দিনাজপুরে জোড়া খুন : নজরদারিতে খাদেম ও মুরিদ

দিনাজপুরে জোড়া খুন : নজরদারিতে খাদেম ও মুরিদ

দিনাজপুর প্রতিনিধি ● দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে কথিত পীর ও তার গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় দুজনকে নজরদারিতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত হত্যার কারণ বা কোনো সূত্র উদ্ধার করা যায়নি বলে বোচাগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুল হক প্রধান জানিয়েছেন। এ ঘটনার তদন্ত তত্ত্বাবধানে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহাফুজ জামান আশরাফকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।

গত সোমবার রাতে উপজেলার দৌলাগ্রামে কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী (৭২) এবং তার গৃহকর্মী রুপালি বেগমকে (২২) ঘরে ঢুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। জনি নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ফরহাদ হোসেন একসময় দিনাজপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া দিনাজপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতিও ছিলেন। পরে তিনি কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরীফ গড়ে তোলেন এবং মুরিদরা তাকে বাবা বলে ডাকতে শুরু করেন। কথিত ওই দরবার শরীফে প্রতি রাতে ভক্তদের মাহফিল ও জিকির হত। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা সিরাজুল ইসলাম নামের এক মুরিদের সঙ্গে তিন দিন আগে পীরের বাড়ির পরিচারিকা রূপালি বেগমের বিয়ে হয়।

দরবার শরীফের খাদেম সায়েদুল সোমবার রাতে বলেছিলেন, তিনি এবং সুমি নামে ৫২ বছর বয়সী এক মুরিদ প্রতিদিনের মত জিকিরে অংশ নিতে এসে দীর্ঘক্ষণ হুজুরকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে ডাকতে গিয়ে রক্তমাখা লাশ পান। পরে পাশের রান্নাঘরে পাওয়া যায় রুপালির লাশ। তাদের দুজনের শরীরের গুলির চিহ্নের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের ক্ষত ছিল বলে রাতে জানিয়েছিল পুলিশ। বোচাগঞ্জের ওসি হাবিবুল হক প্রধান মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, তারা খাদেম সায়েদুল এবং মুরিদ সুমিকে নজরদারিতে রেখেছেন। তাদের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করছি কোনো সূত্র খুঁজে পাওয়া যাবে। সোমবার রাতে লাশ উদ্ধারের পর দরবার শরীফে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা মঙ্গলবার ঘটনাস্থল ঘুরে আলামত সংগ্রহ করেছেন। দুপুর পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি জানিয়ে ওসি বলেন, সোমবার রাতেই দুজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফনের পর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করা হবে। এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ফরহাদ হোসেনের মুরিদ ও ভক্তরা দরবার শরীফে ভিড় করে কান্নাকাটি করছেন। খুনিদের দ্রুত খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন তারা। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম সোমবার রাতে বলেছিলেন, এর পেছনে জঙ্গিদের হাত আছে কি না- তাও তারা তদন্ত করে দেখবেন। তবে মুরিদদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।

patheo24/mr

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *