৬ই মার্চ, ২০২১ ইং , ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২২শে রজব, ১৪৪২ হিজরী

তামিমের নেতৃত্ব দেখতে মুখিয়ে ডোমিঙ্গো

তামিমের নেতৃত্ব দেখতে মুখিয়ে ডোমিঙ্গো

তিন পেসার ছাড়া কোচ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ২০১৯ সালের আগস্টে বাংলাদেশের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন রাসেল ডোমিঙ্গো। কিন্তু দায়িত্ব নেয়ার পর তামিম ইকবালের নেতৃত্ব দেখার সুযোগ হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচের।

তামিম ওয়ানডের পূর্ণকালীন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান গত বছরের মার্চে। কিন্তু জাতীয় দলকে একটি ম্যাচেও নেতৃত্ব দিতে পারেননি। মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ওই সিরিজের পরই করোনার কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর বাংলাদেশ আর কোনো ওয়ানডে খেলেনি। করোনার পেটে গেছে পাকিস্তানের মাটিতে একটি ওয়ানডে এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। ডোমিঙ্গো-তামিম জুটিকে তাই আর দেখা যায়নি। এবার সেই সুযোগ আসছে। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পরই (২০ জানুয়ারি) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামছে টাইগাররা, যে সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দেবেন তামিম।

পূর্ণকালীন না হলেও তামিমের অবশ্য জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতা আছে। মাশরাফির অনুপস্থিতিতে ২০১৯ সালের জুলাইতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ওয়ানডের সিরিজে তিনি দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৭ সালে মুশফিকুর রহীমের চোটের কারণে একটি টেস্টেও অধিনায়কত্ব করেছিলেন তামিম।

তামিমের অধিনায়কত্ব এবার সামনে থেকে দেখতে মুখিয়ে রয়েছেন ডোমিঙ্গো। টাইগার কোচ বলেন, ‘আমি দলের সঙ্গে যোগ দেয়ার পর এবারই তামিম প্রথম ওয়ানডে দলকে নেতৃত্ব দেবে। আমি জানি ২০১৯ সালে সে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে কাজ করা আমি খুব উপভোগ করছি।’

ডোমিঙ্গো মাঠের বাইরের তামিমকেও উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় ভাসালেন। তিনি বলেন, ‘সে খুবই কেয়ারিং একটা ছেলে। সে চায় দলের সব খেলোয়াড় যাতে আত্মবিশ্বাসী থাকে, স্বস্তিবোধ করে। খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থাও যাতে ঠিক থাকে, সেই খেয়াল সে রাখে। আমি তার সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে রয়েছি এবং যতটা সম্ভব তাকে সমর্থন দিতে চাই।’

ডোমিঙ্গো যোগ করেন, ‘তার মনটা ঠিক জায়গাতেই আছে। সঠিক লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সে খেলছে। সে ভালো করতে চায়। নিজের নেতৃত্ব এবং পারফরম্যান্স পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের সামর্থ্য আছে তার। সে এটা নিয়ে দারুণ সজাগ। অধিনায়কত্বটা যেন ভালোভাবে শুরু হয়, সেই প্রচেষ্টা তার আছে।’

এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে পেসারের সংখ্যা ৬ জন- রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। এদের সঙ্গে যোগ হলেন টেস্টের প্রাথমিক স্কোয়াডে থাকা খালেদ আহমেদ। সবমিলিয়ে সাত পেসার নিয়ে সোমবারের অনুশীলন পর্ব কাটাল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

স্কোয়াডে ছয় পেসারের বিপরীতে বিশেষজ্ঞ স্পিনার মাত্র একজন- তাইজুল ইসলাম। এছাড়া স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে আছেন সাকিব আল হাসান, মেহেদি হাসান মিরাজ, শেখ মেহেদি হাসান ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। পেস বোলারদের আধিক্যই দিয়েছে বার্তা, চিরাচরিত স্পিন নির্ভর আক্রমণ থেকে বেরিয়ে এবার হয়তো গতিময় বোলিংয়ের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ দল। যা নিশ্চিত করেছেন হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো।

সোমবার দুপুরে ওয়ানডে সিরিজকে সামনে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টাইগারদের হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। যেখানে উঠে এসেছিল দলের পেস-স্পিন বিষয়ক পরিকল্পনার কথাও। তখন ডোমিঙ্গো সাফ জানিয়েছেন, স্পিন নির্ভরতা থেকে বের হতে চান তিনি, একাদশে সবসময় রাখতে চান অন্তত তিন পেসার।

তবে কন্ডিশনও বিবেচনায় আনা হবে জানিয়ে ডোমিঙ্গো বলেন, বোলিং আক্রমণের চেহারা কন্ডিশনের উপর নির্ভর করবে। আমাদের সাকিব আছে, যে ১০ ওভার বল করবে। উপমহাদেশের আরেকজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার দলে চাইব। সে কে হবে, এটা আমাদের ঠিক করতে হবে। উপমহাদেশে ২০ ওভার স্পিনারদের দিয়ে করাতে চাইবে সবাই। সঙ্গে এক-দুই জন অনিয়মিত স্পিনার থাকতে পারে।

পাশাপাশি একাদশে পেসারদের গুরুত্ব বুঝিয়ে তিনি বলেন, ‘দলে যথেষ্ট পেসার থাকাটা নিশ্চিত করতে হবে, যেন উইকেটে কোনো সুবিধা থাকলে সেটা তারা নিতে পারে। বিশেষ করে এই শীতের সময় যখন খেলা শুরু হবে সকাল সাড়ে ১১টায়। কুয়াশা ও শিশিরের জন্য প্রথম ঘণ্টায় একটু মুভমেন্ট থাকতে পারে। দুই দিকই কাভার করাটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

টাইগার হেড কোচ জোর দিয়ে বলেছেন, ওয়ানডে একাদশে সবময়ই তিন পেসার চান তিনি, ‘এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, আমরা ওয়ানডেতে সব সময় তিন পেসার খেলাতে চাই। এই মুহূর্তে দলে রোমাঞ্চকর কিছু তরুণ পেসার আছে। শরিফুল, হাসান মাহমুদ আছে। রুবেল, মুস্তাফিজ খুব ভালো বোলিং করছে। উন্নতির ছাপ আছে তাসকিনের বোলিংয়ে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘দলে জায়গার জন্য অনেকেই লড়াই করছে। ওদের ওয়ানডে খেলার সুযোগ আমাদের করে দিতে হবে। কেবল স্পিননির্ভর একটা দলে পরিণত হতে পারি না আমরা। ছয় সপ্তাহের মধ্যে আমাদের নিউজিল্যান্ডে যেতে হবে। আমি বলে দিতে পারি, সেখানে আমরা কেবল একজন স্পিনার খেলাব। তাই আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য আমাদের পেসাররা তৈরি। তিন পেসার ছাড়া আমি কোনো ওয়ানডে খেলব না।’

নিউজটি শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com