের বৃষ্টি। সমবেত দোয়ায় সবাই প্রার্থনা করলেন—আল্লাহ যেন এই মেহনতকে কবুল করেন এবং আবারও এমন বরকতময় রাতের মধুর স্বাদ নেওয়ার তৌফিক দান করেন। আমীন।


