বন্যার ছোবল
দীর্ঘ মেয়াদে বানভাসিদের পাশে দাঁড়াতে হবে
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বন্যার ছোবল যেনো দীর্ঘ মেয়াদি এক অবস্থায় রূপ নিয়েছে। বাঁচার জন্য, একটু ঠাঁই পেতে মানুষের হাহাকার প্রতিনিয়ত বাড়ছেই। খবরের কাগজগুলোতে বন্যার অবনতির কথাই ওঠে আসছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ মানুষেরা। শিশুকে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি আগলে রাখতে হবে। এর বিকল্প নেই। দেশব্যাপী প্রাণঘাতী করোনার মধ্যেই প্রথমে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আঘাত হানে। আম্ফানের রেশ না কাটতেই এলো বন্যা। এবারের বন্যায় দেশের বহু এলাকা প্লাবিত।
উত্তরাঞ্চল দিয়ে শুরু হওয়া বন্যা দেশের মধ্যবর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত করে। মধ্যাঞ্চলের ১৭ জেলায় বন্যার অবনতি হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, এবার ৪২ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোয় স্থান পেয়েছে মাত্র ৮০ হাজার মানুষ। মাসব্যাপী টানা বন্যার পর কিছু নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও এক দিনের ব্যবধানে নতুন করে দুটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া ১০১টি পর্যবেক্ষণাধীন পানিসমতল স্টেশনের ৩৭টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গাইবান্ধাসহ কয়েকটি জেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এর আগে থেকে বন্যাকবলিত এলাকাগুলো এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পশুখাদ্যের অভাবে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে ছোট-বড় খামারিরা।
রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় বিক্রির জন্য এসব পশু কোরবানির হাটেও নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। ক্রেতাও আসতে পারছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ঢাকা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অপরিবর্তিত থাকতে পারে। লাখ লাখ মানুষ বন্যা আক্রান্ত হলেও তারা পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী পাচ্ছে না।
এ সময় সবচেয়ে প্রয়োজন শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য, স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ। বাড়ি ডুবে যাওয়ার পর পানিবন্দী বহু মানুষ মানবেতর-জীবন যাপন করছে। তাদের মাঝে ত্রাণ বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আমরা মনে করি, Í। ত্রাণ বণ্টনে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় আশ্রয় কেন্দ্র বাড়াতে হবে। প্রবীণ ও শিশুদের প্রতি তাকান। তাদের বাড়তি যতœ নিতে হবে। কারণ, বন্যায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধরাই সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত।


