২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

ডিসেম্বরে দেশের প্রথম ই-বাস সার্ভিস চালু করবে ডিএনসিসি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য এ বছরের ডিসেম্বরেই ঢাকার সড়কে দেশের প্রথম পরিবেশ-বান্ধব ই-বাস (ইলেকট্রিক বাস) সেবা চালু হতে পারে বলে জানা গেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ই-বাস আমদানির জন্য কাজ করছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ। এই বাস নগরীর গুলশান, বনানী এবং বারিধারা এলাকায় চলাচল করবে।

প্রথম ধাপে পাইলট প্রকল্প হিসেবে যে চারটি স্কুলে স্কুলবাস চালু হতে যাচ্ছে সেগুলো হলো চিটাগং গ্রামার স্কুল-ঢাকা, স্কলাস্টিকা স্কুল, স্যার জন উইলসন স্কুল ও বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়াল স্কুল।

পরিকল্পনাটি সফল হলে ঢাকার সব স্কুলকে ধীরে ধীরে প্রকল্পের এই আওতায় আনা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যানজট কমাতে স্কুল বাস সার্ভিস একটি কার্যকর উপায় হতে পারে।

জানা যায়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ এরইমধ্যে শেষ করেছে ডিএনসিসি। বর্তমানে একটি কারিগরি কমিটি একটি সমীক্ষা পরিচালনা করছে। এটা অক্টোবরের মাঝামাঝি শেষ হবে। কমিটি বাসের রুট, ভাড়া ও ক্যাচমেন্ট এলাকা নির্ধারণ করবে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বাসের চার্জিং স্টেশন স্থাপনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন। নতুন ই-বাসগুলি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও শুধু স্কুল বাস হিসেবে ব্যবহৃত হবে।”

তিনি বলেন, “বাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরা ও ট্র্যাকিং সিস্টেমসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করবে।”

বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর ঢাকায় কার্বন নিঃসরণ অনেকাংশে কমাতে ও দূষণ কমাতে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে ডিএনসিসি।

এর আগে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ২০১১ সালের জানুয়ারিতে মিরপুর ও আজিমপুরের মধ্যে ১৪টি বাস নিয়ে একটি বিশেষ স্কুল বাস সার্ভিস চালু করে। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে সেবাটি টিকতে পারেনি।

বিআরটিসি মূলত যানজট কমাতে এই সেবা চালু করেছিল। বর্তমানে এই সংকট আরও বেড়েছে। এমন সময়ে ডিএনসিসি একই উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ ও আর্থিকভাবে সুবিধাজনক হওয়ায় বিশ্বের অনেক শহরেই স্কুল বাস পরিষেবা রয়েছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, “অভিভাবকরা ডোর টু ডোর পরিষেবা পছন্দ করায় বিআরটিসি শিক্ষার্থীদের বাসে ওঠাতে ক্যাচমেন্ট এলাকা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।”

তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “কিন্তু ডিএনসিসির নেওয়া নতুন উদ্যোগটি সফল হতে পারে। কারণ এটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।”

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com