তিন তালাক ইস্যুতে সরকারের হস্তক্ষেপ উচিত নয় : মাওলানা মাহমুদ মাদানী

তিন তালাক ইস্যুতে সরকারের হস্তক্ষেপ উচিত নয় : মাওলানা মাহমুদ মাদানী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতে তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও লেকসভায় সংখ্যা গরিষ্ঠতার জোরে তিন তালাক বিল পাস করিয়েছেন দেশটির নরেন্দ্র মোদি।

কেন্দ্র সরকার তাৎক্ষণিক তিন তালাক বিল পাস করিয়ে যখন জয়োল্লাস করছে, সেই সময়ই কেন্দ্রের সমালোচনা সর্ব হলেন জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদ মাদানী।

তিন তালাক নিয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপর তীপ্র সমালোচনা করে মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, তিনি তালাকের বিষয় পুরোপুরি একটি ধর্মীয় বিষেয়। এক্ষেত্রে সরকার হস্তক্ষেপ কোনভাবেই উচিৎ নয়। তিন তালাক যেহেতু ধর্মীয় বিষয়, তাই এ নিয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণের ভার ধর্মীয় নেতাদের হাতেই কেন্দ্রের ছেড়ে দেওয়া উচিৎ।

ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা তিন তালাকের অপব্যবহার করেছেন তাদেরকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি। তিনি বলেন, শরীয়ত আইনের খেলাপ করেই তাৎক্ষণিক তিন তালাক দিয়ে থাকেন। যা আদৌ উচিৎ নয়। তিন তালাকের যে অপব্যবহার হচ্ছে, তা রুখতে সমগ্র মুসলিম সমাজকে যৌথভাবে উদ্যোগী হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের উদ্যোগে মবলিঞ্চিং, উগ্র সাম্প্রদায়িকতা সহ দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পক্ষেপট নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের গার্লস ইসলামিক অর্গানাইজেশনের সভানেত্রী সফিউন্নেসা বলেন, ‘লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকার ট্রিপল তালাক সংক্রান্ত যে বিল পাস করেছে তাতে সরকার মুসলিম নারীদের সুবিচার দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করছে। কিন্তু আমরা যদি বাস্তব ক্ষেত্রে দেখি তাহলে দেখা যাবে আসলে এখানে সুবিচারের পরিবর্তে তাদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। কেননা যে বিষয়টা একটা পারিবারিক ও সামাজিক বিষয় তাতে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনে স্বামীকে তিন বছর কারাদণ্ড দেয়া হবে। ওই পরিবারের ভরণপোষণের ব্যাপারে কোনো ভাবনা নেই। তাদেরকে অনুদান দেয়া হবে হবে কি না, তারা সাহায্য সহযোগিতা পাবেন কি না তা নিয়ে সরকার কোনো কথা বলেনি বা ঘোষণাও দেয়নি যে স্বামীকে তিন বছর জেলে দেয়ার পরে আমরা ওই পরিবারের দায়িত্ব পালন করব। স্বামীকে যদি জেলে পাঠানো হয় তাহলে সেই পরিবারের কী হবে? তার স্ত্রী, তার ছেলে-মেয়েরা আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে পড়বেন। সুতরাং তাদেরকে কীভাবে সুবিচার দেয়া হচ্ছে?’

তিনি বলেন, ‘ইসলামে ট্রিপল তালাকের বিষয়টি একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। মুসলিম সমাজে যা খুব কম ও নগণ্য পরিমাণে ঘটে। আমরা একে মাইক্রোস্কপিক ঘটনা বলতে পারি। এটা যাতে না ঘটে সেই বিষয়ে মুসলিমদের সচেতন করলেই এই সমস্যার সমাধান সহজেই হয়ে যাবে। ইসলামের মধ্যে ইনস্ট্যান্ট ট্রিপল তালাকের ঘটনা নেই। সেখানে যেহেতু একটা সুন্দর পদ্ধতি আছে। সেই পদ্ধতিকে জানানো হলেই ইনস্ট্যান্ট ট্রিপল তালাকের যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে তা কমানো সম্ভব হবে।’

জিআইও সভানেত্রী বলেন, ‘যদি মুসলিম নারীদের প্রতি সুবিচারের এতই ইচ্ছা থাকে তাহলে ইতিপূর্বে বিভিন্ন দাঙ্গার ঘটনায় মুসলিম নারীরা যে দুর্ভোগে পড়েছিলেন তাদের উন্নয়ন, তাদের বাসস্থান, আর্থিক দিক থেকে তুলে আনার জন্য কোনো পদক্ষেপ এ পর্যন্ত নেয়া হয়নি কেন?’

গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *