তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক বিএনপির নীতি নির্ধারকদের

তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক বিএনপির নীতি নির্ধারকদের

পাথেয় রিপোর্ট : দলের তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিএনপির নীতি নির্ধারকরা। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় আন্দোলন ছাড়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন দলটির নীতি নির্ধারকরা। তাই আন্দোলনের বিষয়ে দলের করণীয় ঠিক করতে তৃণমূল নেতাদের মতামত নিতে বৈঠক ডেকেছে বিএনপি।

দলের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার নেতাদের নিয়ে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী বৈঠক করবে দলটি। বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খমরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদসহ প্রমুখ উপস্থিত আছেন।
মতবিনিয়র সভায় প্রথম বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান।

অন্যদিকে, তৃণমূল নেতাদের মধ্যে জেলা ও মহানগর কমিটির সুপার ফাইভ-সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক উপস্থিত আছেন।

জানা গেছে, দুই দিনে মোট ৪ টি সেশনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মধ্যে শুক্রবার ৪টি বিভাগের নেতাদের বৈঠক হবে। সকাল ৯টা থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ এবং বিকেল ৩টা থেকে হবে বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের নেতাদের বৈঠক।

এছাড়া বাকি ৬টি সাংগঠনিক বিভাগের নেতাদের বৈঠক হবে আগামী শনিবার। ওইদিন সকাল ৯টা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লা এবং বিকেল ৩টা থেকে হবে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগের নেতাদের বৈঠক।

সূত্রে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার দাবিতে ঈদুল আজহার পরে কঠোর আন্দোলনে যেতে চায় বিএনপি। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দলটির নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে শুধু আইনি প্রক্রিয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়টি অনিশ্চিত। আর কঠোর আন্দোলন ছাড়া নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ও সম্ভব নয়।

এছাড়া দলের চেয়ারপারসনকে মুক্ত করে তাকে সঙ্গে নিয়েই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনে যেতে চায় বিএনপি। এমন প্রেক্ষাপটে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শে তৃণমূল নেতাদের সাথে বৈঠকে বসছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। দলের করণীয় ঠিক করতে চূড়ান্ত মতামত নেওয়া হবে তাদের। কারণ তৃণমূল নেতাদের মতামতের বাইরে এবার কোনো কর্মসূচি দিতে চায় না দলটি। এ লক্ষে ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার নেতাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছে।

তৃণমূলের পরিস্থিতি জানতে গত এক বছরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মোট চারবার তৃণমূল সফর করেন। সফরে তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি, প্রার্থী সম্পর্কে ধারণা, আন্দোলন ও দল পুনর্গঠনসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। তবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তৃণমূল নেতাদের নিয়ে ঢাকায় এই প্রথম বৈঠক করছেন নীতি-নির্ধারকরা।

তবে কারাগারে যাওয়ার আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় দলের নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। রাজধানীর খিলক্ষেতে লা মেরিডিয়ান হোটেলে অনুষ্ঠিত ওই সভায় দলীয় চেয়ারপারসনের সাজা হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার প্রস্তাব করেন। তবে কৌশলের অংশ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে তার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি। কিন্তু বেগম জিয়ার মুক্তি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় দলটির নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে শুধু আইনি প্রক্রিয়ায় চেয়ারপারসনের মুক্তি সম্ভব নয়। এজন্য কঠোর আন্দোলনে যেতে হবে।

বৈঠকে বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে তৃণমূল নেতারা খোলামেলা আলোচনা করবেন। এছাড়া সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকের সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মঈনুল হাসান সাদিক বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও সংগঠন সম্পর্কে দলের হাইকমান্ড তাদের কাছে বিশ্লেষণ ও মতামত নিতে পারেন। এরপর তৃণমূল নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কেন্দ্র থেকে পরবর্তী কর্মসূচি এবং করণীয় নির্ধারণ করতে পারে।

সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে হাইকমান্ডের দেয়া নির্দেশনা-ম্যাসেজ নিয়ে উপজেলা-ইউনিয়নের নেতাদের সাথে মতবিনিময় করতে দলের জেলা-মহানগরকে নির্দেশ দেয়া হতে পারে। অথবা কেন্দ্রের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাসেজ থাকলে সেটা উপজেলা-ইউনিয়ন নেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে বৈঠক থেকে জেলা-মহানগর নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *