পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতে বহুল আলোচিত তিন তালাক বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তে পালপুর ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার জেনারেল সেক্রেটারি এইম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, তিন তালাক বিষয়ে আদালতের এ সিদ্ধান্ত ভারতীয় নারীদের জন্য কোনও সুখকর বিষয় নয়। বরং এ সিদ্ধান্ত ভারতীয় মুসলিম ধর্মালম্বীদের ভেতর একটি নিশ্চিত অনৈক্য তৈরীর রাজনৈতিক চাল।
মুসলিম নারীদের পরিপূর্ণ ইনসাফ দিতে বর্তমানে গৃহীত আইনটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হলেও হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত ফলপ্রসূ হবে বলে মনে হয় না। কারণ মুসলিম নারীদের জীবনাচরণ, তাদের নিয়মানুবর্তীতা এবং অন্যান্য বিষয়াদির সঙ্গে এর তেমন কোনও মিলই নেই।
উল্লেখ্য, তিন তালাক বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মুসলিম ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং নেতাদের কোনও দ্বিমত নেই। তবে এমন অনিশ্চিত ও সাজাপ্রাপ্তের মতো অপরাধকে বৈধ সাব্যস্ত করণ পুরো নিয়মবিরুদ্ধ। এতে সমস্যাগ্রস্ত নারীরা আরো বেশী পেরেশানিতে পতিত হবে। নিঃসন্দেহে ভারতীয় মেয়েদের ঘরে বাইরে সব জাগাতেই একরকম অনৈতিকতার স্বীকার হতে হয়। এবং সবকিছু মিলিয়ে তাদের অবস্থাটি এমন যেন তাদের দয়া করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, এ্যাবরোশনসহ নানান অপরাধ ঢালাওভাবে দায়ের করা হচ্ছে। এদিকে উগ্র সাম্প্রদায়িক ধর্মবিদ্বেষীরা এসব বিষয়ে বিশেষভাবে মুসলিম নারীদের টার্গেট বানিয়ে তাদের কপটতা ছড়িয়ে যাচ্ছে।
যেখানে ভারতীয় নারীরা নানান সমস্যায় জর্জরিত, সেখানেও স্বাভাবিকভাবেই মুসলিম নারীরাও নিরাপদ নয়। কিন্তু এইসব বড়ো বড়ো সমস্যাবলীতে চোখ বন্ধ রেখে তালাকের নব্য আইন প্রয়োগ আমাদের নতুন করে চিন্তা করতে বাধ্য করে যে, শাসকদের ভিন্ন আরেকটি উদ্দেশ্য আছে! মুসলিমদের ধর্মীয় বিষয়ে বিজেপি সরকারের এমন অসম হস্তক্ষেপ এটাই বলে দেয় যে, তারা তাদের হিন্দুয়ানি মতাদর্শের মতো করেই এই বিষয়টি নির্ধারণ করে দিতে চায়। তাই ভারতীয় সংবিধান থেকে এই বিরোধপূর্ণ আইনটি সরিয়ে নেয়ার আহবান জানিয়েছেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
আম্বিডকর ন্যাশনাল কংগ্রেসের রাজ্য নেতা নওয়াব নাজীম আলী খান এ অাইনকে ভারতীয় আইন ও আদালতের সঠিক সিদ্ধান্ত বিরোধী বলে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন,সংবিধানে প্রত্যেক ব্যক্তিকেই স্বস্ব ধর্ম পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। তাই কোনও ধর্মের নিজস্ব রীতি বা আদেশ পালনে আদালতের হস্তক্ষেপ সিদ্ধ নয়। ইসলামের সকল বিধানই নির্ধারিত। এখানে কারো হস্তক্ষেপের অধিকার নেই। আল্লাহর হুকুম এবং আইন আমাদের স্বভাবজই।
তিনি আরো বলেন, ভারত সরকার যদি বাস্তবিকই আমাদের বোনদের ইনসাফ দিতে চাইতো, তাহলে সর্বাগ্রে বৃন্দাবন ও মথুরা থেকে আমাদের হিন্দু বোনদের বেরুনোর অধিকার দেয়া হতো। যারা বিনা অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তাদের জীবন কাটাচ্ছে। স্বামীর মৃত্যুতে তাদের তো কোনও দোষ নেই। এটা স্রষ্টার স্বাভাবিক নিয়ম। তাহলে কেন তাদের জীবনকে এমন ধূসর করে দেয়া হয়। পরে নতুন করে বেঁচে থাকার অধিকার ক্ষুণ্ন করে দেয়া হয়।
যদি প্রকৃতই কোনও সদিচ্ছা থাকে, তাহলে এসব দেবদাসীদের মুক্তি দেয়া হোক। যারা নিজেদের পুরো জীবনটাই মন্দিরকে উৎসর্গ করে দেয়। আর সেখানে তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়। তাতো সবারই জানা! যদি সত্যিই মেয়েদের অধিকার নিয়ে চিন্তা করা হয়, তাহলে প্রথমে এইসব হিন্দু বোনদের বন্দিদশা নিয়ে ভাবুন। যাদের স্বামীরা এক স্ত্রীকে রেখেই আবার দু’তিনটা বিয়ে করে এবং তাদের হকের ব্যাপারে সম্পূর্ণ বেখেয়াল। তাদের তুচ্ছজ্ঞান করে।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
তথ্যসূত্র : ডেইলি হামারা সামাজ,উর্দু
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


