১৯শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১৭ই শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

তাড়াইল ইসলাহী ইজতেমার অপেক্ষা

তাড়াইল ইসলাহী ইজতেমার অপেক্ষা

আমিনুল ইসলাম কাসেমী

আগামী ১২. ১৩. ১৪ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানাধীন বেলংকাতে তিন ব্যাপী ইসলাহী ইজতেমা শুরু হবে। আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব দামাতবারাকাতুহুম -এই ইজতেমাতে প্রধান মেহমান হিসেবে থাকবেন।

কয়েকদিন ধরে মনটা বেশ ছুটে চলেছে। তাড়াইল ইজতেমাতে যেতে হবেই। এবার আর কোন গাফলতি নয়। কয়েকবছর ধরে যাব যাব করে যাওয়া হয় না। তাই আগে- ভাগে এবার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাড়াইলে কোনদিন যাই নি। এমনকি কিশোরগঞ্জেও নয়। শুনেছি কিশোরগঞ্জের বহু গল্প। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ শহরের জামেয়া ইমদাদিয়া এবং শহিদী মসজিদের কথা বহুবার লোক মুখে শোনা পড়েছে। মাওলানা আতহার আলী রহ.- এর প্রতিষ্ঠিত জামেয়া। যেটা ঐ অঞ্চলের সুপ্রসিদ্ধ এক প্রতিষ্ঠান। আমাদের কাজী সাহেব হুজুর সেই জামেয়াতে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন। আবার বর্তমান আমাদের শায়েখ আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব উক্ত প্রতিষ্ঠানের ছাত্র আবার তিনি পরে সেখানকার অধ্যাপক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

শহিদী মসজিদের ইমাম ও খতীব ছিলেন মাওলানা আতহার আলী রহ.। যিনি সেই মসজিদে বসে এদেশের ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতেন। বড় আজীব বিষয় ছিল, মসজিদ থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সেই আন্দোলন এদেশে বৃহৎ এক ইসলামী শক্তিতে রুপান্তরিত হয়েছিল। মাওলানা আতহার আলী সাহেব এখানে বসেই নেজামে ইসলাম পার্টি গঠন করেন। যে পার্টি সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক আসন দখল করে নেয়।

কিশোরগঞ্জে রয়েছে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ। যেখানে দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বহু পুরোনো ঈদের ময়দান সেটা। যুগ যুগ ধরে শুনে আসছি সেই ঈদের জামাতের গল্প। কিন্তু কোনদিন স্বচক্ষে দেখা হয়নি।

বুজুর্গ মনীষীদের স্মৃতি বিজড়িত জায়গা হল কিশোরগঞ্জ। সেখানে গেলে নিঃসন্দেহে অনেক অজানা বিষয় জানা যাবে। অনেক অভিজ্ঞতা হাসিল হবে। এজন্য এখন থেকে মনটা ছুটে চলেছে। কবে রওয়ানা হব, কিভাবে যাব, সব কিছুর প্রস্তুতি এখন থেকে চলছে।

গাড়ী ওয়ালার সাথে কথা বলেছি। কথা পাকাপাকি। ইনশাআল্লাহ যাব এবার তাড়াইলের ইজতেমাতে। দিন গুনছি, কবে আসবে ১২ ফেব্রুয়ারি। সবচেয়ে বড় কথা হল, ইসলাহী ইজতেমাটা বেশী উপকারী হবে সকলের। এখন ওয়াজ মাহফিলে মানুষের ফায়দা কম। সুরেলা বক্তা আর কমার্শিয়াল বক্তাদের দাপটে ওয়াজের ময়দান থেকে রুহানিয়্যাত উঠে গেছে। এছাড়া ওয়াজ মাহফিলে এখন ওয়াজ নেই। বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা ওয়াজের মঞ্চে বসে হুমকি – ধমকি দিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি করেছে। যার কারণে ওয়াজের ময়দান বিতর্কিত। এবং মানুষের ফায়দাও কম।

এই সংকটকালে ফেদায়ে মিল্লাতের খলীফা, তাজুল উলামা, দারুল উলুম দেওবন্দের সূর্যসন্তান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব ইসলাহী ইজতেমার আহবান করেছেন। প্রতিটি বছর এই তাড়াইলের বেলংকাতে প্রোগ্রামটি করেন। মানুষের ঢল নামে সেখানে। দূর- দূরান্ত থেকে মানুষ জমা হয়। মানুষকে খালেছ দ্বীনি কথার মাধ্যমে দাওয়াত পৌঁছিয়ে থাকেন।

আল্লামা মাসঊদ সাহেব এভাবে দেশব্যাপী তাঁর মিশন অব্যাহত রেখেছেন। জেলায় – উপজেলায় তিনি ছুটে বেড়াচ্ছেন। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। একদম নিঃস্বার্থভাবে তাঁর এই অভিযান। ঠিক তাড়াইলের বেলংকাতে তারঁই মেহনত – প্রচেষ্টায় ইসলাহী ইজতেমা সফল হচ্ছে প্রতিটি বছর। এবার আমরা আশাবাদী ইজতেমাটি ভরপুর কামিয়াব হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা প্রতিক্ষায় রইলাম। আল্লাহর অনুগ্রহ যেন আমাদের উপর থাকে। দুআ চাই। আল্লাহ কবুল করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com