দিক হারা উম্মতের একজন হযরতজি দরকার

দিক হারা উম্মতের একজন হযরতজি দরকার

দিক হারা উম্মতের একজন হযরতজি দরকার

মুহাম্মাদ আইয়ুব :: মুসলিম সমাজে বাসকারী আমি একজন মুসলমান। এই সমাজে বসবাস করে এখন আমি অনেক কিছুর হিসাব ঠিকঠাক মিলাতে পারছি না যে,আমরা কি আসলেই মুসলমান?! দুয়েকটি ঘটনা দিয়ে বিষয়টি একটু সহজ করে দিই।

এক.
সপ্তাহ দুয়েক আগের কথা, আমাদের পাশের বাড়িতে বিয়ে। কনে আমার মাদ্রাসার ছাত্রী। তাই স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিয়েছি এই বাড়িতে গান বাজনা হবে না। ও মা! রাতের আঁধারে আমাদের সুধারণা বন্যার পানিতে চুবিয়ে ধুপধাপ, ধিমধিম আওয়াজে গান বেজে উঠল! কনের অভিভাবককে দিলাম ফোন। কি আপা! পাশে একটা মাদ্রাসা, বন্যার পানি থৈথৈ করছে চারিদিক, করোনার প্রকোপ যা তাই, মেয়েটা আবার আমাদের মাদ্রাসার ছাত্রী! ব্যাপার কি?

মেয়ের মা উত্তর দিল, সামাজিকতা রক্ষা করতে গেলে তো একটু আধটু গান বাজনা করতেই হয় হুজুর! আবার তিন’শ মানুষ দাওয়াত দিয়েছি গান বাজনা না করলে অনেকে আসবেই না।

তার উত্তর শুনে আমি আকাশ থেকে পড়লাম! আপা! আল্লাহর ভয় অন্তরে নাই, যদি করোনা হয়ে যায়? মহিলার ঝটপট উত্তর, করোনা হইলে হোক, কিছু করার নেই।

দুই.
মাগরিবের পর থেকেই কাছের কোন এক বাড়ি থেকে উচ্চ শব্দে গান বাজনা হচ্ছে। আমার এক ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলাম কিরে গান বাজনা কোথায় হচ্ছে? হুজুর আজ তামিমের ফুফাতো ভাইয়ের মুসলমানি হয়েছে সেই উপলক্ষে গান। কোন সমাজে বাস করিরে ভাই! একটা সুন্নত পালন হচ্ছে গান বাজনা দিয়ে আহ!

এশার ফরজ আর সুন্নত ভালভাবে পড়তে পারলেও গানের আওয়াজে বেতর আর ফাযায়েলে আমালের তালিম ঠিকমত করতে পারলাম না। সামান্য তালিম করেই মুসল্লিদের বললাম, চলুন, নাহি আনিল মুনকারের (অসৎ কাজ করতে নিষেধ করা) উপর একটু আমল করে আসি।

আজকাল আল্লাহ পাকের এই নির্দেশ তো উঠেই যাচ্ছে একদম। সেক্রেটারি, ক্যাশিয়ারসহ আরো সাত আটজন মুসল্লিকে নিয়ে বন্যার পানি ঝাপিয়ে মুসলমানি বাড়ি যেয়ে উঠলাম। ভাই পাশে একটি মসজিদ আপনারা জানেন, নিজরা নামাজ পড়লেন না আর আমাদেরকেও ঠিকমত পড়তে দিলেননা কাজটা কেমন হল?

আর আজ আপনার ছেলের মুসলমানি, একটা সুন্নত পালন করলেন তাও আবার গান বাজনা দিয়ে এ কেমন মুসলমান?!

সেক্রেটারি সাহেব কথাগুলো শেষ করতে না করতেই ছেলের মা লাফ দিয়ে উঠল! কত মানুষই তো গান বাজনা করে আমরা করলে দোষ কি?

আমার ছেলেটাকে আল্লাহ মরা থেকে বাঁচাইছে (টাইফয়েড জ্বরে মরার দশা হয়েছিল, খুলনা মেডিকেল এক মাস ভর্তি ছিল, নল দিয়ে জুস, দুধ ইত্যাদি খাওয়ানো লাগত) এখন এই ছেলের সব আব্দার পূরণ করা আমাদের কর্তব্য, সুতরাং আমার ছেলে চেয়েছে একটু গান বাজনা করতে এটা আমাকে করতেই হবে।

প্রিয় পাঠক! অহরহ এমন ঈমান বিধ্বংসী নির্বাক করা ঘটনা দেখতে দেখতে আমি হতাশ তবে এখনো নিরাশ হইনি। আমি এখনো একজন দায়ীর অপেক্ষায় দিন গুজরান করছি। মহানবী সা.-এর দরদ নিয়ে শত বছর আগে যেমন একজন উম্মত পাগল হযরতজি মাওলানা ইলিয়াস রহ.-এর আগমন ঘটেছিল আজ শত বছর পরে তাঁর মত একজন উন্মত দরদী মানুষ দরকার!

মহানবীর সা. প্রিয় উম্মতের দশা আজ বড় করুণ। এরা আজ দিকহারা, পথহারা, লাগামছাড়া। যারা এই উম্মতের দায়িত্ব নিবেন, এই জাতীর পাশে দাঁড়ান স্বয়ং তাঁদের অধিকাংশরাই নিজেকে গড়ার কাজে ব্যস্ত! উদ্যোক্তা হয়ে টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত, যশ খ্যাতির পিছনে ছুটছেন তো ছুটছেন! এপথে নিরন্তর প্রচেষ্টায় নিজেকে ব্যাপ্ত করে রেখেছেন, নিজেকেই নিজে সময় দিতে পারছেন না আবার উম্মত?! তাই প্রায় সময় মনে মনে একজন কান্ধালার হযরতজির অপেক্ষায় থাকি যিনি উম্মতের চিন্তায়, তাদের দুনিয়া আখেরাত গড়ায় সদা বিভোর থাকতেন। তাদের নিয়ে চিন্তা করতে করতে বেহুশ হয়ে পড়তেন, নাওয়া খাওয়া ভুলে গিয়ে নবীজীর উম্মত, নবীজীর উম্মত ভাবনায় নিজেকে কঙ্কালসার করে ফেলেছিলেন!

মোটা অঙ্কের হাদিয়া, এসি, হাই কমোড, আলিশান গাড়ি, বিছানার কথা চিন্তা না করে দিনের পর দিন গ্রামে গ্রামে থেকেছেন, উম্মতকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। তাই বড় আগ্রহ নিয়ে একজন হযরতজির অপেক্ষায় আছি। কারণ আমার যে হযরতজি হওয়ার পাথেয় নেই!

লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *