২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ইং , ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১২ই রজব, ১৪৪২ হিজরী

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের রুগ্ণ কারখানার গল্প

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের রুগ্ণ কারখানার গল্প

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেড় থেকে আড়াই দশক আগে ব্যবসা থেকে ছিটকে গেলেও ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি ১৩৩ তৈরি পোশাক কারখানার মালিকে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ঋণ ও সুদ মওকুফ করতে নানামুখী চেষ্টা-তদবির করছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তবে সরকার এখনই রুগ্ণ কারখানার মালিকদের ঋণ অবসায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

জানা যায়, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের প্রথম দিকে প্রতিষ্ঠিত ২৭৯ কারখানা বিভিন্ন কারণে রুগ্ণ হয়ে পড়ে। ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে কারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়। তখন কারখানাগুলোর কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ পাওনা ছিল। তবে গত দেড় দশকে হাতে গোনা কয়েকজন উদ্যোক্তা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেছেন। কয়েকজন উদ্যোক্তার জীবনাবসান ঘটেছে। অনেকে ঋণ পরিশোধ না করেই পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। ফলে রুগ্ণ কারখানার সংখ্যা কমে হয়েছে ১৩৩।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বিদায়ী ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৩৩টির মধ্যে ১৩১টি কারখানার কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা ছিল ৬৮৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূল ঋণ ৫৫২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ও সুদ ১৪৭ কোটি ৫ লাখ টাকা। মামলার খরচ ৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। গত ১০ মাসে সুদ আরও বেড়েছে।

এক দশকের বেশি সময় ধরে বিজিএমইএ রুগ্ণ কারখানার ঋণ মওকুফের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে সরকার রুগ্ণ কারখানার জন্য ১ শতাংশ এককালীন অর্থ পরিশোধ করে ঋণ হালনাগাদ করার সুযোগ দেয়। এতে দু-একটি কারখানা ছাড়া অন্যরা সেই সুবিধা নিতে পারেনি বা নেয়নি। তারপরও দীর্ঘদিন ধরে বিজিএমইএর নেতারা দেনদরবার করছেন।

১৯৯৫ সালে মিরপুরের মাজার রোডে পোশাক কারখানা করেন হানিফুর রহমান। তাঁর কারখানায় কাজ করতেন ১৫০ জন শ্রমিক। বছরে ১০ লাখ ডলারের বেশি পোশাক রপ্তানি হতো। ২০০৪ সালে লোকসানে পড়ে বন্ধ হয়ে যায় তাঁর কারখানা সাউদার্ন ক্রস ইন্টারন্যাশনাল। হানিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রথম দিককার ব্যবসায়ী। অনেক কিছুই বুঝতাম না। ক্রেতারা নানাভাবে ঠকিয়েছে। হরতাল-অবরোধেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’

বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে ১৩৩ কারখানার ঋণ, সুদ ও মামলার খরচ সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেন। এতে তিনি বলেন, রুগ্ণ কারখানার মালিকদের সার্বিক অবস্থা খুবই করুণ। তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এই মালিকদের মধ্যে অনেকে মুক্তিযোদ্ধা, আবার অনেকে মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ অবস্থায় তাঁদের পক্ষে ঋণ পরিশোধ করা অসম্ভব।
বিজিএমইএর সভাপতির চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ওবায়দুল আজমকে আহ্বায়ক করে অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রতিনিধি নিয়ে সাত সদস্যের আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়। আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ১৩৩টি রুগ্ণ কারখানার ঋণ হিসাব পর্যায়ক্রমে অবসায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বিভাগে অনুরোধ জানানো যেতে পারে। একই সঙ্গে কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে সম্পত্তি ক্রোক ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য অর্থ বিভাগকে অনুরোধ করা হবে।

বিজিএমইএর সহসভাপতি আরশাদ জামাল বলেন, পোশাকশিল্পের ৯৮ শতাংশই দেশীয় উদ্যোক্তা। বিদেশিরা খাতটিতে আসতে চায় না। কারণ, ব্যবস্থাপনা খুবই জটিল। তাই নৈতিকভাবেই পোশাকশিল্পের অসফল উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা দরকার। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের জন্য এক্সিট পলিসি করার উদ্যোগ নিয়েছি। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দুটি ওয়ার্কিং কমিটি করা হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Design & Developed BY ThemesBazar.Com