তাবলীগ সাথীদের বাড়ি পাঠাতে ট্রেন থামিয়ে রাখেন মাহমুদ মাদানী

তাবলীগ সাথীদের বাড়ি পাঠাতে ট্রেন থামিয়ে রাখেন মাহমুদ মাদানী

তাবলীগ সাথীদের বাড়ি পাঠাতে ট্রেন থামিয়ে রাখেন মাহমুদ মাদানী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হঠাৎ করেই ভারতজুড়ে লকডাউন অবস্থা হয়ে গেলো অসংখ্য মানুষ আটকা পড়ে বিভিন্ন জায়গায়। কেউ কেউ হেঁটে হেঁটে পা ফুলিয়েছেন। আবার কেউ কেউ পথেই জীবন দিয়েছেন এমন খবরও গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। দিল্লিতে আটকে যাওয়াদের নিয়ে কাজ করছিলো আওলাদে রাসূল সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী। হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি। আটকে পড়াদের সার্বিক সেবা দিয়ে আসছিল জমিয়ত ইয়ুথক্লাবের নওজোয়ানরা।

১৭ মে ২০২০ দৈনিক সাহাফাত সূত্রে জানা যায়, দিনের দুপুর তিনটায় পুরনো দিল্লীর রেলস্টেশন থেকে তামিল নাড়ুর উদ্দেশে ৬৪৪ জন ঈদের আগেই ট্রেন ধরতে পেরেছেন। তাবলিগ জামাতের দুই হাজারের বেশি সদস্য দিল্লীতে আটকে পড়েছিল। এদের কেউ কোয়ারেন্টাইন সেন্টার, হাসপাতালে দেড় মাস পর্যন্ত ছিল। এই দুই হাজার মুসল্লিকে যার যার বাড়িতে পাঠানোর কাজ করছিলেন জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারী সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী। শনিবার একসঙ্গে তামিল নাড়ুর উদ্দেশে ৬৪৪ জনকে পাঠাতে সক্ষম হন ভারতের জনপ্রিয় এই আলেম।

যাওয়ার সময় নিজেদের আবেগ ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। হাত নেড়ে নেড়ে সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানীর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছেন তাবলীগের এই মুসল্লিরা। জমিয়ত ইয়ুতক্লাবের সদস্যদের কাছেও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, জমিয়ত ইয়ুত ক্লাবের সদস্যদের এই খেদমতের কথা তারা কখনোই ভুলবে না।

সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী এই দুঃসময়ে আটকে পড়া মানুষদের জন্য সাহরি, ইফতার ও রাতের খাবারের সার্বিক ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। এসব খাবার দাবার পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পালন করেছে জমিয়ত ইয়ুথক্লাব।

জমিয়ত টিমের বেশ কিছু লেগে গেছে সরকারিভাবে আটকে পড়াদের বাড়ি পাঠানোর অনুমতিপত্র পেতে। সফরের অনুমতিপত্র, সফরের ব্যবস্থাপনা, পুলিশি সহযোগিতায় বিভিন্ন সেন্টার থেকে মুসল্লিদের খোঁজে বের করার দায়িত্ব পালন করে জমিয়ত টিম।

জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারী মাওলানা হাকিমুদ্দীন কাসেমীর নেতৃ্ত্বে প্রথমেই একটি কমিটি করা হয়। যারা পৃথক পৃথক সেন্টারগুলো থেকে খোঁজে বের করবেন আটেকপড়া তাবলীগ জামায়াতের সাথীদের।

তাবলীগী মুসল্লিদের তামিলনাড়ুতে নিয়ে যাবার জন্য সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানীর কথায় পুরনো দিল্লীর রেল স্টেশনে ট্রেন আটকে রাখেন একঘণ্টা। নির্ধারিত সময়ের একঘণ্টা পর যাত্রা করে ট্রেন। কারণ, বিভিন্ন কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে সবাইকে নিয়ে আসতে বিলম্ব হচ্ছিল। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মাহমুদ মাদানির  এই আবেদনে সাড়া দিয়ে ট্রেন পরে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

জমিয়ত সেক্রেটারী হাকিমুদ্দীন কাসেমী বলেন, জমিয়তে উলামা হিন্দ নেতৃবৃন্দ চেন্নাই স্টেশনে মুসল্লিদের এস্তেকবাল করবেন। যার যার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন ইনশাআল্লাহ।

এছাড়াও আটকে পড়া মুসল্লিদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছিলেন, মাওলানা মনসুর কাশফী, মাওলানা খতীব আহমদ সাইদ, হাজী হাসান চেন্নাই, ডক্টর আমজাদ, মাওলানা আবদুল হামিদ, হাজী নেসার আহমদ প্রমুখ।

জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারী জেনারেল আওলাদে রাসূল সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী সরকারের কৃতজ্ঞতা আদায় করে বলেন, আমরা শুকরিয়া জানাই সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিতদের। তাদের সহযোগিতায় আমরা আটকেপড়া মুসল্লিদের বাড়ি পৌঁছানোর কাজটি করতে পারলাম।

তিনি সবাইকে যাওয়ার আগে মহান আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দুআও করেন।

সূত্র :
জমিয়তে উলামা হিন্দ কেন্দ্রীয় অফিস দিল্লী
দৈনিক সাফাহাত, দিল্লী

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *