৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

তিন মাস নিষেধাজ্ঞার পর খুললো সুন্দরবনের দ্বার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সুন্দরবনে শুরু হলো পর্যটন ও বনজীবী মৎস্যজীবীদের পদচারণা। বনের নদ-নদীতে মাছের প্রজনন মৌসুমের কারণে তিন মাস (১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট) পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়ে শুরু হলো পর্যটনের নতুন মৌসুম। দীর্ঘ বন্ধের পর পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলো সুন্দরবন।

প্রথম দিন খুলনা থেকে দুটি জাহাজ ১১৫ জন পর্যটককে নিয়ে সুন্দরবনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আর শুক্রবার ২৫০ জনকে নিয়ে যাবে ছয়টি জাহাজ।

পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা থেকে সড়কপথে বাগেরহাট তথা সুন্দরবনের পূর্বাংশের দূরত্ব কমে এসেছে। মাত্র ৩ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে বাগেরহাটে যাওয়া যাচ্ছে। ফলে এবারের পর্যটন মৌসুমে যোগ হবে বাড়তি মাত্রা।

বন বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে পর্যটকরা সুন্দরবনের করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, টাইগার পয়েন্ট, কচিখালী, হিরণ পয়েন্ট, বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড, দুবলা ও নীলকমলসহ সমুদ্র তীর ও বনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ট্যুরিস্ট লঞ্চ, ট্যুবোট, ট্রলারে চেপে এই বনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন।

এ পর্যটন মৌসুম চলবে আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দে জানান, সুন্দরবন জল-স্থলভাগ শুধু জীববৈচিত্র্যেই নয়, মৎস্য সম্পদের আধার। সেই কারণে সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানিংয়ের (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী- ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দুই মাস বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ আহরণ বন্ধ থাকে। এ বছর থেকে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রথমবারের মতো এক মাস বাড়িয়ে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সময় বৃদ্ধি করে বন মন্ত্রণালয়। এই তিন মাস সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ ধরা বন্ধের পাশাপাশি পর্যটক প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বন্ধ করা হয় সুন্দরবনে প্রবেশের সব ধরনের পাস-পারমিট ও নৌ-চলাচল। ফলে তিন মাস গোটা সুন্দরবন ছিল জেলে ও পর্যটকশূন্য।

তিনি আরও জানান, ৩ মাস অতিক্রান্ত হওয়ায় আজ ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারছেন দেশ-বিদেশের পর্যটকরা। একই সাথে সুন্দরবনের বনজ সম্পদ আহরণের জন্য পাস পারমিট নিয়ে বনে প্রবেশ করতে পারছেন বনজীবীরাও।

তিন মাসের এই নিষেধাজ্ঞা বনের ২১০ প্রজাতির মাছের পাশাপাশি ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রানীর প্রজনন ও বংশবিস্তারে সুফল বয়ে আনবে বলে ধারণা বন বিভাগসহ বিশেষজ্ঞদের।

সুন্দরবন ট্যুর অপারেটর (টোয়াস) এর যুগ্ম সাধারণ মানুষের মাজহারুল হক কচি জানান, সুন্দরবনের দ্বার খুলে যাওয়ার প্রথম প্রহরেই রাত ১২টায় খুলনা থেকে “দ্যা ওয়েব” জাহাজ ৭৫ জন নিয়ে সুন্দরবনে যাত্রা শুরু করেছে। এ জাহাজটি ঢাকা থেকে এসেছে। আর সকালে “অবসর” নামে একটি জাহাজ ৪০ জন অভিনয়শিল্পী নিয়ে সুন্দরবন যাত্রা শুরু করবে। এছাড়া শুক্রবার খুলনা থেকে আরও ৬টি জাহাজে ২৫০ জন দেশি বিদেশি পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণে যাবেন।

এদিকে, সুন্দরবনে পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় নির্ভরশীল জেলে, ট্যুর অপারেটর, লঞ্চ ও বোট চালকরা প্রস্ততি নিচ্ছেন। ট্যুর অপারেটররা তাদের নৌযানগুলোকে মেরামত করে নতুন করে সাজিয়েছেন।

সুন্দরবনের ট্যুর অপারেটর এইচ এম দুলাল জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর এতদিন সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় সড়ক পথে পদ্মা সেতু পার হয়ে সহজেই অসংখ্য পর্যটক প্রতিদিন ভিড় করবেন বাগেরহাটের পূর্ব বিভাগের সুন্দরবনে। পদ্মা সেতু চালুর পর এবার সুন্দরবনে পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের ভিড় কয়েক গুণ বাড়বে।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, “গত তিন মাস সুন্দরবনের পর্যটক আসা বন্ধ থাকায় এখন বন্যপ্রানীগুলো বিকল হলেই পর্যটনকেন্দ্রের সামনে চলে আসছে। কারণ মানুষের আনাগোনা কম, তাই নদীর পাশে বা সামনে আসতে ভয় পেতো না। তিন মাস পর্যটক আসা বন্ধ থাকায় সরকারের কিছুটা রাজস্ব কম হয়েছে, তবে তার চেয়ে বেশি উপকার হয়েছে বনের বনজ সম্পদ, বন্যপ্রাণীসহ মৎস্য সম্পদের।”

শরণখালা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে জেলে ও পর্যটকদের জন্য পারমিট দেওয়া শুরু হবে। এজন্য নির্ধারিত স্টেশনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

সুত্র : ঢাকা ট্রিবিউন

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com