দেওবন্দের সমৃদ্ধ লাইব্রেরী দেখে নিজেদের ভাগ্যবান বললো বিদ্যুৎ বোর্ড প্রতিনিধিদল

দেওবন্দের সমৃদ্ধ লাইব্রেরী দেখে নিজেদের ভাগ্যবান বললো বিদ্যুৎ বোর্ড প্রতিনিধিদল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেওবন্দ : সম্প্রতি উত্তর প্রদেশ বিদুৎ অফিস বোর্ডের ৬ জনের একটি প্রতিনিধি দল দারুল উলুম দেওবন্দ পরিদর্শনে এসেছেন। প্রতিনিধি দল দেওবন্দে এসে মাদরাসার মোহতামিম মুফতী আবুল কাসেম নোমানীর সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎ করেন এবং দারুল উলূমের শিক্ষা ও সার্বিক বিষয়ের খোঁজ খবর নেন। মাদরাসার বিভিন্ন প্রাচীন ভবন ও স্থাপনা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন।

১৮ নভেম্বর ২০১৮ রোববার উত্তর প্রদেশ বিদ্যুৎ অফিস বোর্ডের একটি প্রতিনিধি দল দারুল উলুমে আসেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন, অতিরিক্ত চীফ অফিসার ইএন রবীন্দ্র গুপ্তা, একে ভার্মা, শুশিল গর্গ, আরশাদ জামাল, আরেফ খান এবং মাওলানা সাজেদ। তারা দারুল উলুম দেওবন্দের অতিথিকক্ষে অবস্থান করেন এবং দারুল উলুমের মোহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম নোমানি ও নায়েবে মোহতামিম মাওলানা আব্দুল খালেক মাদরাজির সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাতে আলোচনা করে মাদরাসার ইতিহাস, অবদান ও এখানকার শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে পরিজ্ঞাত হন।
১৯ নভেম্বর ২০১৮ রোববার ভারতের জার্নালে প্রকাশিত সংবাদে এ তথ্য জানা যায়।

এসময় ইনচার্জ মৌলভী মুকিম এবং মাওলানা আসজাদ তাদের আকাবীরে দেওবন্দ প্রণীত দারুল উলুমের উসুলে হাশতে গানাহ সম্পর্কে অবহিত করেন। তারা জানান, মাদরাসার সার্বিক ব্যয় ও খরচ জনসাধারণের অর্থায়নেই পরিচালিত হয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে কোনপ্রকার অর্থ সাহায্য গ্রহণ করা হয় না।

এসময় দারুল উলুমে অধ্যয়নরত ৫ হাজার শিক্ষার্থীর কথা ও প্রতিনিধি দলের কাছে উল্লেখ করেন তারা। এখানেই এসব ছাত্রদের তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা এবং প্রতি মাসে অনেককে ভাতাও প্রদান করা হয় বলে জানান মাওলানা আসজাদ ও মৌলভী হাকিম।
এসময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দারুল উলুম দেওবন্দের আইনগত বিষয় ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় খুবই আনন্দ প্রকাশ করেন। প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে তারা নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দলের প্রধান অতিরিক্ত চীফ অফিসার রবীন্দ্র গুপ্ত তার সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দারুল উলূম দেওবন্দ ভারতে সব শ্রেণী, ধর্ম ও মাযহাবের লোকদের কাছে প্রসিদ্ধ। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আমারও ইচ্ছা ছিল দারুল উলুম দেওবন্দে অাসার।

তিনি বলেন, এই প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি ভবন, দ্বীনি দরসগাহ, ঐতিহ্যবাহী মসজিদে রশিদ এবং বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য পুস্তকাদির সন্নিবেশে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও উলামা হযরতদের সংস্পর্শে থাকার পর এক অন্যরকম শান্তি অনুভূতির উপলব্ধি করছেন তিনি। আযহারে হিন্দ দারুল উলূম দেওবন্দকে দেখতে পারা নিজের পরম সৌভাগ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
তথ্যসূত্র : ডেইলি হামারা সামাজ, দিল্লী

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *