১৭ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

টাঙ্গাইলে জ্বলছে কাঠ, পুড়ছে ইট

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আইন অনুযায়ী কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও ঘাটাইলের ১২টি ইটভাটায় অবৈধভাবে জ্বালানি কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতি লিখিতভাবে তালিকা দিয়ে এসব ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অথচ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেই স্থানীয় প্রশাসনের।

ইটভাটা মালিক সমিতির দেওয়া তথ্য মতে, এবার ঘাটাইলে ইটভাটার সংখ্যা ৫৩টি। এর মধ্যে সচল, লিটন, নাঈম, সততা, কেএসবি, বিশাল, কনক, মিশাল, স্বর্ণা-১, স্বর্ণা-২, আরএসএম ও তিনতারা নামে ১২টি ইটভাটায় প্রকাশ্যে ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইটভাটা মালিক সমিতি উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে দাবি জানিয়েছে।

এ ছাড়া বাকি ইটভাটার মালিকরা কেউ কেউ কয়লা দিয়ে ইট পোড়ালেও অনেকেই কয়লার আড়ালে কাঠ পোড়াচ্ছেন। আবার অধিকাংশ ইটভাটারই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। ভাটা মালিকদের দাবি, উচ্চ আদালতে রিট করে চলছে এসব ইটভাটা। অর্থাৎ কারো লাইসেন্স নেই, কারো পরিবেশ ছাড়পত্র নেই, কেউ কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছেন, কেউ সংরক্ষিত বনের পাশে, ফসলি জমিতে এবং বিদ্যালয়ের পাশে গড়ে তুলেছেন ইটভাটা। মালিকরা কোনো আইন মানছেন না, তবুও চলছে ইটভাটা।

সরেজমিনে উপজেলার ঘাটাইল সদর ইউনিয়নে অবস্থিত সচল ও কেএসবি ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, ইট পোড়ানোর জন্য জ্বালানি কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ইট পোড়ানোর কাজে নিয়োজিত ইটভাটা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি ভাটায় ইট পোড়াতে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় দুই শ মণ জ্বালানি কাঠের দরকার হয়। আর এসব কাঠের অধিকাংশই সংগ্রহ করা হচ্ছে সংরক্ষিত বন থেকে। প্রতি মেট্রিক টন কয়লা ক্রয় করতে খরচ প্রায় ২০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, জ্বালানি কাঠে খরচ টন প্রতি মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা। কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো সাশ্রয়ী হওয়ার কারণেই ভাটা মালিকরা কাঠ দিয়ে ইট পোড়াতে আগ্রহী বেশি। ঘাটাইলে মোট বনভূমির পরিমাণ ২৫ হাজার ৭১১ একর। বন বিভাগের ভূমিতে রয়েছে সামাজিক ও সংরক্ষিত বনের প্রচুর গাছ। ইটভাটা মৌসুমে অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীরা প্রতিরাতেই ট্রাক বোঝাই করে বনের কাঠ বিক্রি করে ইটের ভাটায়। বনের অধিবাসী ও পরিবেশবিদদের শঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে বন।

ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বনের কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান সরকার জানান, সব ইটভাটা মালিককে কাঠ দিয়ে ইট পোড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। যারা নিষেধ অমান্য করে কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছেন, সেসব ইটভাটার তালিকা উপজেলা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পরিবেশবান্ধব ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। এ ছাড়া ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করলে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিবেশ তার ভারসাম্য হারাবে।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, আইন অনুযায়ী জ্বালানি কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে তালিকা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হোসেন বলেন, ইটভাটা মালিক সমিতি জ্বালানি কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো ইটভাটার একটি তালিকা দিয়েছে। দ্রুতই এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com