১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

তক্তা বিস্কুটের খোঁজে

অলংকরণ: আরাফাত করিম

  • আহমেদ রিয়াজ

বিস্কুটটায় একটা কামড়, মাত্র একটা কামড় দিয়েই বললাম, ‘দারুণ তো! কী বিস্কুট এটা?’

জবাব দিলেন মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, ‘তক্তা বিস্কুট।’

‘তক্তা বিস্কুট!’ আমি অবাক। ‘এতদিন জানতাম ‘তক্তা’ কেবল কাঠের বেলাতেই খাটে। বিস্কুটের বেলায় যে খাটানো যায়, এই প্রথম জানলাম।’

‘হুমম! এটা খাওয়ার আগে পিটিয়ে তক্তা বানানো হয়।’

‘সত্যি! বিস্কুটের নাম তক্তা বিস্কুট?’ আমার সন্দেহ কেবলই ঘন হচ্ছে। এতক্ষণ ছিল ‘বর্গসন্দেহ’। এখন ‘ঘনসন্দেহ’। সন্দেহ কিউবিক।

‘হ্যাঁ। তক্তা বিস্কুট। চাঁদপুরের ঐতিহ্য। জানেন না?’

আমার সন্দেহ এবার ঘন থেকে একেবারে পাতলা ঢ্যালঢ্যালে হয়ে গেল। ঐতিহ্য বলে কথা। ঐতিহ্যের কারণে নামে বৈচিত্র্য থাকতেই পারে।

পরের কামড়ে বিস্কুটটা আমাকে আরো মুগ্ধ করল। বাদাম! এবার দুটো বিষয় নিশ্চিত হলাম। বিষয় নম্বর এক-বিস্কুটে বাদাম দেওয়া হয়েছে। বিষয় নম্বর দুই—আমি করোনা মুক্ত। দাঁতের চিপায় পড়া বাদামের গন্ধও পেয়েছি।

‘এটা কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?’ আমার কণ্ঠে আকুতি।

‘এই দোকানে!’

তাই তো! এই দোকান থেকেই তো কেনা হয়েছে।

‘না, মানে আমি ঢাকায় নিয়ে যেতে চাই। আমার ছেলেরা এ বিস্কুট খুব পছন্দ করবে। বিস্কুট ওদের প্রিয়।’ নিজের পছন্দটা ছেলেদের উপর চাপিয়ে দিলাম একটু বেশি সহানুভূতি পাওয়ার আশায়।

ওই দোকানে আর ছিল না ওই বিস্কুট। আশপাশের দোকানেও নেই। এর তৈরিস্থানের ঠিকুজি জানতে চাইলাম। জবাবে কেবল সঙ্কেত মিলল—হাজী বেকারি।

জীবনে প্রচুর গোয়েন্দা গল্প পড়েছি। দু-চারটে লেখারও চেষ্টা করেছি। আহমেদ রিয়াজের ‘সাতগোয়েন্দা’ বইয়ের একেবারেই শিশুতোষ। কোনো খুনখারাপি নেই। কেবল রহস্য উদঘাটন।

গোয়েন্দা লেখক হিসেবে নেমে পড়লাম হাজী বেকারির সন্ধানে। কারুর কাছে বললেই তো বেকারির ঠিকানা দিয়ে দিত! কিন্তু কাকে বলব? কিভাবে বলব? সবাই ভীষণ ব্যস্ত। সাহিত্য সম্মেলনের ব্যস্ততা। দ্বিতীয় বারের মতো চাঁদপুর সাহিত্য সম্মেলন হচ্ছে।

‘সাহিত্য মঞ্চ’ থেকে সাহিত্য সম্মেলনের নিমন্ত্রণ পেয়েই চাঁদপুর এসেছি। সভাপতি মাইনুল ইসলাম মানিক। লেকচারার। অনুবাদক। লেখক। ফোন দিয়ে জানতে চেয়েছিলেন, সাহিত্য সম্মেলনে থাকতে পারব কি না।

মাটির টান-বড় টান। যত বেশি দূরত্ব তৈরি হয় ততই টান বাড়তে থাকে। রাবার ব্যান্ডের মতো। মনটাও টনটন করে উঠল। চল্লিশ বছর আগে একবার চাঁদপুর সদরে গিয়েছিলাম। এবার গেলে জীবনে দ্বিতীয়বার।

মানিক ভাইকে জানালাম, ‘শেকড়ের সঙ্গে থাকতে চাই। অবশ্যই থাকব।’

দুদিন পর আবার মানিক ভাই কল দিলেন। বললেন, ‘সম্মেলনে শিশুসাহিত্য নিয়ে একটা পর্ব থাকছে। ওই পর্বে আপনি সঞ্চালক।’

তুমুল আপত্তি জানালাম। ‘ভাই, আমি জন্মতোতলা। কথা বলতে গেলে আটকায়। আমার কথা শ্রোতারা বুঝতে পারেন না বলে আমার সন্দেহ। তোতলা যতই দামি কথা বলুক, শ্রোতারা বিরক্ত হবেনই। লেখা দিয়ে পাঠকদের বিরক্ত করে যাচ্ছি চার দশক ধরে। এখন কথা দিয়ে শ্রোতাদের বিরক্ত করতে চাই না। বরং ফারুক হোসেন ভাইকে সঞ্চালক রাখেন, উনি মুগ্ধ করার মতো কথা বলেন। টেলিভিশনেও উপস্থাপনা করেন চমৎকার।’

মানিক ভাই আশাহত করলেন, ‘কিন্তু ফারুক হোসেন ভাই তো সভাপতি। সভাপতি কী করে সঞ্চালনা করেন?’

কথা ঠিক। কিন্তু স্টেজে উঠলেই আমার হাত-পা কাঁপে। আর মাইক্রোফোন হাতে নিলে কাঁপে পুরো শরীর। মুখ দিয়ে কথা বেরোয় না। বেচারা জিহ্বার আর দোষ কী? তবে জিহ্বার দোষ একটা আছে, আমার জিহ্বাটা নাকি বড্ড ভারী। তাই কথা আটকায়। ছোটবেলায় চিকিৎসারও চেষ্টা করা হয়েছিল। অন্যরকম চিকিৎসা।

মাছ ধরার জালের নিচে অনেকগুলো ছোট ছোট ধাতব শিশার টুকরো থাকে। ছোট হলে কী হবে, একেকটা খুব ভারী। জিহ্বার নিচে ভারী এক টুকরো শিশা রাখতে হবে। তাতে নাকি জিহ্বা হালকা হয়ে যাবে। আমার চিকিৎসা শুরু হলো।

জিহ্বার নিচে শিশার টুকরো নিয়ে ঘুরি। কিন্তু তোতলামো তো থামে না। বরং কথা বলতে গেলেই মুখ থেকে শিশার টুকরো পড়ে যায় বারবার। সবসময় ভালো জায়গায় পড়ে না। ওটা আবার ধুয়ে মুখে দিতে হয়। আবার খাবারের সময় শিশার টুকরোকেই খাবার মনে করে চিবোতে থাকি। কী যন্ত্রণা!

ওদিকে মানুষের হাঁচির গতিবেগ ঘণ্টায় একশ মাইল। হাঁচির সময় যদি শিশার টুকরো মুখ থেকে ছিটকে বেরোয়, কী গতিতে ছুটবে? মুখের সামনে যদি কোনো মানুষ থাকে?

আহত নিশ্চিত। তাহলে উপায়?

শিশার ফুটোয় কাইতনের দড়ি ঢুকিয়ে আমার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হলো। এবার মানবসম্প্রদায় আমার মুখবন্দুক থেকে ঝুঁকিমুক্ত হলো। আর আমি হলাম যন্ত্রণামুক্ত। কিন্তু একদিন…

কাইতনের দড়ি ছিঁড়ে সেই শিশার টুকরো খাদ্যনালি বেয়ে আমার পেটে চালান হয়ে গেল। তারপর?

সেই কাহিনি না হয় আরেকদিন।

শিশুবেলায় শিশাসমস্যার সমাধান হয়েছিল। কিন্তু বড়বেলায় তোতলাসমস্যা কাটাই কী করে? একটাই উপায়, না যাওয়া। কিন্তু তারও দুদিন পর মানিক ভাই আরো আন্তরিকতার সঙ্গে জানালেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার দিতে যাচ্ছি। শিশুসাহিত্যে আপনি সে পুরস্কার নিতে রাজি আছেন?’

পুরস্কার দেওয়ার বেলায়ও যে কেউ এতটা বিনয় ও আন্তরিকতা দেখাতে জানেন, জীবনে প্রথমবার জানলাম। আমার বিবেক জবাব দিলো, আন্তরিকতার জবাব আন্তরিকই হওয়া উচিত। মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের মতো ব্যক্তিত্বের নামে প্রবর্তিত পুরস্কার! এ তো পরম সৌভাগ্য। সৌভাগ্য বলে কয়ে আসে না। হুটহাট আসে। কিন্তু আমার তোতলামো বলে কয়ে আসে। কথা বললেই আসে। এখন সঞ্চালনার কী হবে? আমি কি গুছিয়ে বলতে পারব? আমার জন্য পর্বটা ঝুলে যাবে না তো? আমার তোতলামোর ঝুঁকিটা রয়েই গেল। কিন্তু কী অবাক! আমাকে বাঁচিয়ে দিলো ওই তক্তা বিস্কুট।

জীবনে প্রথমবারের মতো তক্তা বিস্কুটের স্বাদ নিতে গিয়ে, জীবনে প্রথমবারের মতো সঞ্চালক হওয়ার সুযোগ থেকে রেহাই পেলাম।

তক্তা বিস্কুট খেতে গিয়ে দেরি করে ফেলেছি। অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখি, শিশুসাহিত্যের পর্ব শুরু হয়ে গেছে। মানিক ভাই উদ্বিগ্ন হলেও আন্তরিকতাপূর্ণ প্রশ্ন, ‘কোথায় ছিলেন? অনুষ্ঠান তো শুরু হয়ে গেছে!’

অনুষ্ঠান শুরুর পর ‘সঞ্চালক’ আমি গেলাম মঞ্চে। জানলাম সঞ্চালকের অভাবে সভাপতি নিজেই সঞ্চালনা করছেন। সঞ্চালনা থেকে এভাবে রেহাই মিলবে ভাবিনি। ভীষণ উচ্ছ্বসিত হয়ে মঞ্চে চেয়ার টেনে বসলাম। কিন্তু আমার উচ্ছ্বাস চীনা প্রোডাক্টের মতো বেশিক্ষণ টিকল না।

বরং আমাকে পেয়েই উচ্ছ্বসিত হয়ে মাইক্রোফোন হাতে ধরিয়ে দিলেন সভাপতি। ‘যাক আপনি এসেছেন। এবার সঞ্চালনা করুন।’

মাইক্রোফোন ফিরিয়ে দিয়ে বললাম, ‘আপনিই করুন না।’

‘না, না। আমি তো সভাপতি।’ মাইক্রোফেন নিলেন না তিনি।

‘তাতে কী! সভাপতি সঞ্চালনা করতে পারবেন না, এমন তো কোনো নিয়ম নেই।’

সভাপতি পাল্টা যুক্তি দিলেন, ‘খারাপ দেখায়।’

আমিও নতুন যুক্তি খাড়া করলাম, ‘কিসের খারাপ দেখায়? আপনি বরং ভালো করছেন। আমি এত ভালো সঞ্চালনা কখনো করতে পারতাম না।’

সভাপতিকে গছিয়ে দিলাম মাইক্রোফোন। আর তক্তা বিস্কুটকে দিলাম ধন্যবাদ।

কিন্তু তক্তা বিস্কুটের হদিস পাই কী করে? হাজী বেকারির খোঁজ করতেই হবে।

রাতের খাবার সেরে বিস্কুটের দোকান দেখলেই ঢুঁ মারি। দোকানিরা জানতে চান, ‘কী খুঁজছেন?’

‘ভাই, তক্তা বিস্কুট আছে?’

‘কী রকম বিস্কুটটা?’

‘গোল গোল। ভিতরে বাদাম দেওয়া। মুড়মুড়ে।’

‘নেই।’

এক দোকানদার একটা বিস্কুটের প্যাকেট দেখিয়ে বললেন, ‘এই যে তক্তা বিস্কুট। কয় প্যাকেট দিব?’

খুশি হয়ে বিস্কুটের প্যাকেটের দিকে তাকাই। স্বচ্ছ পলিথিনের প্যাকেট। বললাম, ‘এটা তক্তা বিস্কুট নয়।’

‘এটাই তক্তা বিস্কুট।’

‘আমি এই বিস্কুট চিনি। এটাকে টোস্ট বিস্কুট হিসেবেই ছোটবেলা থেকে জানি।’

দোকানিও নাছোড়বান্দা, ‘এটাই আমরা ছোটবেলায় তক্তা বিস্কুট হিসেবে খেতাম। দেখেন না তক্তার মতো দেখতে!’

যুক্তি ঠিক। চারকোনা টোস্ট বিস্কুট দেখতে তক্তার মতো। তবে এটা তক্তা বিস্কুট নয়। নামে কী আসে যায়? নাম ধলামিয়া হলেও তার গায়ের রং কালো হতে পারে। আবার কালামিয়া নামের কেউ ফরসাও হতে পারেন।

বিরক্ত হয়ে তক্তা বিস্কুট খোঁজাখুঁজি বাদ দিলাম। সার্কিটা হাউসে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। এবং বিছানায় গা ঠেকাতে না ঠেকাতেই ঘুম।

পরদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই অবাক হলাম। জীবনে এই প্রথমবার ঘরের বাইরে রাতে ঘুম এলো। নতুন জায়গায় প্রথম রাতে আমার ঘুম আসে না। আসলেও দেরিতে। কিন্তু চাঁদপুরে কেন এলো? মাটির টান।

মাটির টান না ছাই! ওটা বিছানার গুণ। কুকুরের পেটে যেমন ঘি সয় না, তেমনি আমার শরীর হোটেলের তুলতুলে বিছানাকে সহজভাবে নিতে পারে না। কিন্তু চাঁদপুর সার্কিট হাউজের বিছানা ফোমের নয়। জাজিমের ওপর পাতলা তোশক। একেবারে ঘরোয়া বিছানার মতো।

দারুণ ঘুম দিয়ে উঠেই বেরিয়ে পড়লাম। অটোঅলাকে বললাম, ‘হাজী বেকারি চেনেন?

‘চিনি।’

‘ওখানে চলুন।’

হাজী বেকারি চেনে এমন অটো অলা পেয়ে মনটা খুশি হলো। নতুন বাজারে দামি দামি রেস্টুরেন্ট। দামি দামি বেকারি। কয়েকটা বেকারি ঘুরলাম। কিন্তু হাজী বেকারির সন্ধান মিলল না। অটোঅলাকে বললাম, ‘আপনি তো চেনেন বলেছিলেন!’

এবার আত্মসমর্পণ করলেন অটোঅলা, ‘হাজী বেকারি চিনি না। কিন্তু হাজী বেকারির চেয়ে ভালো বেকারি চিনি। এই যেমন…’

মেজাজ খিঁচড়ে গেল। ‘থাক। আমাদের নামিয়ে দিন।’

অটো থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করলাম। এর মধ্যেই ঢাকা বেকারি থেকে জানতে পারলাম, হাজী বেকারি নতুন বাজারে নয়, পুরান বাজারে। নদীর ওপার।

নদী কেন, তক্তা বিস্কুটের জন্য সমুদ্র পাড়ি দিতেও আমি প্রস্তুত। সেতু পেরিয়ে পুরানবাজার চলে গেলাম হাজী বেকারির খোঁজে। এক দোকানে জানতে চাইলাম, ‘ভাই তক্তা বিস্কুট আছে?’

দোকানি অবাক, ‘এই নামে কোনো বিস্কুট আছে বলে তো জানি না। আমি লোকাল বেকারির বিস্কুট বিক্রি করি না। আমার দোকানের সব বিস্কুট ঢাকা থেকে আমদানি করা।’

‘ওটা হাজী বেকারি তৈরি করে। হাজী বেকারি কোথায়?’

‘হাজী বেকারি তো আমার বাসার কাছে। আপনি এই রাস্তা ধরে পাঁচ মিনিট হাঁটলেই হাজী বেকারি পাবেন।’

বলেই একটা রাস্তা দেখিয়ে দিলেন।

যাক শেষ পর্যন্ত হাজী বেকারির অস্তিত্বের খোঁজ মিলল। আর হাজী বেকারির অস্তিত্ব থাকা মানে তক্তা বিস্কুটের অস্তিত্ব।

হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ দেখলাম বেকারির এক সাপ্লায়ার। হাতে কয়েক ধরনের বিস্কুট ও পাউরুটি। এবং তাঁর এক হাতে সেই তক্তা বিস্কুট। আমি চেঁচিয়ে উঠলাম, ‘এই তো। এই তো।’

সাপ্লায়ার ঘাবড়ে উঠলেন। অচেনা কেউ কারো হাতের দিকে তাকিয়ে ‘এই তো এই তো’ বলে চেঁচিয়ে উঠলে ঘাবড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। আমি বললাম, ‘ভাই, গতকাল রাত থেকে এই বিস্কুটটা খুঁজছি। এখন আপনার হাতে দেখলাম। ওই তক্তা বিস্কুট কিনব।’

জবাব পেলাম, ‘এর নাম তক্তা বিস্কুট নয়। বাদামি বিস্কুট।’

হতেই পারে। কারণ তক্তার সঙ্গে এই বিস্কুটের কোনো সম্পর্ক নেই। ভিতরে যেহেতু বাদাম দেওয়া, তাই বাদামি বিস্কুট নামটাই সার্থক। দেখতেও বাদামি রঙের।

জানতে চাইলাম, ‘হাজী বেকারি কোনদিকে? বাদামি বিস্কুট কিনব।’

‘এই বিস্কুট তো হাজী বেকারি বানায় না।’

আবার চুমসে গেলাম। মুখটা আমসি করে জানতে চাইলাম, ‘তাহলে? কে বানায় এই বিস্কুট?’

‘এই বিস্কুট বানায় আলম বেকারি।’

‘হাজী বা আলম যে-ই বানাক, সেটা বিষয় নয়। যে বানায় তার থেকেই কিনব। আলম বেকারি কোনদিকে?’

‘আজ তো বেকারি বন্ধ।’

‘বন্ধ! সাপ্তাহিক বন্ধ?’

‘না। চিনি, ময়দার দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সব বেকারিতে ধর্মঘট চলছে। উৎপাদন বন্ধ।’

‘কিন্তু আমার এই বিস্কুট দরকার। ঢাকা থেকে এসেছি।’

তক্তা বিস্কুটের জন্য ঢাকা থেকে আসা! বিষয়টাকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিলেন লোকটি। ‘আচ্ছা দেখি আমার গাড়িতে আছে কি না।’

বলেই নিজের বিস্কুটের গাড়ির পিছনের ডালা খুললেন। ভিতরে অল্প কয়েক রকমের বিস্কুট। বাদামি ওরফে তক্তা বিস্কুট নেই। বললেন, ‘নাহ। আর নেই। তবে এখানে দশটা বিস্কুট আছে। এ কয়টা নিতে পারেন।’

তাঁর হাতে থাকা দশটা বিস্কুটের প্যাকেটটা দিলেন আমার হাতে। তাতেই আমরা খুশি। দশটা বিস্কুট তো পাওয়া গেল!

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com