৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৪শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

দরপতন ঠেকিয়ে আস্থা ফেরানোর ব্যবস্থা নিন

পুঁজিবাজার

দরপতন ঠেকিয়ে আস্থা ফেরানোর ব্যবস্থা নিন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: দেশের পুঁজিবাজারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়া কাম্য নয়। লকডাউন পরবর্তী স্টক মার্কেট নতুন করে উজ্জীবিত হচ্ছিল। আবার এসে ঘটলো দরপতনের ঘটনা। যেকোনোভাবে দরপতন ঠেকাতে হবে। অন্যথায় দেশের অর্থনীতি বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারবে না বলেই আমরা মনে করি। দেশের পুঁজিবাজার সম্প্রতি বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ছন্দঃপতন ঘটে গত রবিবার। সপ্তাহের প্রথম দিনেই বড় ধরনের দরপতন ঘটে দেশের দুই পুঁজিবাজারে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক ডিএসইএক্স ১৪৩ পয়েন্ট বা আড়াই শতাংশ পড়ে গিয়ে পাঁচ হাজার ৫০৪ পয়েন্টে নেমে আসে। ৪১৪ পয়েন্ট বা ২.৫৩ শতাংশ কমে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সিএএসপিআই নামে ১৫ হাজার ৯১৬ পয়েন্টে। এদিন ঢাকার বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৫৩টি কম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মধ্যে বেশির ভাগেরই দাম কমে যায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২২৪টি কম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মধ্যে ১৫০টির দাম কমে। পতনের ধারায় থাকা পুঁজিবাজারে দুই সপ্তাহে ডিএসইএক্স মোট ১৮৮ পয়েন্ট হারিয়েছে। পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের ঘটনাকে অস্বাভাবিক বলছেন পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, এমন দরপতনের কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। তবে ব্যাংক খাতের অস্থিরতার প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়তে পারে বলেও মনে করেন তাঁরা।

পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন থাকবে, এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। অনেক নতুন শেয়ার পুঁজিবাজারে এলে অনেকেই না বুঝে সেগুলো চড়া দামে কিনে থাকে। পরে তারা বুঝতে পেরে লোকসানে বিক্রি করে। এতে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। দরপতন ঘটে। বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপেই যদি বাজারে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন এই চাপটা তৈরি হলো কেন? অনেক সময় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং আস্থাহীনতাও বাজার আরো পড়ে যায়।

যখন তালিকাভুক্ত কম্পানির শেয়ারের দাম আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়, তখন বাজারে অস্থিরতার সৃষ্টি হতে পারে। তবে বিনিয়োগকারীর অনাস্থা আর অস্থিরতার সংকটে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলে বাজারে আস্থা ফেরে। বাজার বিশেষজ্ঞদের অভিমত, মূলত আস্থার সংকটই সব সময় বাজারকে অস্থির করে রাখে। ১৯৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারির পর অনেক আইন-কানুন করা হয়, গঠন করা হয় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। ২০১০ সালে আবার কেলেঙ্কারি ঘটে শেয়ারবাজারে। এসইসির নাকের ডগায় বসেই কারসাজিকারীরা সর্বস্বান্ত করে দেয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। ২০১০ সালের সেই ঘটনার পর আবার পুনর্গঠন করা হয় এসইসিকে। কিন্তু আস্থার সংকট কাটেনি। যার ফল আমরা দেখতে পাচ্ছি, স্থায়ী প্রবণতা হচ্ছে বাজারের অব্যাহত পতন। বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট কেন, সেটা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে পারলেই পুঁজিবাজারের মন্দা কাটতে পারে।

পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে বড় দরপতনের কারণ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এরই মধ্যে ছয়টি কম্পানির শেয়ার রবিবারের এই দরপতনে প্রভাব রেখেছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো লেনদেন হয়েছে ১১টি ব্রোকারেজ হাউসে। আমরা আশা করি, বিএসইসির নেওয়া ব্যবস্থা পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাবে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com